সারা
দেশে ৪,৫৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছরে মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে
৪,২৭৫টির। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ৬টি ধাপে করার
পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৭৫২টি ইউনিয়ন
পরিষদে ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২২শে মার্চ। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে এই ছয়টি
ধাপে ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিস্তারিত
তফসিল ঘোষণার দায়িত্ব দেয়া হয়। বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ
সাংবাদিকদের জানান, প্রথম ধাপে ৭৫২ ইউপির ভোট হবে ২২শে মার্চ। এরপর ৩১শে
মার্চ ৭১০টি, ২৩শে এপ্রিল ৭১১টি, ৭ই মে ৭২৮টি, ২৮ই মে ৭১৪টি এবং ৪ই জুন
৬৬০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে। শাহনেওয়াজ বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের
সুবিধার কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে এই তারিখ ঠিক করা হয়েছে।
প্রথম দফার তফসিল কমিশন ঠিক করেছে। বাকিগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ঘোষণা করা
হবে। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এসএম আসাদুজ্জামান জানান, প্রথম
পর্যায়ে ৭৫২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আগামী
২২শে ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই আগামী ২৩ ও ২৪শে ফেব্রুয়ারি। আপিল
দাখিল আগামী ২৫ ও ২৭শে ফেব্রুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি ২৮শে ফেব্রুয়ারি ও
আগামী ১লা মার্চ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২রা মার্চ। প্রতীক
বরাদ্দ আগামী ৩রা মার্চ। ভোটগ্রহণ ২২শে মার্চ। প্রসঙ্গত, সদ্য অনুষ্ঠিত
পৌরসভা নির্বাচনের আদলে এই প্রথমবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও দলীয় ভিত্তিতে
অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে মেম্বার পদে নির্বাচন হবে নির্দলীয়। চেয়ারম্যান পদে
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র
প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। ইসি জানায়, রাজনৈতিক দলের
চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের
সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সমপর্যায়ের পদাধিকারী অথবা তাদের নিকট হতে
ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
স্বতন্ত্রভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে ইচ্ছুকদের শুধু মনোনয়নপত্র দাখিল
করতে হবে। নির্বাচন কমিশন বলছে, কোনো রাজনৈতিক দল চেয়ারম্যান পদে একাধিক
ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না। একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে ওই ইউনিয়ন
পরিষদের উক্ত দলের সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাবে। এদিকে
সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবি, নমুনা
স্বাক্ষরসহ একটি চিঠি তফসিল ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের নিকট
জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এর একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে বলেও
জানিয়েছে ইসি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment