![]() |
| কোনির সংগ্রামে দুই প্রবাসী বাংলাদেশির সংহতি। ফাইল ছবি: প্রথম আলো |
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর রাজপথে টানা ৩৫ বছর ধরে নানা বিষয়ে অহিংস উপায়ে প্রতিবাদ জানানো সংগ্রামী নারী কোনি মারা গেছেন।
গত মঙ্গলবার সতীর্থ আন্দোলনকারীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার কোনির মৃত্যু হয়েছে। বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি।
৮০ বছর বয়সী কোনির পুরো নাম ছিল কনসেপসিয়োন পিসিসয়োত্তো।
জীবনের নানা ঘাট ঘুরে ১৯৮১ সালে তল্পিতল্পা নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসির রাজপথে অবস্থান নেন কোনি।
পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউয়ে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তাঁর নিকটতম প্রতিবেশী কোনির অবস্থান ছিল লাফায়েত স্কয়ারে।
ব্যক্তিগত বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে যৌবনে হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি এসেছিলেন কোনি। এরপর বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার আর ন্যায়বিচারের দাবিতে বিরামহীনভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে গেছেন তিনি। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন প্রতিবেশী প্রেসিডেন্টের ডাক পাবেন। নিদেনপক্ষে প্রেসিডেন্টের হয়ে কেউ এসে তাঁর খোঁজ নেবেন। জানতে চাইবেন তাঁর দাবিদাওয়ার কথা। তবে হোয়াইট হাউসের আতিথেয়তা কোনি পাননি। উল্টো জেলে গেছেন। বার কয়েক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর আস্তানা। তাতেও দমে যাননি কোনি।
প্রেসিডেন্ট রিগানের সময় কোনি ওয়াশিংটনে আসেন। ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি থেকে অদ্যাবধি সব অনাচারের বিরুদ্ধে কোনি প্রতিবাদ করে গেছেন।
প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মনিকা কেলেঙ্কারি থেকে বুশদের যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর ছিলেন কোনি, ছিলেন রাজপথে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধেও কোনি তাঁর প্রচার অব্যাহত রেখেছিলেন।
যুদ্ধের বিরুদ্ধে, পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে, বিশ্বজুড়ে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, শিশু হত্যার প্রতিবাদে কোনি ছিলেন সরব।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনির মতো এমন দীর্ঘ অহিংস আন্দোলনের নজির আর নেই। তিনি অহিংস আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
বিশ্বজুড়ে সামাজিক আন্দোলনের পাঠচক্রে কোনির দৃঢ়তা এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। সমাজবিজ্ঞানীরা সামাজিক আন্দোলন নিয়ে আলোচনার জন্য কোনির প্রসঙ্গ টানছেন।
স্পেনে জন্ম নেওয়া কোনি ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হন। নিউইয়র্কে স্পেন কনস্যুলেট অফিসে কর্মরত অবস্থায় প্রেম করে বিয়ে করেন। দাম্পত্যের মাঝপথে দত্তক নেন এক মেয়েশিশুকে। বছর কয়েকের মাথায় কোনির সংসার ভেঙে যায়। কনস্যুলেট অফিস থেকে চাকরিও হারান তিনি। দত্তক নেওয়া শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে সাবেক স্বামীর সঙ্গে বিরোধে জড়ান। প্রাথমিক লড়াইয়ে হেরে যান কোনি। সন্তানের ওপর কর্তৃত্ব হারান তিনি। তাঁকে অসুস্থ সাজিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কোনি মনে করতেন, মেয়ের ওপর থেকে অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্যই তাঁকে মানসিক রোগী সাজানো হয়েছিল।
পারিবারিক ব্যক্তিগত বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতে কোনি নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে যাত্রা করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের বঞ্চনার ফরিয়াদ জানাবেন বলে পণ করেছিলেন। তখন পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের রাজপথে আন্দোলন করছিলেন উইলিয়াম টমাস। টমাসের সহযোগী হয়ে ব্যক্তিগত বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতে জানাতে একসময় বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন কোনি।
পূর্ব-পশ্চিমের সমস্ত রাজনৈতিক বিরোধ, সামাজিক ও রাজনৈতিক অনাচার সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতেন কোনি। সুযোগ পেলেই মহাত্মা গান্ধীর কথা বলতেন। গান্ধীর অহিংস আন্দোলন থেকে প্রেরণা পেয়েছিলেন তিনি।
রোদ, বৃষ্টি, তুষারপাত উপেক্ষা করে আন্দোলন-সংগ্রামে কোনি উপস্থিত থাকতেন হোয়াইট হাউস-সংলগ্ন এলাকায়। পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে, বিশ্ব শান্তির দাবিতে, ইসরায়েলের বোমা হামলার প্রতিবাদে কোনির প্রতিবাদ ছিল বিরামহীন, ক্লান্তিহীন। প্রতিবাদ জানানোকে তপস্যা হিসেবে নিয়েছিলেন কোনি।
কোনির দীর্ঘ অহিংস আন্দোলন নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যম বহু সংবাদ প্রচার করেছে। সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক কোনিকে নিয়ে সংবাদচিত্রও তৈরি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার সতীর্থ আন্দোলনকারীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার কোনির মৃত্যু হয়েছে। বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি।
৮০ বছর বয়সী কোনির পুরো নাম ছিল কনসেপসিয়োন পিসিসয়োত্তো।
জীবনের নানা ঘাট ঘুরে ১৯৮১ সালে তল্পিতল্পা নিয়ে ওয়াশিংটন ডিসির রাজপথে অবস্থান নেন কোনি।
পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউয়ে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তাঁর নিকটতম প্রতিবেশী কোনির অবস্থান ছিল লাফায়েত স্কয়ারে।
ব্যক্তিগত বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে যৌবনে হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি এসেছিলেন কোনি। এরপর বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার আর ন্যায়বিচারের দাবিতে বিরামহীনভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে গেছেন তিনি। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন প্রতিবেশী প্রেসিডেন্টের ডাক পাবেন। নিদেনপক্ষে প্রেসিডেন্টের হয়ে কেউ এসে তাঁর খোঁজ নেবেন। জানতে চাইবেন তাঁর দাবিদাওয়ার কথা। তবে হোয়াইট হাউসের আতিথেয়তা কোনি পাননি। উল্টো জেলে গেছেন। বার কয়েক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর আস্তানা। তাতেও দমে যাননি কোনি।
প্রেসিডেন্ট রিগানের সময় কোনি ওয়াশিংটনে আসেন। ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি থেকে অদ্যাবধি সব অনাচারের বিরুদ্ধে কোনি প্রতিবাদ করে গেছেন।
প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মনিকা কেলেঙ্কারি থেকে বুশদের যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর ছিলেন কোনি, ছিলেন রাজপথে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধেও কোনি তাঁর প্রচার অব্যাহত রেখেছিলেন।
যুদ্ধের বিরুদ্ধে, পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে, বিশ্বজুড়ে নিরপরাধ মানুষ হত্যা, শিশু হত্যার প্রতিবাদে কোনি ছিলেন সরব।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনির মতো এমন দীর্ঘ অহিংস আন্দোলনের নজির আর নেই। তিনি অহিংস আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
বিশ্বজুড়ে সামাজিক আন্দোলনের পাঠচক্রে কোনির দৃঢ়তা এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। সমাজবিজ্ঞানীরা সামাজিক আন্দোলন নিয়ে আলোচনার জন্য কোনির প্রসঙ্গ টানছেন।
স্পেনে জন্ম নেওয়া কোনি ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হন। নিউইয়র্কে স্পেন কনস্যুলেট অফিসে কর্মরত অবস্থায় প্রেম করে বিয়ে করেন। দাম্পত্যের মাঝপথে দত্তক নেন এক মেয়েশিশুকে। বছর কয়েকের মাথায় কোনির সংসার ভেঙে যায়। কনস্যুলেট অফিস থেকে চাকরিও হারান তিনি। দত্তক নেওয়া শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে সাবেক স্বামীর সঙ্গে বিরোধে জড়ান। প্রাথমিক লড়াইয়ে হেরে যান কোনি। সন্তানের ওপর কর্তৃত্ব হারান তিনি। তাঁকে অসুস্থ সাজিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কোনি মনে করতেন, মেয়ের ওপর থেকে অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্যই তাঁকে মানসিক রোগী সাজানো হয়েছিল।
পারিবারিক ব্যক্তিগত বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতে কোনি নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটনে যাত্রা করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের বঞ্চনার ফরিয়াদ জানাবেন বলে পণ করেছিলেন। তখন পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের রাজপথে আন্দোলন করছিলেন উইলিয়াম টমাস। টমাসের সহযোগী হয়ে ব্যক্তিগত বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতে জানাতে একসময় বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন কোনি।
পূর্ব-পশ্চিমের সমস্ত রাজনৈতিক বিরোধ, সামাজিক ও রাজনৈতিক অনাচার সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতেন কোনি। সুযোগ পেলেই মহাত্মা গান্ধীর কথা বলতেন। গান্ধীর অহিংস আন্দোলন থেকে প্রেরণা পেয়েছিলেন তিনি।
রোদ, বৃষ্টি, তুষারপাত উপেক্ষা করে আন্দোলন-সংগ্রামে কোনি উপস্থিত থাকতেন হোয়াইট হাউস-সংলগ্ন এলাকায়। পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে, বিশ্ব শান্তির দাবিতে, ইসরায়েলের বোমা হামলার প্রতিবাদে কোনির প্রতিবাদ ছিল বিরামহীন, ক্লান্তিহীন। প্রতিবাদ জানানোকে তপস্যা হিসেবে নিয়েছিলেন কোনি।
কোনির দীর্ঘ অহিংস আন্দোলন নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যম বহু সংবাদ প্রচার করেছে। সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক কোনিকে নিয়ে সংবাদচিত্রও তৈরি হয়েছে।

No comments:
Post a Comment