প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করায় ডেইলি স্টার সম্পাদক
মাহফুজ আনামের বিচার দাবি অব্যাহত রয়েছে। সোমবারও এ দাবিতে সোচ্চার ছিলেন
অনেকে। তার গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে কথা বলেছেন সরকারি দল আওয়ামী লীগসহ
বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এ নিয়ে বিচার দাবিসহ
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তান ও
তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা
মাহবুব উল আলম হানিফ, জাসদ নেতা মাইনুদ্দিন খান বাদল, সংসদ সদস্য ফজলে নূর
তাপস, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক
টুকুসহ দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন
সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম-সমমনা সংগঠন। সোমবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক
মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, যে সম্পাদক ভুল সংবাদ ছেপে রাষ্ট্র ও দেশের
ক্ষতি করার কথা স্বীকার করেছেন, এখন তিনি কীভাবে এর মূল্য দেন, জাতি তা
দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে মাহফুজ আনামের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করে
সোমবার রাজধানীর ঝিগাতলায় মানববন্ধন করে ঢাকা-৭ আসনের ছাত্রলীগের
নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, ৩ ফেব্রুয়ারি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো’য় অংশ নিয়ে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর যাচাই ছাড়া প্রকাশ করা আমার সাংবাদিকতার জীবনে, সম্পাদক হিসেবে এটা একটা বিরাট ভুল। সেটা আমি স্বীকার করে নিচ্ছি। তখন ডিজিএফআই শেখ হাসিনার ঘুষ নেয়া ও দুর্নীতির খবর সরবরাহ করেছিল।’
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘বীরাঙ্গনার আত্মকথন’ শীর্ষক প্রামাণ্য গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘একটি স্বনামধন্য ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক নিজেই স্বীকার করেছেন এক এগারোর সময় তিনি মিথ্যা দিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা কল্পকাহিনী ছাপিয়েছিলেন। তাকে ছাপাতে বাধ্য হতে হয়েছে। ওই সময়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১১ মাস তাকে (শেখ হাসিনা) কারাবরণ করতে হয়েছিল। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই, অন্যায়ভাবে। আজ সেটা প্রমাণ হয়েছে সম্পাদকের কথায়। অথচ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা ছিল সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। সম্পূর্ণ অনৈতিক অন্যায়ভাবে অভিযোগ উত্থাপন করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাটি দেয়া হয়। আর এখন সম্পাদক সাহেব ভুল স্বীকার করেছেন। আমি বলতে চাই, উনি তার নৈতিকতার জায়গা থেকে এখন কী করবেন, সেটা জাতি দেখার অপেক্ষায় আছে।’ আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘যিনি এত বড় একটা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন, তিনি দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চরিত্র হনন করে এ ধরনের চাপিয়ে দেয়া মিথ্যা গল্পকাহিনী প্রকাশ করে দেশের যে ক্ষতি করেছেন, রাষ্ট্রের যে ক্ষতি করেছেন সে দায়ভার নিয়ে উনি উনার নৈতিকতার কাছে কী পরিচয় দেবেন জাতি তা জানারও অপেক্ষায় আছে।’
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, এক এগারোর সময় রাজনীতিবিদদের নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করার জন্য সবার আগে সে সময়কার ডিজিএফআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের বিচার করা উচিত। কেননা এসব সংবাদ তারাই সরবরাহ করেছে। তারপর মাহফুজ আনামদের বিচার হতে হবে। সে সময় ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি সংবাদপত্র এমন কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা এটা ঠিক করেনি। কেননা গণমাধ্যম জনস্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করতে পারে না। দেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি এবং রাজনৈতিক দলের কাঠামো ঠিক করবে রাজনীতিবিদরাই। কিন্তু এসব সংবাদপত্র এবং ওই সংস্থাটি এই খারাপ পথ বেছে নিয়েছিল। যে কারণে দেশের সাধারণ মানুষ আজও মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনেরও বিচার দাবি করেন।
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, এক এগারোর সময় প্রায় সব গণমাধ্যমই এই কাজ করেছে। মাহফুজ আনাম দোষী হলে সবাইকেই দোষী সাব্যস্ত করতে হবে। আর যারা এসব সংবাদ সরবরাহ করেছে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে নাগরিকের চরিত্র হনন, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু যুগান্তরকে বলেন, ১/১১-এর সরকার এখনও চলছে। আর আওয়ামী লীগ এবং ডেইলি স্টারের সম্পাদক একই নৌকার মাঝি। তাদের মধ্যে ভাগাভাগিতে হয়তো কোনো স্বার্থহানি হয়েছে। এজন্য এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে কথা বলছে। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বর্তমানে জনগণের সরকার নেই। এটা পরোক্ষভাবে সামরিক সরকার। তাই তাদের কাছে বিচার চেয়ে কী হবে।
বিশিষ্ট আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম যুগান্তরকে এ বিষয়ে বলেন, এক-এগারোর সময় বেশ কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা সাংবাদিকতা নীতিমালার চরম পরিপন্থী ছিল। এর মাধ্যমে তারা গণমাধ্যমের রাষ্ট্রীয় অবস্থানটি (চতুর্থ স্তম্ভ) বিতর্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। ভুল সংবাদ ছেপে অনুতপ্ত হলে সেটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পরামর্শ দিয়ে এ আইনজীবী বলেন, সে সময় যারা দেশকে বিরাজনীতিকরণের ভূমিকায় নেমেছিলেন তারা দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন। তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত এবং একইসঙ্গে যারা অসত্য তথ্য দিয়ে ভীতির মাধ্যমে সংবাদ ছাপতে বাধ্য করেছিল তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম সোমবার যুগান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে ইংরেজি দৈনিকটি যেসব সংবাদ তখন প্রকাশ করেছিল তা সম্পূর্ণ অনৈতিক, নীতিবিবর্জিত। সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিরোধী। ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এই মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া সংবাদের পরই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ ১১ মাস তাকে কারাগারে কাটাতে হয়। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, বিলম্বে হলেও ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম তার ভুল স্বীকার করেছেন। এখন উচিত হবে, এই কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে তার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। পাশাপাশি মাহফুজ আনামের উচিত দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতে আর জড়াবেন না- জাতির কাছে এমন প্রতিশ্র“তি দেয়া।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জাতির সামনে স্বীকার করেছেন যে, উনি ওয়ান ইলেভেনে তার পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। সম্পাদক দায়ী হলে মনে রাখতে হবে মালিক-প্রকাশকও দায়ী। তারা মূলত বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ, দেশের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ এবং গরিব মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করেছেন। আসলে তারা ষড়যন্ত্র করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করতে চান। তিনি আরও বলেন, ডেইলি স্টারের এই পরিকল্পিত মিথ্যাচারের জন্য পত্রিকাটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যাতে ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন।
সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ডেইলি স্টার যে কাজটি করেছে তা সত্যিই দুঃখজনক। তাদের উচিত ছিল, এতো বড় একটি সংবাদ প্রকাশের আগে ভালোভাবে যাচাই বাছাই করে দেখা। কেউ বা কোনো মাধ্যমে তথ্য পেলাম আর সংবাদ পরিবেশন করলাম- তা সাংবাদিকতার রীতিনীতিতে পড়ে না। এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করে ডেইলি স্টার বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়নি। তাদের উচিত হবে, ভবিষ্যতে সংবাদ পরিবেশনের বেলায় আরও বেশি সজাগ, সতর্ক ও যত্নবান হওয়া।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, এক-এগারোর সময় আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে উৎখাত এমনকি হত্যা করারও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র সফল করতে মাহফুজ আনামরা মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও করেন। তাই তিনি যত বড় শক্তিশালী সম্পাদক-ই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বলেন, মাহফুজ আনাম সাংবাদিকতার নামে একটি কলংকজনক অধ্যায়ের সঙ্গে লিপ্ত ছিলেন। শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ চারিতার্থ করতে তিনি এসব করেছেন। তাকে কোনোভাবেই ক্ষমা করা ঠিক হবে না। এরা যাতে আর সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত না থাকতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, ডেইলি স্টারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে এর সম্পাদক মাহফুজ আনামের নিজের দায় স্বীকারোক্তির বক্তব্যটি সম্প্রতি দেশজুড়ে ঝড় তুলেছে। আলোচিত বক্ত্যটি টকশো শেষ হওয়ার পরপরই ইউটিউবের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তান ও তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় মাহফুজ আনামের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন। জয় বলেন, ‘মাহফুজ আনাম, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক, স্বীকার করেছেন যে তিনি আমার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অপবাদ আরোপ করতেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির গল্প ছাপিয়েছিলেন। তিনি সামরিক স্বৈরশাসনের সমর্থনে আমার মাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে এই কাজ করেছিলেন। একটি প্রধান সংবাদপত্রের সম্পাদক সামরিক বিদ্রোহে উস্কানি দিতে যে মিথ্যা সাজানো প্রচারণা চালায় তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। আমার ব্যক্তিগত মত, তার (মাহফুজ আনাম) মিথ্যা গল্পের উস্কানি আমার মাকে গ্রেফতার করিয়েছে এবং ১১ মাস তিনি জেলে কাটিয়েছেন। আমি এর বিচার চাই। আমি চাই, মাহফুজ আনাম আটক হোক এবং তার রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিচার হোক।’
এরপর রোববার বিষয়টি নিয়ে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মাহফুজ আনামের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন আটজন সংসদ সদস্য। এমন দাবিতে সংসদে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ও জাসদের কার্যকরী সদস্য মাইনুদ্দিন খান বাদল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, তাহজীব আলম সিদ্দিকী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী সেলিম এবং সংরক্ষিত আসনের নূরজাহান বেগম। তারা বলেন, ‘সাংবাদিকতা হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু একজন সম্পাদক-প্রকাশক মাহফুজ আনাম সাংবাদিকতার নামে একটি কলংকজনক অধ্যায়ের সঙ্গে লিপ্ত ছিলেন। মাহফুজ আনাম বিচারের আগেই পেপার ট্রায়াল করে ফেলেছেন, তা উনি স্বীকারও করেছেন। সাংবিধানিক সরকার এবং গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য মাহফুজ আনামের মতো লোকেরা সারাজীবনই ষড়যন্ত্র করে গেছেন, এখনও করছেন। এটা আর কোনোভাবে বরদাশত করা যায় না। মাহফুজ আনাম সাংবাদিকতা নামক মহান পেশাকে কলংকিত করেছেন। তাই তার আর কোনো পত্রিকার সম্পাদক থাকার অধিকার নেই এবং পেশাকে কলংকিত করার জন্য উনি যাতে আর সাংবাদিকতা করতে না পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। তারা বলেন, মাহফুজ আনামরা যত বড় শক্তিশালী সম্পাদক হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কেননা এরা এখনও দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন।
ছাত্রলীগের মানববন্ধন : সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিজিএফআই’র সরবরাহ করা খবর যাচাই ছাড়া প্রকাশ করায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার রাজধানীর ঝিগাতলায় এ কর্মসূচি পালন করেন ঢাকা-৭ সংসদীয় আসনের ছাত্রলীগের পাঁচটি থানার নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টা থেকে ধানমণ্ডি, কলাবাগান, নিউ মার্কেট, হাজারীবাগ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ধানমণ্ডি-১৫ নম্বর সড়ক ঘুরে তিন নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। পরে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াফেস আহমেদ সামী। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে একজন মীর জাফর ছিল, এখন একজন মিথ্যাবাদী আমরা পেলাম। তিনি হচ্ছেন মাহফুজ আনাম। কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, মাহফুজ আনাম বাংলাদেশের ইতিহাসে খলনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। যতদিন ডেইলি স্টার বন্ধ না হবে এবং মাহফুজ আনামকে গ্রেফতার করা না হবে, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। ওদিকে ধানমণ্ডি থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক এসএস আশফাক তার বক্তব্যে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ছাত্রলীগ নিউ মার্কেট থানা শাখার সভাপতি গোলাম শমিরুল রানা, ধানমণ্ডি থানা শাখার সভাপতি হাওলাদার মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন তুহিন, কলাবাগান থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ৩ ফেব্রুয়ারি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো’য় অংশ নিয়ে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর যাচাই ছাড়া প্রকাশ করা আমার সাংবাদিকতার জীবনে, সম্পাদক হিসেবে এটা একটা বিরাট ভুল। সেটা আমি স্বীকার করে নিচ্ছি। তখন ডিজিএফআই শেখ হাসিনার ঘুষ নেয়া ও দুর্নীতির খবর সরবরাহ করেছিল।’
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘বীরাঙ্গনার আত্মকথন’ শীর্ষক প্রামাণ্য গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘একটি স্বনামধন্য ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক নিজেই স্বীকার করেছেন এক এগারোর সময় তিনি মিথ্যা দিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা কল্পকাহিনী ছাপিয়েছিলেন। তাকে ছাপাতে বাধ্য হতে হয়েছে। ওই সময়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১১ মাস তাকে (শেখ হাসিনা) কারাবরণ করতে হয়েছিল। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই, অন্যায়ভাবে। আজ সেটা প্রমাণ হয়েছে সম্পাদকের কথায়। অথচ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা ছিল সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। সম্পূর্ণ অনৈতিক অন্যায়ভাবে অভিযোগ উত্থাপন করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাটি দেয়া হয়। আর এখন সম্পাদক সাহেব ভুল স্বীকার করেছেন। আমি বলতে চাই, উনি তার নৈতিকতার জায়গা থেকে এখন কী করবেন, সেটা জাতি দেখার অপেক্ষায় আছে।’ আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘যিনি এত বড় একটা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন, তিনি দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির চরিত্র হনন করে এ ধরনের চাপিয়ে দেয়া মিথ্যা গল্পকাহিনী প্রকাশ করে দেশের যে ক্ষতি করেছেন, রাষ্ট্রের যে ক্ষতি করেছেন সে দায়ভার নিয়ে উনি উনার নৈতিকতার কাছে কী পরিচয় দেবেন জাতি তা জানারও অপেক্ষায় আছে।’
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, এক এগারোর সময় রাজনীতিবিদদের নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করার জন্য সবার আগে সে সময়কার ডিজিএফআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের বিচার করা উচিত। কেননা এসব সংবাদ তারাই সরবরাহ করেছে। তারপর মাহফুজ আনামদের বিচার হতে হবে। সে সময় ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি সংবাদপত্র এমন কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা এটা ঠিক করেনি। কেননা গণমাধ্যম জনস্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করতে পারে না। দেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি এবং রাজনৈতিক দলের কাঠামো ঠিক করবে রাজনীতিবিদরাই। কিন্তু এসব সংবাদপত্র এবং ওই সংস্থাটি এই খারাপ পথ বেছে নিয়েছিল। যে কারণে দেশের সাধারণ মানুষ আজও মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনেরও বিচার দাবি করেন।
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, এক এগারোর সময় প্রায় সব গণমাধ্যমই এই কাজ করেছে। মাহফুজ আনাম দোষী হলে সবাইকেই দোষী সাব্যস্ত করতে হবে। আর যারা এসব সংবাদ সরবরাহ করেছে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে নাগরিকের চরিত্র হনন, নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু যুগান্তরকে বলেন, ১/১১-এর সরকার এখনও চলছে। আর আওয়ামী লীগ এবং ডেইলি স্টারের সম্পাদক একই নৌকার মাঝি। তাদের মধ্যে ভাগাভাগিতে হয়তো কোনো স্বার্থহানি হয়েছে। এজন্য এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে কথা বলছে। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বর্তমানে জনগণের সরকার নেই। এটা পরোক্ষভাবে সামরিক সরকার। তাই তাদের কাছে বিচার চেয়ে কী হবে।
বিশিষ্ট আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম যুগান্তরকে এ বিষয়ে বলেন, এক-এগারোর সময় বেশ কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা সাংবাদিকতা নীতিমালার চরম পরিপন্থী ছিল। এর মাধ্যমে তারা গণমাধ্যমের রাষ্ট্রীয় অবস্থানটি (চতুর্থ স্তম্ভ) বিতর্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। ভুল সংবাদ ছেপে অনুতপ্ত হলে সেটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পরামর্শ দিয়ে এ আইনজীবী বলেন, সে সময় যারা দেশকে বিরাজনীতিকরণের ভূমিকায় নেমেছিলেন তারা দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন। তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত এবং একইসঙ্গে যারা অসত্য তথ্য দিয়ে ভীতির মাধ্যমে সংবাদ ছাপতে বাধ্য করেছিল তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম সোমবার যুগান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে ইংরেজি দৈনিকটি যেসব সংবাদ তখন প্রকাশ করেছিল তা সম্পূর্ণ অনৈতিক, নীতিবিবর্জিত। সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিরোধী। ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এই মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া সংবাদের পরই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ ১১ মাস তাকে কারাগারে কাটাতে হয়। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, বিলম্বে হলেও ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম তার ভুল স্বীকার করেছেন। এখন উচিত হবে, এই কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে তার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। পাশাপাশি মাহফুজ আনামের উচিত দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতে আর জড়াবেন না- জাতির কাছে এমন প্রতিশ্র“তি দেয়া।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জাতির সামনে স্বীকার করেছেন যে, উনি ওয়ান ইলেভেনে তার পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। সম্পাদক দায়ী হলে মনে রাখতে হবে মালিক-প্রকাশকও দায়ী। তারা মূলত বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ, দেশের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ এবং গরিব মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করেছেন। আসলে তারা ষড়যন্ত্র করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করতে চান। তিনি আরও বলেন, ডেইলি স্টারের এই পরিকল্পিত মিথ্যাচারের জন্য পত্রিকাটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যাতে ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের ষড়যন্ত্র করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন।
সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, ডেইলি স্টার যে কাজটি করেছে তা সত্যিই দুঃখজনক। তাদের উচিত ছিল, এতো বড় একটি সংবাদ প্রকাশের আগে ভালোভাবে যাচাই বাছাই করে দেখা। কেউ বা কোনো মাধ্যমে তথ্য পেলাম আর সংবাদ পরিবেশন করলাম- তা সাংবাদিকতার রীতিনীতিতে পড়ে না। এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করে ডেইলি স্টার বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়নি। তাদের উচিত হবে, ভবিষ্যতে সংবাদ পরিবেশনের বেলায় আরও বেশি সজাগ, সতর্ক ও যত্নবান হওয়া।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, এক-এগারোর সময় আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে উৎখাত এমনকি হত্যা করারও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র সফল করতে মাহফুজ আনামরা মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও করেন। তাই তিনি যত বড় শক্তিশালী সম্পাদক-ই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বলেন, মাহফুজ আনাম সাংবাদিকতার নামে একটি কলংকজনক অধ্যায়ের সঙ্গে লিপ্ত ছিলেন। শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ চারিতার্থ করতে তিনি এসব করেছেন। তাকে কোনোভাবেই ক্ষমা করা ঠিক হবে না। এরা যাতে আর সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত না থাকতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, ডেইলি স্টারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে এর সম্পাদক মাহফুজ আনামের নিজের দায় স্বীকারোক্তির বক্তব্যটি সম্প্রতি দেশজুড়ে ঝড় তুলেছে। আলোচিত বক্ত্যটি টকশো শেষ হওয়ার পরপরই ইউটিউবের মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তান ও তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় মাহফুজ আনামের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন। জয় বলেন, ‘মাহফুজ আনাম, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক, স্বীকার করেছেন যে তিনি আমার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অপবাদ আরোপ করতেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির গল্প ছাপিয়েছিলেন। তিনি সামরিক স্বৈরশাসনের সমর্থনে আমার মাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে এই কাজ করেছিলেন। একটি প্রধান সংবাদপত্রের সম্পাদক সামরিক বিদ্রোহে উস্কানি দিতে যে মিথ্যা সাজানো প্রচারণা চালায় তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। আমার ব্যক্তিগত মত, তার (মাহফুজ আনাম) মিথ্যা গল্পের উস্কানি আমার মাকে গ্রেফতার করিয়েছে এবং ১১ মাস তিনি জেলে কাটিয়েছেন। আমি এর বিচার চাই। আমি চাই, মাহফুজ আনাম আটক হোক এবং তার রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিচার হোক।’
এরপর রোববার বিষয়টি নিয়ে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মাহফুজ আনামের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন আটজন সংসদ সদস্য। এমন দাবিতে সংসদে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ও জাসদের কার্যকরী সদস্য মাইনুদ্দিন খান বাদল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, তাহজীব আলম সিদ্দিকী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী সেলিম এবং সংরক্ষিত আসনের নূরজাহান বেগম। তারা বলেন, ‘সাংবাদিকতা হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু একজন সম্পাদক-প্রকাশক মাহফুজ আনাম সাংবাদিকতার নামে একটি কলংকজনক অধ্যায়ের সঙ্গে লিপ্ত ছিলেন। মাহফুজ আনাম বিচারের আগেই পেপার ট্রায়াল করে ফেলেছেন, তা উনি স্বীকারও করেছেন। সাংবিধানিক সরকার এবং গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য মাহফুজ আনামের মতো লোকেরা সারাজীবনই ষড়যন্ত্র করে গেছেন, এখনও করছেন। এটা আর কোনোভাবে বরদাশত করা যায় না। মাহফুজ আনাম সাংবাদিকতা নামক মহান পেশাকে কলংকিত করেছেন। তাই তার আর কোনো পত্রিকার সম্পাদক থাকার অধিকার নেই এবং পেশাকে কলংকিত করার জন্য উনি যাতে আর সাংবাদিকতা করতে না পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। তারা বলেন, মাহফুজ আনামরা যত বড় শক্তিশালী সম্পাদক হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কেননা এরা এখনও দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন।
ছাত্রলীগের মানববন্ধন : সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিজিএফআই’র সরবরাহ করা খবর যাচাই ছাড়া প্রকাশ করায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার রাজধানীর ঝিগাতলায় এ কর্মসূচি পালন করেন ঢাকা-৭ সংসদীয় আসনের ছাত্রলীগের পাঁচটি থানার নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টা থেকে ধানমণ্ডি, কলাবাগান, নিউ মার্কেট, হাজারীবাগ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ধানমণ্ডি-১৫ নম্বর সড়ক ঘুরে তিন নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। পরে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াফেস আহমেদ সামী। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে একজন মীর জাফর ছিল, এখন একজন মিথ্যাবাদী আমরা পেলাম। তিনি হচ্ছেন মাহফুজ আনাম। কলাবাগান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, মাহফুজ আনাম বাংলাদেশের ইতিহাসে খলনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। যতদিন ডেইলি স্টার বন্ধ না হবে এবং মাহফুজ আনামকে গ্রেফতার করা না হবে, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। ওদিকে ধানমণ্ডি থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক এসএস আশফাক তার বক্তব্যে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ছাত্রলীগ নিউ মার্কেট থানা শাখার সভাপতি গোলাম শমিরুল রানা, ধানমণ্ডি থানা শাখার সভাপতি হাওলাদার মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন তুহিন, কলাবাগান থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।

No comments:
Post a Comment