নাসিকের বেআইনি কর্মকাণ্ড
জমির মালিকানা নেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক)। তবু পার্ক নির্মাণের খায়েশ। অগত্যা রেল মন্ত্রণালয় ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের জমির খোঁজ। হাতের নাগালে বেশ বড় পরিসরের জমিও পেয়ে যায়। কিন্তু কোনো অনুমোদন না নিয়েই দুটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন সিটি মেয়র আইভী রহমান। শহরের জিমখানা ও সিটি কর্পোরেশনের বন্দর এলাকার সোনাকান্দা এলাকায় পার্ক দুটি নির্মাণে এরই মধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার টেন্ডার দেয়া হয়, যার আংশিক কাজও শুরু হয়েছে। জিমখানা প্রকল্পে কাজ চলমান থাকলেও সোনাকান্দার প্রকল্পটি জেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর বাধার কারণে বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসন জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে, আর অনুমতি ছাড়াই প্রকল্প নেয়ায় ঘোর আপত্তি জানিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান যুগান্তরকে বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বহুবার মেয়র আইভীকে বলেছি, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে আসুন আমরা একসঙ্গে বসে পরিকল্পনা করি। এক টেবিলে বসলে জনগণের অনেক সমস্যার সমাধান ও ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। কিন্তু তিনি আমার কথা শোনেননি। তিনি বলেন, তাই নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকা একই স্থানে কখনও খাল খনন, আবার কখনও ভরাটের নামে খরচ করা কতটা যুক্তিযুক্ত- তা ভেবে দেখতে হবে। তিনি মনে করেন, এ টাকার হিসাব একদিন জনগণকে দিতে হবে।
এদিকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়রের বক্তব্য নিতে প্রতিবেদক বুধবার বিকালে উপস্থিত হন মেয়র কার্যালয়ে। তার একান্ত সচিবের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে মেয়র আইভী রহমান জানিয়ে দেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না। এখন ব্যস্ত আছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর জিমখানা এলাকায় রেলওয়ের বিশাল লেক ও লেক সংলগ্ন এলাকায় পার্ক নির্মাণের জন্য জুন মাসে দরপত্র আহ্বান করে নাসিক। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। অথচ বিনোদন পার্ক নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে প্রায় ৮ কোটি টাকার টেন্ডার (প্রথম ধাপের) কাজ চলছে। ৯ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রত্না এন্টারপ্রাইজকে এ কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সম্প্রতি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা সরেজমিন সত্যতা জানতে আসেন। প্রকল্প এলাকায় এসে কার্যক্রম দেখতে পান তারা। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয়। সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ শুরু করতে গিয়ে এখানে বসবাসরত বস্তির প্রায় এক হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে উচ্ছেদ করে নাসিক।
এ প্রসঙ্গে রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি বা অনুমোদন নেয়নি এবং অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই আসে না। কেননা রেলওয়ে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান। রেলের জায়গায় সিটি কর্পোরেশন এভাবে কোনো প্রকল্প নিতে পারে না। উনি (মেয়র) যা করছেন তা সম্পূর্ণ বেআইনি।’
অপরদিকে শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে বন্দরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সোনাকান্দা মাঠে একটি ইকো পার্ক করার সিদ্ধান্ত নেয় নাসিক। কিন্তু এখানেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। জমির মালিক জেলা প্রশাসন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন জেলা প্রশাসনের জায়গায় পার্ক নির্মাণ করতে প্রকল্প গ্রহণ করে। এজন্য গত বছরের ২৬ ফেব্র“য়ারি প্রথম দফায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। অথচ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। তাছাড়া এখানকার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ ও হাটে পার্ক নির্মাণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে এলাকাবাসী। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর বাধার মুখে ৮ মাস ধরে পার্ক নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘সোনাকান্দা হাটের জায়গাটি আমাদের এবং সেখানে পার্ক করার জন্য সিটি কর্পোরেশন কোনো অনুমতি বা লিজের জন্যও আবেদন করেনি। এমনকি আমাদের ন্যূনতম অবগত করারও প্রয়োজন মনে করেনি। বিষয়টি আইন-কানুনের মধ্যে পড়ে না।’
এদিকে বিতর্কিত প্রকল্প দুটিতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ব্যবহার করায় এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন খোদ সরকারি দলের নেতারা। প্রসঙ্গত জিমখানা প্রকল্পটি বেগম ফজিলাতুন্নেসার নামে এবং বন্দরের প্রকল্পটি শেখ রাসেলের নামে নামকরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ব্যবহার করতে হলে এ পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন কোনো অনুমতি নিয়েছে কিনা আমরা জানি না। তাছাড়া অনুমতিবিহীন প্রকল্পে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ব্যবহার করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা জানান, বন্দরের সোনাকান্দা ও শহরের জিমখানা প্রকল্পে প্রশাসনিক বাধা এবং জনতার আপত্তি অতিক্রম করতেই প্রকল্পের নামকরণে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে বেছে নেয়া হয়েছে। তবে আইভীর এ কূটকৌশল জাতির কাছে তাদের সম্মানিত করার পরিবর্তে ছোট করেছে।
বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশীদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের প্রায় ১১ একর জমি দখল করেই নাসিক এ পার্ক নির্মাণের কাজ করছে। আর এমন প্রকল্পে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে তাদের প্রকারান্তরে হেয় করা হচ্ছে। তবে আমরা জীবন থাকতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নামকে অপব্যবহার হতে দেব না।’
তবে এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও মেয়র আইভীর ভগ্নিপতি আবদুল কাদির বলেন, বিষয়টি আইভী ও নেত্রী বুঝবেন, এটা নিয়ে অন্য কারও মাথা ঘামানোর দরকার নেই। আসলে বাস্তবতা হল, মেয়রের উন্নয়ন দেখে অনেকের গাত্রদাহ হচ্ছে। তাই এভাবে অপপ্রচারের পথ বেছে নেয়া হয়েছে।
এদিকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়রের বক্তব্য নিতে প্রতিবেদক বুধবার বিকালে উপস্থিত হন মেয়র কার্যালয়ে। তার একান্ত সচিবের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে মেয়র আইভী রহমান জানিয়ে দেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না। এখন ব্যস্ত আছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর জিমখানা এলাকায় রেলওয়ের বিশাল লেক ও লেক সংলগ্ন এলাকায় পার্ক নির্মাণের জন্য জুন মাসে দরপত্র আহ্বান করে নাসিক। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। অথচ বিনোদন পার্ক নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে প্রায় ৮ কোটি টাকার টেন্ডার (প্রথম ধাপের) কাজ চলছে। ৯ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রত্না এন্টারপ্রাইজকে এ কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সম্প্রতি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা সরেজমিন সত্যতা জানতে আসেন। প্রকল্প এলাকায় এসে কার্যক্রম দেখতে পান তারা। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয়। সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ শুরু করতে গিয়ে এখানে বসবাসরত বস্তির প্রায় এক হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে উচ্ছেদ করে নাসিক।
এ প্রসঙ্গে রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি বা অনুমোদন নেয়নি এবং অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই আসে না। কেননা রেলওয়ে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান। রেলের জায়গায় সিটি কর্পোরেশন এভাবে কোনো প্রকল্প নিতে পারে না। উনি (মেয়র) যা করছেন তা সম্পূর্ণ বেআইনি।’
অপরদিকে শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে বন্দরের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সোনাকান্দা মাঠে একটি ইকো পার্ক করার সিদ্ধান্ত নেয় নাসিক। কিন্তু এখানেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। জমির মালিক জেলা প্রশাসন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন জেলা প্রশাসনের জায়গায় পার্ক নির্মাণ করতে প্রকল্প গ্রহণ করে। এজন্য গত বছরের ২৬ ফেব্র“য়ারি প্রথম দফায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। অথচ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। তাছাড়া এখানকার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ ও হাটে পার্ক নির্মাণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে এলাকাবাসী। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর বাধার মুখে ৮ মাস ধরে পার্ক নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘সোনাকান্দা হাটের জায়গাটি আমাদের এবং সেখানে পার্ক করার জন্য সিটি কর্পোরেশন কোনো অনুমতি বা লিজের জন্যও আবেদন করেনি। এমনকি আমাদের ন্যূনতম অবগত করারও প্রয়োজন মনে করেনি। বিষয়টি আইন-কানুনের মধ্যে পড়ে না।’
এদিকে বিতর্কিত প্রকল্প দুটিতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ব্যবহার করায় এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন খোদ সরকারি দলের নেতারা। প্রসঙ্গত জিমখানা প্রকল্পটি বেগম ফজিলাতুন্নেসার নামে এবং বন্দরের প্রকল্পটি শেখ রাসেলের নামে নামকরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ব্যবহার করতে হলে এ পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন কোনো অনুমতি নিয়েছে কিনা আমরা জানি না। তাছাড়া অনুমতিবিহীন প্রকল্পে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ব্যবহার করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা জানান, বন্দরের সোনাকান্দা ও শহরের জিমখানা প্রকল্পে প্রশাসনিক বাধা এবং জনতার আপত্তি অতিক্রম করতেই প্রকল্পের নামকরণে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে বেছে নেয়া হয়েছে। তবে আইভীর এ কূটকৌশল জাতির কাছে তাদের সম্মানিত করার পরিবর্তে ছোট করেছে।
বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশীদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের প্রায় ১১ একর জমি দখল করেই নাসিক এ পার্ক নির্মাণের কাজ করছে। আর এমন প্রকল্পে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে তাদের প্রকারান্তরে হেয় করা হচ্ছে। তবে আমরা জীবন থাকতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নামকে অপব্যবহার হতে দেব না।’
তবে এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও মেয়র আইভীর ভগ্নিপতি আবদুল কাদির বলেন, বিষয়টি আইভী ও নেত্রী বুঝবেন, এটা নিয়ে অন্য কারও মাথা ঘামানোর দরকার নেই। আসলে বাস্তবতা হল, মেয়রের উন্নয়ন দেখে অনেকের গাত্রদাহ হচ্ছে। তাই এভাবে অপপ্রচারের পথ বেছে নেয়া হয়েছে।

No comments:
Post a Comment