Saturday, February 13, 2016

জাতিসংঘের অধীনে রামপাল প্রকল্পের ইআইএ করার দাবি

সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) সঠিকভাবে হয়নি দাবি করে জাতিসংঘের অধীনে ইআইএ করার দাবি জানিয়েছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম জানান, দেশে-বিদেশে রামপাল ইআইএ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সুন্দরবন আমাদের সুরক্ষা দিচ্ছে তাই সুন্দরবনকে আমরা অক্ষত দেখতে চাই। জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, সরকার সুন্দরবন রক্ষার বিষয়টি পাত্তাই দিচ্ছে না। এ কারণে সুন্দরবনের চারপাশে পরিবেশ ধ্বংসকারী বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ অনুমোদন দিচ্ছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে জলবায়ু ক্ষতির বিষয়টি বেশ ভালোভাবে তুলে ধরছেন। কিন্তু সরকার দেশের মধ্যেই সুন্দরবনের পাশে এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে, যা বাংলাদেশকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসছে সরকারে প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা- ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ ঘোষণা করে।
রামপাল বিদ্যুত প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের পরিবেশগত ঝুঁকির ব্যাপারে সরকার কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে মার্চ মাসে ইউনেস্কোর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে।
সিঙ্গাপুর, কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দল এক সপ্তাহে বাংলাদেশে আসবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী।
তিনি জানান, সুন্দরবনের আউটস্ট্যান্ডিং ইউনিভার্সেল ভ্যালুস-রক্ষায় আমাদের ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনা কী, তেল ও কয়লা জাহাজডুবির ঘটনায় কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না এবং রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি দেখতে তারা আসবে।
সফর শেষে প্রতিনিধি দল সুন্দরবনের পরিবেশগত ঝুঁকির ব্যাপারে ইউনেস্কোর সদরদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাবে।

No comments:

Post a Comment