Tuesday, February 9, 2016

সুচিই হচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নাম ঘোষণা ১৭ মার্চ
অবশেষে মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী গণতন্ত্রপন্থী অং সান সুচিই হতে যাচ্ছেন দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। তবে সুচির প্রেসিডেন্ট হওয়ার এ স্বপ্নপূরণে প্রভাবশালী সেনাবাহিনীকে তোয়াজ করে চলতে হবে নির্বাচনী বিজয়ী দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি)। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা আলাপের পর এ ব্যাপারে ‘ইতিবাচক’ ফলাফলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হবে আগামী ১৭ মার্চ। খবর গার্ডিয়ান ও মিয়ানমার টাইমসের।
মিয়ানমারের সরকার সমর্থক দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইতিবাচক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হতে পারেন সুচি। সেনাপ্রধানের সঙ্গে সুচির আলোচনা থেকে একটি ‘ইতিবাচক ফল’ আসতে পারে। এ আলোচনা সফল হলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে সুচির ওপর থাকা আইনি বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ সংবিধানের এ সংক্রান্ত ধারাটি (৫৯-এফ) বিলুপ্ত করা হতে পারে।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতার ‘আলোচনা’ ইতিবাচক হয়েছে এমন খবরে সুচির দল এনএলডির নেতারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, টেলিভিশনের সংক্ষিপ্ত খবরের ওপর ভিত্তি করে এখনও এটা নিশ্চিত করে বলার সময় আসেনি। এছাড়া সেনাবাহিনীর সঙ্গে আঁতাতের প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট সুচি প্রেসিডেন্ট হলে জনগণের অধিকার আদায় নাও হতে পারে। এমনিতেই সেনাবাহিনীর দখলে দেশটির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় রয়েছে।
মিয়ানমার টাইমস জানায়, সুচির প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্নপূরণে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগি করতে হচ্ছে। সমঝোতা অনুযায়ী অন্তত চারটি রাজ্যপ্রধানের পদ পেতে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। সেগুলো হচ্ছে ইয়াঙ্গুন, কাচিন, শান ও রাখাইন।
গত ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে ৮০ শতাংশ আসনে জয় পায় অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। ১ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে দেশটির নতুন পার্লামেন্ট। ৬৬৪ আসনের পার্লামেন্টে মোট নির্বাচিত এমপির সংখ্যা ৪৯১। এর মধ্যে সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩৯০ জন।
সোমবার পার্লামেন্ট চেয়ারম্যান মান উইন খিন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পদে কে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা জানা যাবে ১৭ মার্চ। ওইদিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ, নিুকক্ষ ও সেনা কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে প্রেসিডেন্ট পদে তিনজন প্রার্থী দেবে। পার্লামেন্ট ভোটাভুটি হবে। তাতে যিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন তিনি হবেন প্রেসিডেন্ট। বাকি দু’জন হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে সুচির আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো বিদেশীকে বিয়ে করলে বা সন্তানদের কেউ অন্য দেশের নাগরিক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। সুচির স্বামী মাইকেল অ্যারিস ছিলেন একজন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ। তার দুই সন্তানও ব্রিটিশ নাগরিক।
মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের কমান্ডার ইন চিফ মিন অং লাইংয়ের সঙ্গে বর্তমানে সংবিধানের ওই ধারাটি স্থগিত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন সুচি। আইনি প্রক্রিয়ায় ওই ধারাটি বাতিলে পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে। কিন্তু মিয়ানমারের পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর জন্য ২৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ রয়েছে। এর ফলে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সেনাবাহিনীর সমর্থন ছাড়া সুচির দল এনএলডির পক্ষে এককভাবে ওই বিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
এনএলডির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কিয়াউ হুয়ে এমপি বলেন, ‘আমার মনে হয় সবকিছু ঠিকঠাক মতোই হবে। এ আলোচনা আমাদের নেত্রী অং সান সুচির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে একটা ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে।’
শুক্রবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সেনা সমর্থিত রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা শুয়ে ম্যানের নেতৃত্বে একটি লিগ্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটি গঠিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সুচির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তার সমাধানে তিনি উদ্যোগ নেবেন।

No comments:

Post a Comment