Wednesday, February 17, 2016

প্রত্যেক উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের স্কুলপর্যায়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার দেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে মিনি স্টেডিয়াম করে দেবো। যেখানে স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরাই বেশি করে খেলাধুলার সুযোগ পাবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০১৫-এর ফাইনাল ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ দুটি টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩-১ গোলে রাজশাহীর খর্দ্দকৌড় প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো এ শিরোপা জয় করে। প্রধানমন্ত্রী প্রমিলা ফুটবলের আকর্ষণীয় এই ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করেন।
এর আগে দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় ছেলেদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা। এতে কক্সবাজার জেলার পেকুয়ার রাজখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মরিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জয় করে। প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক স্কুলপর্যায়ের এ দুটি টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী দল, দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ট্রফি এবং ব্যক্তিগত পুরস্কার বিতরণ করেন। চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি ছাড়াও এক লাখ টাকার প্রাইজমানি এবং প্রতি খেলোয়াড়কে ১০ হাজার টাকার চেক ও মেডেল, রানার্সআপ দলকে ৭৫ হাজার টাকার প্রাইজমানি ও ট্রফি এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে ৫০ হাজার টাকার প্রাইজমানি দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনসহ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, সচিব, বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ছেলেমেয়েদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুলগুলোতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যাতে ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। তারা খেলাধুলায় আগ্রহী হলে বিপথে যাবে না। খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তারা সুস্থ মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে আগামীর নেতৃত্ব দেয়ার জন্য। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ৬৩ হাজার ৫০৯টি দল এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল-২০১৫-তে ৬৩ হাজার ৪৩১ দল অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্বের আর কোথাও এত বৃহৎ আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্ট হয় কি না তা আমার জানা নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্টেডিয়ামে বসে চীনাবাদাম খেতে খেতে খেলা দেখার মজাটাই আলাদা।’
জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ তিনি চীনাবাদাম খেতে খেতেই উপভোগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, স্টেডিয়ামে আসার আগেও তিনি টিভি সেটে খেলা দেখছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার মধ্যে থাকলে আগামীতে একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যেখানে আর জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের কোনো স্থান থাকবে না।

No comments:

Post a Comment