Wednesday, January 6, 2016

পাঠানকোট হামলা তদন্তে ভারতকে সহযোগিতা করবে পাকিস্তান

নরেন্দ্র মোদি ও নওয়াজ শরিফ
পাঠানকোট হামলার তদন্তে ভারতকে পাকিস্তান পূর্ণ সহযোগিতা করবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ আজ মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে এই আশ্বাস দেন। মোদিকে শরিফ বলেন, তদন্তে যদি পাকিস্তানের যোগসাজশের কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তা হলে তাঁর সরকার সত্য উদঘাটনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। তিনি এ কথাও বলেন, কীভাবে কারা এই মারাত্মক হামলার ছক কষে তা কার্যকর করল, সেই তদন্তেও তাঁর সরকার সাহায্য করবে।
শরিফ গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় সফরে শ্রীলঙ্কা গেছেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসির খান জানজুয়াও। কলম্বো থেকে মোদিকে আজ বিকেলে ফোন করেন শরিফ। মোদি তাঁকে বলেন, পাঠানকোটে যারা হামলা করেছে তারা পাকিস্তানের নাগরিক, এ বিষয়ে অকাট্য প্রমাণ ভারতের হাতে রয়েছে এবং সেই তথ্যপ্রমাণ সোমবারই পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে। ভারত চায় পাকিস্তান অতি দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।
শরিফের ফোনের আগে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সরকারি সূত্রের খবর, জঙ্গিরা যে পাকিস্তানের লোক এবং বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর আগে তারা যে পাকিস্তানে কারও কারও সঙ্গে নিয়মিত ফোনে কথা বলেছে, সেই কথা জানজুয়াকে দোভাল আজ জানান। দুই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার আলাপের কিছুক্ষণ পরই মোদিকে ফোন করেন শরিফ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পাকিস্তানে যোগাযোগের তথ্যপ্রমাণ পেলে তাঁরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। তদন্তে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শরিফ বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের লড়াইয়ের পাশে পাকিস্তানও রয়েছে। পাকিস্তানও সন্ত্রাসের শিকার।
অতীতে কোনো জঙ্গি হামলার পরপরই পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রী তদন্তের ভারতকে সাহায্যের ক্ষেত্রে এভাবে আশ্বস্ত করেননি। আবার এ কথাও ঠিক, মুম্বাইয়ে ২৬/১১ হামলার অকাট্য প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত পাকিস্তান অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সোমবারই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতিতে পাঠানকোট হামলার নিন্দা করা হয়েছিল। তারপর আজ মঙ্গলবার শরিফের ফোনের ফলে এখন মনে করা হচ্ছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনা স্থগিত রাখার জন্য মোদির ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, তা কিছুটা লাঘব হবে।
জঙ্গিদের কিছু জিনিস পাকিস্তানের তৈরি
পাঠানকোটে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান সোমবারই শেষ হয়েছিল। পাঁচ জঙ্গির মৃতদেহ পাওয়া গেছে, একজনের পুড়ে যাওয়া শরীরও উদ্ধার হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেটি ষষ্ঠ জঙ্গির। তবে ডিএনএ পরীক্ষার পরই তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে বলে আজ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর জানান। পারিকর আজ পাঠানকোটে পৌঁছান। সঙ্গে যান সেনাপ্রধান দলবীর সিং ও বিমানবাহিনীর প্রধান অরূপ রাহা। বিমানঘাঁটি ঘুরে পারিকর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নিরাপত্তায় কিছু ফাঁকফোকর তাঁর নজরে এসেছে ঠিকই কিন্তু নিরাপত্তা-ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল না। তা সত্ত্বেও কী করে এই হামলা সম্ভব হলো, তা এনআইএ খতিয়ে দেখছে। তদন্তের পরই সব জানা যাবে। প্রধান গাফিলতি হলো, ৩১ ডিসেম্বর রাতে পাঞ্জাব পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট সালবিন্দর সিংয়ের গাড়ি ছিনতাই করার খবর দেওয়া সত্ত্বেও পাঞ্জাব পুলিশ তা ডাকাতির ঘটনা ধরে নিয়েছিল। অথচ, অপহরণকারীদের পরনে ছিল সামরিক পোশাক। পারিকর বলেন, প্রায় ৫০ কিলোগ্রাম গুলি ও গ্রেনেড নিয়ে তারা কী করে ঢুকল, সেটাও বিস্ময়ের। তাদের ব্যবহৃত কিছু জিনিস পাকিস্তানে তৈরি। মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধে নিহত হলে যে মর্যাদা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, এই ক্ষেত্রে নিহত ও আহত প্রত্যেককে সেই মর্যাদা দেওয়া হবে। তা ছাড়া রাজ্য সরকারও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে অর্থ সাহায্য ও চাকরির ব্যবস্থা করছে। পারিকর আরও জানান, দেশের সব প্রতিরক্ষা ঘাঁটির নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নতুনভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সালবিন্দর সিংকে অবশ্য সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখা হয়নি। পুলিশ অফিসার জানা সত্ত্বেও কেন তাঁকে মেরে ফেলা হয়নি, সেটাই তদন্তকারী অফিসারদের ভাবাচ্ছে। জঙ্গিদের সংখ্যা নিয়েও তিনি একেকবার একেক রকম কথা বলেছেন। তাঁকে বার কয়েক জেরা করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ছিনতাইয়ের সময় জঙ্গিরা হিন্দি, পাঞ্জাবি ও উর্দু ভাষায় কথা বলছিল। তাদের হাতে একে-৪৭ ছিল। তবে অন্ধকার থাকায় তারা ঠিক কতজন ছিল, বুঝতে পারেননি। সালবিন্দর বলেন, তিনি অপরাধী নন। তিনি কিছু লুকোননি। তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাসী। পাঞ্জাব পুলিশের অন্য এক অফিসার বলেছেন, সালবিন্দর সিংয়ের অতীত প্রশ্নবিদ্ধ বলে তাঁর কথাকে তাঁরা গুরুত্ব দেননি।

No comments:

Post a Comment