Monday, January 18, 2016

কক্সবাজারে ঈদগাঁওতে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু ধামাচাপা দিতে নতুন কৌশল

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, কক্সবাজার সদরঃ এক মাসের ব্যবধানে ভুল চিকিৎসায় দুই রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাতারাতি হাসপাতালের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে ঈদগাঁও ডায়াবেটিস কেয়ার সেন্টার এন্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। অনেকে একে বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকার সাধারণ জনগণের সাথে চিকিৎসকরূপী অর্থ পিপাসু এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম প্রতারণা বলে অভিমত প্রকাশ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থান পরিবর্তনের পরও অত্র হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা একের পর এক ভুল চিকিৎসা ও গলাকাটা হারে রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের দুর্ণাম এলাকায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়াতে রোগীদের ভাটার টান পড়ে উক্ত হাসপাতালে। বিশেষ করে বিগত এক মাসে চিকিৎসকদের অবহেল ও ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে দুই মহিলা রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ স্থানীয় গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ পেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা চরম বিপাকে পড়ে। বিগত সপ্তাহে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের গর্জনতলী এলাকার জহির নামের এক ব্যক্তির অন্তঃসত্তা স্ত্রী মর্জিনাকে ঈদগাঁও ডায়াবেটিস কেয়ার সেন্টার এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করলে স্বাভাবিক বাচ্চা প্রসব হবে না মর্মে জানিয়ে ঐ মহিলাকে তড়িঘড়ি করে অস্ত্রোপচারের জন্য সকালে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। অস্ত্রোপচার পূর্ববর্তী রোগীকে যে সমস্ত শারীরিক দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় তার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নিয়ে সার্জন দাবিদার ডাক্তার ইউছুপ আলী ও প্রান্তিকা চক্রবর্তী কোন প্রকার এনেসথেসিওলজিষ্ট ও প্রয়োজনীয় এসিট্যান্ট ছাড়াই অস্ত্রোপচার করার এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সে থেকে রোগীর অভিভাবকদের তা না জানিয়ে দীর্ঘ দুপুর পর্যন্ত নানা বাহানায় সময় ক্ষেপন করে পরে নিজেদের উদ্যোগে জোর পূর্বক চান্দের গাড়ীতে করে লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগ তুলে মৃতের স্বজনরা। এ সংক্রান্ত সংবাদ পরদিন বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ২ জন লোক মৃতের বাড়ীতে গিয়ে অপারেশনের পূর্বে স্বজনদের কাছ থেকে নেয়া অঙ্গীকার নামার দোহাই দিয়ে উল্টো এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ঐ অঙ্গীকার নামার অনুবলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয় বলে সূত্রে জানা যায়। স্বজন হারানো পরিবারটি শোক না কাটতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হুমকি এবং সুবিচার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এর এক মাস পূর্বে ইসলামপুর জুম নগরের এক মহিলা এজমা রোগী ভূল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করে। এ ঘটনায় মহিলার এক ছেলে ঈদগাঁও পুলিশের নিকট অভিযোগও দায়ের করে ছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপ মোটা অংকের টাকায় মৃতের অপর এক ছেলেকে ম্যানেজ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়। এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে অব্যাহত সংবাদ প্রকাশিত হতে থাকলে তাতে রোগীর ভাটার টানের পাশাপাশি চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লোকজনের মাঝে ক্ষোভ জমতে শুরু করে। এসব থেকে বাঁচতে এবং ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ও দুর্ণাম ধামাচাপা দিতে রাতারাতি ঈদগাঁও ডায়াবেটিস কেয়ার এন্ড হাসপাতাল নামের সাইন বোর্ডের পাশাপাশি বিগত ২ দিন পূর্বে রাতের আধারে ঈদগাঁও মডেল হাসপাতাল নামের নতুন আরেকটি সাইনবোর্ড জুড়িয়ে দিয়ে চূড়ান্ত প্রতারণার আশ্রয় নেয় বলে বাজারের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের অভিযোগ। অনুমোদনহীন এ প্রতিষ্ঠান চিকিৎসা সেবার নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থ পিপাসু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সেবা ফেরিকারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সচেতন জনসাধারণ। এতসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখনো এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কিনিকের পরিচালক ডাঃ ইউছুপ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে কিনিকের নাম পাল্টিয়েছেন বলে জানান।

No comments:

Post a Comment