অর্থনৈতিক
উন্নয়ন আর সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত নিয়ে খুব শিগগিরই যাত্রা শুরু করতে
যাচ্ছে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা। চট্টগ্রাম ও মংলার তুলনায় অনেক
বেশি সুবিধা আর সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এরই মধ্যে এ বন্দর নিয়ে আগ্রহ
দেখিয়েছে নেপাল, ভুটান, চীন, ভারত এবং মিয়ানমারসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো।
সড়ক ও নৌ পথে খুব সহজেই এখান থেকে পণ্য পৌঁছানো যাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের
যে কোনো প্রান্তে। এর চেয়ে বড় সুবিধা হল সমুদ্রগামী জাহাজ সরাসরি ভিড়তে
পারবে এখানে। চট্টগ্রাম বা মংলার মতো বহির্নোঙর থেকে পণ্য খালাসের জন্য
লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার করতে হবে না। দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীদের এ বন্দরের
প্রতি আকৃষ্ট করতে মালামাল আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ
শুল্ক ছাড় দেয়ার প্রস্তাব করেছে সরকার। পায়রাকে ঘিরে বিশেষ একটি অর্থনৈতিক
অঞ্চল গড়ে তোলার পাশাপাশি নৌ-বাহিনীর ঘাঁটি স্থাপনের কাজও চলছে। সবমিলে
দেশের অর্থনীতিতে গতি আনতে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার
রামনাবাদ নদী মোহনায় পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ঘিরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নাব্য সংকটে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না সমুদ্রগামী সব জাহাজ। গভীর সমুদ্রে বহির্নোঙরে জাহাজ ভিড়িয়ে লাইটারেজ জাহাজে করে পণ্য আনতে হয় বন্দরে। এরপর রাজধানীতে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় প্রায় সাড়ে ৩শ’ কিলোমিটার সড়ক পথ। নৌপথে রাজধানীর কাছাকাছি পানগাঁও বন্দরে পৌঁছাতেও পড়তে হয় নানা জটিলতায়। সন্দ্বীপ চ্যানেলে জোয়ারের জন্য জাহাজগুলোকে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অপরদিকে, গভীর সমুদ্রের ফেয়ারওয়ে বয়া থেকে মংলা সমুদ্র বন্দরের দূরত্ব প্রায় ১২৬ কিলোমিটার। এরপর রয়েছে পশুর চ্যানেলের নাব্য সংকট। মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে নৌপথে ঢাকায় যেতে সময় লাগে ২৭-২৮ ঘণ্টা। সড়ক পথেও দূরত্ব সাড়ে ৩শ’ কিলোমিটারের বেশি।
এসব জটিলতার কোনোটিই নেই পায়রা বন্দরে। পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (বন্দর ও সমুদ্র) ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান বলেন, এখান থেকে ঢাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম নাব্য সংকটে পড়তে হবে না জাহাজগুলোতে। চ্যানেলের গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় সব ধরনের সমুদ্রগামী জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে। মংলা কিংবা চট্টগ্রামের মতো বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দেয়া কিংবা লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় পণ্য পরিবহনের প্রয়োজন পড়বে না। সড়ক পথে এখান থেকে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ২৮৬ কিলোমিটার। ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ হবে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত ৪ লেনের সড়ক ও রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। সবকিছু সম্পন্ন হলে এই বন্দর থেকে মাত্র ৫ ঘণ্টায় পণ্য পৌঁছে যাবে ঢাকায়। তাছাড়া দেশের যে কোনো স্থানে খুব সহজে এবং কম সময়ে সড়ক কিংবা নৌপথে পৌঁছানো যাবে পণ্য। যেটা অন্য দুই বন্দরের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।
বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে ৯০ কিলোমিটার আর জেলা শহর পটুয়াখালী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পায়রা সমুদ্র বন্দর। কলাপাড়া উপজেলা শহরের পূর্ব দক্ষিণ সীমান্তে সাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এ বন্দরে যাওয়ার মূল সড়কটির নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে এরই মধ্যে। প্রায় ১৬ একর জমির ওপর চলছে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। এরই মধ্যে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে জেটি এবং অত্যাধুনিক কনটেইনার ক্যারিয়ার। শুল্ক স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। চলছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, অফিস ভবন এবং আনসার ভবন নির্মাণ। ট্রাক বা কনটেইনার লরি যাতে সরাসরি ঢুকতে পারে সেজন্য অত্যাধুনিক পন্টুন ও কনটেইনার ক্রেনও বসানো হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, মাদার ভেসেল বন্দরে আসার জন্য কমপক্ষে ৯ মিটার গভীরতা দরকার হয়। রামনাবাদ চ্যানেলে ভাটার সময়েও প্রায় ১৪ মিটার পানি থাকে। ফলে যে কোনো জাহাজ খুব সহজেই এসে ভিড়তে পারবে পায়রা বন্দরে। তবে শুরুতে যেহেতু কেবল নৌপথের ওপর নির্ভর করে বন্দরটি চালুর পরিকল্পনা চলছে, তাই রামনাবাদ চ্যানেলের লালুয়ার চারিপাড়া পয়েন্টে স্থাপন করা হচ্ছে জেটি।
বন্দরের সদস্য ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত দিনক্ষণ ঠিক না হলেও শিগগিরই সীমিত আকারে বন্দরটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত আমরা নৌপথে পণ্য আনা নেয়া অপারেট করব। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এবং ফ্রেইট ফরোয়ার্ড নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মার্চ-এপ্রিলের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে বন্দরটি।
এদিকে পায়রা বন্দরের প্রতি দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে নানা প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে বন্দরে পণ্য উঠানামায় প্রতি টনে ৩৪ টাকা হারে শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু পায়রা বন্দরের ক্ষেত্রে শতকরা ৮০ ভাগ ছাড়ে মাত্র ৬ টাকা ৮০ পয়সা শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ১৯ ডিসেম্বর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে এনবিআরকে। চিঠিতে পায়রা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের ইনভয়েস মূল্যের ওপর আরোপিত শুল্ক, ভ্যাট এবং অগ্রিম আয়করসহ অন্যান্য চার্জে আগামী দুই বছর ৫০ ভাগ হারে ছাড় দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, এই বন্দর ব্যবহারকারীদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই প্রণোদনার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
পায়রা বন্দরে মোট ১৬টি জেটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এখানে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কনটেইনারের সংকুলান হবে। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে সংকুলান হয় মাত্র দেড় হাজার কনটেইনার। ফলে কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের খরচও নেমে আসবে অর্ধেকের নিচে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইমেজ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নির্বাহী পরিচালক হাসান আবিদুর রেজা বলেন, এটি নেপাল ও ভুটানের বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। এছাড়া বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপনের যে পরিকল্পনা চলছে ভৌগোলিক ও অবস্থানগত কারণে তারও প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে পায়রা।
এ বন্দর ঘিরে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, এ বন্দরকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিশেষ এলাকা গড়ে তোলার পাশাপাশি গঠন করা হবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এজন্য এরই মধ্যে ১১৩ একর জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পায়রা সমুদ্র বন্দরের কাছাকাছি আন্ধারমানিক ও রামনাবাদ নদীর মোহনায় কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ এবং চীনের যৌথ উদ্যোগে চলমান এই প্রকল্প থেকে ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব ছাড়াও এখানে প্রায় ৫০০ একর জমির ওপর চলছে নৌবাহিনীর ঘাঁটি নির্মাণের কাজ। এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নিজামউদ্দিন বলেন, পায়রাকে ঘিরে অর্থনীতির চাকা যে কতটা শক্তিশালী হবে তা এই মুহূর্তে বলে বোঝানো যাবে না। কেবল দক্ষিণাঞ্চলই নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নতুন মাত্রা পাবে এ বন্দরের মাধ্যমে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক সফরে গেলে সেখানকার ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে জানতে চায় পায়রা সমুদ্র বন্দর সম্পর্কে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের তো আগ্রহের শেষ নেই। তারা সহজে আর কম খরচে পণ্য পৌঁছাতে যায়। আর সেটা নিশ্চিত করতে পারবে পায়রা সমুদ্র বন্দর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নাব্য সংকটে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না সমুদ্রগামী সব জাহাজ। গভীর সমুদ্রে বহির্নোঙরে জাহাজ ভিড়িয়ে লাইটারেজ জাহাজে করে পণ্য আনতে হয় বন্দরে। এরপর রাজধানীতে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় প্রায় সাড়ে ৩শ’ কিলোমিটার সড়ক পথ। নৌপথে রাজধানীর কাছাকাছি পানগাঁও বন্দরে পৌঁছাতেও পড়তে হয় নানা জটিলতায়। সন্দ্বীপ চ্যানেলে জোয়ারের জন্য জাহাজগুলোকে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অপরদিকে, গভীর সমুদ্রের ফেয়ারওয়ে বয়া থেকে মংলা সমুদ্র বন্দরের দূরত্ব প্রায় ১২৬ কিলোমিটার। এরপর রয়েছে পশুর চ্যানেলের নাব্য সংকট। মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে নৌপথে ঢাকায় যেতে সময় লাগে ২৭-২৮ ঘণ্টা। সড়ক পথেও দূরত্ব সাড়ে ৩শ’ কিলোমিটারের বেশি।
এসব জটিলতার কোনোটিই নেই পায়রা বন্দরে। পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (বন্দর ও সমুদ্র) ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান বলেন, এখান থেকে ঢাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম নাব্য সংকটে পড়তে হবে না জাহাজগুলোতে। চ্যানেলের গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় সব ধরনের সমুদ্রগামী জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে। মংলা কিংবা চট্টগ্রামের মতো বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দেয়া কিংবা লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় পণ্য পরিবহনের প্রয়োজন পড়বে না। সড়ক পথে এখান থেকে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ২৮৬ কিলোমিটার। ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ হবে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত ৪ লেনের সড়ক ও রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। সবকিছু সম্পন্ন হলে এই বন্দর থেকে মাত্র ৫ ঘণ্টায় পণ্য পৌঁছে যাবে ঢাকায়। তাছাড়া দেশের যে কোনো স্থানে খুব সহজে এবং কম সময়ে সড়ক কিংবা নৌপথে পৌঁছানো যাবে পণ্য। যেটা অন্য দুই বন্দরের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।
বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে ৯০ কিলোমিটার আর জেলা শহর পটুয়াখালী থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পায়রা সমুদ্র বন্দর। কলাপাড়া উপজেলা শহরের পূর্ব দক্ষিণ সীমান্তে সাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এ বন্দরে যাওয়ার মূল সড়কটির নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে এরই মধ্যে। প্রায় ১৬ একর জমির ওপর চলছে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। এরই মধ্যে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে জেটি এবং অত্যাধুনিক কনটেইনার ক্যারিয়ার। শুল্ক স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। চলছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, অফিস ভবন এবং আনসার ভবন নির্মাণ। ট্রাক বা কনটেইনার লরি যাতে সরাসরি ঢুকতে পারে সেজন্য অত্যাধুনিক পন্টুন ও কনটেইনার ক্রেনও বসানো হয়েছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, মাদার ভেসেল বন্দরে আসার জন্য কমপক্ষে ৯ মিটার গভীরতা দরকার হয়। রামনাবাদ চ্যানেলে ভাটার সময়েও প্রায় ১৪ মিটার পানি থাকে। ফলে যে কোনো জাহাজ খুব সহজেই এসে ভিড়তে পারবে পায়রা বন্দরে। তবে শুরুতে যেহেতু কেবল নৌপথের ওপর নির্ভর করে বন্দরটি চালুর পরিকল্পনা চলছে, তাই রামনাবাদ চ্যানেলের লালুয়ার চারিপাড়া পয়েন্টে স্থাপন করা হচ্ছে জেটি।
বন্দরের সদস্য ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত দিনক্ষণ ঠিক না হলেও শিগগিরই সীমিত আকারে বন্দরটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত আমরা নৌপথে পণ্য আনা নেয়া অপারেট করব। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এবং ফ্রেইট ফরোয়ার্ড নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মার্চ-এপ্রিলের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে বন্দরটি।
এদিকে পায়রা বন্দরের প্রতি দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে নানা প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে বন্দরে পণ্য উঠানামায় প্রতি টনে ৩৪ টাকা হারে শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু পায়রা বন্দরের ক্ষেত্রে শতকরা ৮০ ভাগ ছাড়ে মাত্র ৬ টাকা ৮০ পয়সা শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ১৯ ডিসেম্বর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে এনবিআরকে। চিঠিতে পায়রা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের ইনভয়েস মূল্যের ওপর আরোপিত শুল্ক, ভ্যাট এবং অগ্রিম আয়করসহ অন্যান্য চার্জে আগামী দুই বছর ৫০ ভাগ হারে ছাড় দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, এই বন্দর ব্যবহারকারীদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই প্রণোদনার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
পায়রা বন্দরে মোট ১৬টি জেটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এখানে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কনটেইনারের সংকুলান হবে। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে সংকুলান হয় মাত্র দেড় হাজার কনটেইনার। ফলে কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের খরচও নেমে আসবে অর্ধেকের নিচে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইমেজ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নির্বাহী পরিচালক হাসান আবিদুর রেজা বলেন, এটি নেপাল ও ভুটানের বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। এছাড়া বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোর স্থাপনের যে পরিকল্পনা চলছে ভৌগোলিক ও অবস্থানগত কারণে তারও প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে পায়রা।
এ বন্দর ঘিরে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, এ বন্দরকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিশেষ এলাকা গড়ে তোলার পাশাপাশি গঠন করা হবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এজন্য এরই মধ্যে ১১৩ একর জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, পায়রা সমুদ্র বন্দরের কাছাকাছি আন্ধারমানিক ও রামনাবাদ নদীর মোহনায় কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ এবং চীনের যৌথ উদ্যোগে চলমান এই প্রকল্প থেকে ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব ছাড়াও এখানে প্রায় ৫০০ একর জমির ওপর চলছে নৌবাহিনীর ঘাঁটি নির্মাণের কাজ। এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নিজামউদ্দিন বলেন, পায়রাকে ঘিরে অর্থনীতির চাকা যে কতটা শক্তিশালী হবে তা এই মুহূর্তে বলে বোঝানো যাবে না। কেবল দক্ষিণাঞ্চলই নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নতুন মাত্রা পাবে এ বন্দরের মাধ্যমে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক সফরে গেলে সেখানকার ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে জানতে চায় পায়রা সমুদ্র বন্দর সম্পর্কে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের তো আগ্রহের শেষ নেই। তারা সহজে আর কম খরচে পণ্য পৌঁছাতে যায়। আর সেটা নিশ্চিত করতে পারবে পায়রা সমুদ্র বন্দর।

No comments:
Post a Comment