শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, কক্সবাজার সদরঃ
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে পাওনা টাকা খুঁজতে এসে মারধর ও ইয়াবা দিয়ে
ফাঁসানোর চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় ফাঁসানোর চেষ্টাকারীকে
স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ৫ জানুয়ারী বিকাল ১টার সময় বর্ণিত ইউনিয়নের দরগাহ পাড়াস্থ
ভাঙ্গা ব্রীজ এলাকার জনৈক নুরুল আলম কোম্পানীর কলোনীতে। সংঘটিত ঘটনায়
একজনকে আটক করতে পারলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ফেনী
জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরকুয়াশ এলাকার মৃত এনামুল হকের পুত্র মোঃ হেলাল
উদ্দীন দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার সুবাদে ঈদগাঁও দরগাহ পাড়ার ছিদ্দিক আহমদ
মিকারের পুত্র ছৈয়দ আলমের সাথে পরিচিত হয়। এক পর্যায়ে তারা প্রবাসে যৌথভাবে
ব্যবসা-বাণিজ্য করতে থাকে। ঐসময় হেলাল উদ্দীন তার নিকটতম এক আত্মীয়কে
বিদেশে নেওয়ার কথা বললে ছৈয়দ আলমের পিতা ছিদ্দিক আহমদ মিকারের সাথে যোগাযোগ
করতে বলে। এক পর্যায়ে ছিদ্দিক আহমদ হেলালের ঐ আত্মীয়কে বিদেশে নেওয়ার
প্রলোভন দিয়ে ৪ লক্ষ টাকা দাবী করে। এতে হেলাল উদ্দীন সম্মতি জ্ঞাপন করে গত
৫ নভেম্বর ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে টি টি মূলে ছিদ্দিক আহমদকে ৪ লক্ষ টাকা
প্রদান করে। টাকা নেওয়ার পর থেকে কোন ধরণের যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারায়
বাধ্য হয়ে হেলাল উদ্দীন ফেনী থেকে ঘটনার দিন তার এলাকায় এসে টাকা ফেরত চায়।
এসময় ছিদ্দিক আহমদ মিকারের নাতী বাবুল মিকারের পুত্র শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী
জসিম উদ্দীনের নেতৃত্বে সশস্ত্র ১০/১৫ জনের দুর্বৃত্ত হেলাল উদ্দীনকে
মারধর পূর্বক একটি কলোনীতে নিয়ে বেঁধে রেখে পকেটে ৩০ পিস ইয়াবা দিয়ে
ফাঁসানোর চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১ লক্ষ টাকা
চাঁদাও দাবী করে এ দুর্বৃত্তদল। বিষয়টি স্থানীয়রা আঁচ করতে পেরে পুলিশকে
খবর দেয় এবং তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ
ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা ঐ ইয়াবার প্রকৃত মালিক জসিম উদ্দীন বলে জানালে
ঘটনাস্থল থেকে তাকে ৩০পিস ইয়াবাসহ আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এ
ব্যাপারে হেলাল উদ্দীন স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান,
পরিচিতির সুবাদে টাকা দিয়ে কোন খোঁজ খবর না পাওয়ায় তার এলাকায় এসে টাকা
ফেরত চাইলে একদল দুর্বৃত্ত উপর্যুপরী হামলা চালায় এ সময় দুর্বৃত্তরা তার
দুটি দাঁত সম্পুর্ণ ভেঙ্গে দেয়। দুর্বৃত্ত ও পাওনাদারের বিরুদ্ধে মামলা
প্রক্রিয়াধীন। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক মিনহাজ মাহমুদ
ভুঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে
সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ
ব্যক্তির পাওনা টাকা আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment