Thursday, February 18, 2016

কর্মকর্তাদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, ৫ ঘণ্টা বন্ধ বেনাপোল বন্দর

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের যুগ্ম-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ও ডেপুটি কমিশনার নিতিশ চন্দ্রের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাস্টমস হাউজ ও বন্দরে কোনো কাজ হয়নি।
জেলা পুলিশ সুপার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের আশ্বাস দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫টার পর থেকে কাজে যোগ দেন।
কাস্টমস হাউজের প্রশাসনিক ভবনের নীচ তলায় সিঁড়ির পাশে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার প্রতিবাদে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমস ও বন্দরের সকল কাজকর্ম বন্ধ করে কালোব্যাজ ধারণ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
হামলার জন্য ছাত্রলীগ 'সন্ত্রাসীদের' দায়ী করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তারা বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দর ও হাউজের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
এ ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা হয়েছে। বর্তমানে কাস্টমস হাউজে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের যুগ্ম-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত কমিশনার ফিরোজ উদ্দিনের রুমে সভা শেষে তিনি দ্বিতীয় তলায় তার রুমে যাচ্ছিলেন।
এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক ভবনের নীচ তলায় সিঁড়ির সামনে স্থানীয় ছাত্রলীগের একদল 'সন্ত্রাসী' অবৈধ নিলাম সুবিধা নেয়ার জন্য তাকে জোরপূর্বক সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে এবং কাস্টমস হাউজের বাইরে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
'সন্ত্রাসীদের' অনেকে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি এসব নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে 'সন্ত্রাসীরা' তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে প্রাণনাশের চেষ্টা চালায়।
মোস্তাফিজুর রহমানকে বাঁচাতে ডেপুটি কমিশনার নিতীশ চন্দ্র এগিয়ে এলে তার ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে 'সন্ত্রাসীরা' পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।
এ খবর কাস্টমস হাউজ ও বন্দরে পৌঁছুলে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়ে তারা কালোব্যাজ ধারণ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কাস্টমস হাউজের সামনে কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন পালন করেন। আসামিদের আটকে প্রশাসন ব্যর্থ হলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কলম বিরতি এবং ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে খবর পেয়ে বিকাল ৪টার দিকে যশোর জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সালাম, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান কাস্টমস হাউজ পরিদর্শন করেন।
পরে তারা কাস্টমস কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।
বৈঠক থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার জানান, কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন করা হবে। রাজস্ব আহরণের স্বার্থে তাদেরকে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
তারা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক করা হবে। সন্ত্রাসী যেই হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়শেনের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুজ্জামান জানান, নিলামের পণ্য কমমূল্যে হাতিয়ে নিতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যুগ্ম-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ও ডেপুটি কমিশনার নিতীশ চন্দ্রের ওপর হামলা করেছে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের আটক পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খান জানান, 'বহিরাগত এক দল সন্ত্রাসী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কিছু সময় কাজ বন্ধ ছিল।'
তিনি আরো জানান, ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের সনাক্ত করে থানায় মামলা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের আশ্বাসে সরকারি রাজস্ব আহরণের স্বার্থে জরুরি সভা করে কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিকাল ৫টার পর থেকে কাস্টমস হাউজ ও বন্দরে স্বাভাবিক কাজ চলছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কাস্টমস হাউজে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০/৩০ জনকে আসামি করে যুগ্ম-কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে বুধবার বিকালে পোর্ট থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলা নং-৫২। আসামিদের আটকে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

No comments:

Post a Comment