গত ৫ বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার সরাসরি
বিদেশী বিনিয়োগের প্রত্যাশা করেছিল সরকার। কিন্তু প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ৬
দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার দেশীয় বিনিয়োগের চেয়ে সরকার বিদেশী বিনিয়োগকেই বেশি
উৎসাহ দিচ্ছে। এজন্য দেয়া হচ্ছে বিশেষ প্রণোদনা, অনেক সুবিধা। কিন্তু
তারপরও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হচ্ছে না। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগও তেমন
কাজে আসছে না। প্রতি বছরই দেশে এবং দেশের বাইরে রোড শো করে প্রচুর পরিমাণ
অর্থ ব্যয় করছে বিনিয়োগ বোর্ড। ষষ্ঠ-পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়ও বিনিয়োগকে
সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। দেশীয় উদ্যোক্তাদের তুলনায় বাংলাদেশে
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবারিত সুযোগ পাচ্ছে বিদেশীরা। তারপরও কাক্সিক্ষত হারে
বিনিয়োগ বাড়ছে না।
জানা গেছে, গত ৫ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রত্যাশা করেছিল সরকার। কিন্তু প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। তবে এ প্রতিশ্রুতির কতটুকু কার্যকর হয়েছে বা হচ্ছে তার কোনো হিসাব নেই বিনিয়োগ বোর্ডের কাছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে বিনিয়োগ না হওয়ার মূল কারণ গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো সমস্যা, দুর্নীতি ও নিরাপত্তার অভাব। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেও দায়ী করা হচ্ছে। ঋণের উচ্চ সুদহারও একটি বড় কারণ। এসব সমস্যার সমাধান না হলে কাক্সিক্ষত হারে বিনিয়োগ বাড়বে না। এ সময়ে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে বড় দুটি কারণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে- অবকাঠামো সমস্যা ও দুর্নীতি। তিনি বলেন, যে দেশে দুর্নীতি বেশি থাকে, বিদেশীরা সেখানে আসতে চায় না। বিদেশে টাকা নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, যারা এক্সচেঞ্জ হাউস খুলছে, তারা সরকারের অনুমোদন নিয়ে বিদেশে কিছু টাকা নিতে পারে। তবে ২ বছর থেকে দেখা যাচ্ছে বিনিয়োগ কম হলেও আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে। তার মতে, দেশে বিনিয়োগ নেই; কিন্তু আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এটি ভালো লক্ষণ নয়। সরকারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।
পাঁচ বছরে বিনিয়োগ : বাংলাদেশে দুই ধরনের বিদেশী বিনিয়োগ আসে। একটি হল এফডিআই এবং অপরটি শেয়ারবাজারের মাধ্যমে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ। তবে পোর্টফোলিও বিনিয়োগে দেশের খুব বেশি লাভ হয় না। কারণ এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে, মুনাফা হলে সহজেই দেশে নিয়ে যায়। কিন্তু এফডিআই এলে দেশে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য অনুসারে গত ৫ বছরে ৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসেবে স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, ২০১৩ সালে ১৫৯ কোটি ৯১ লাখ ডলার, ২০১২ সালে ১২৯ কোটি ২৫ লাখ ডলার, ২০১১ সালে ১১৩ কোটি ৬৩ লাখ ডলার এবং ২০১০ সালে ৯১ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছে।
বিদেশী কোম্পানির সুবিধা : বিনিয়োগ বোর্ড সূত্র জানায়, বর্তমানে কোনো বিদেশী উদ্যোক্তা এককভাবে অথবা যৌথ মালিকানায় করলে তাদের জন্য বিশাল সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিনিয়োগ করলে প্রথম ২ বছরের জন্য ১০০ শতাংশ কর অবকাশ, তৃতীয় ও চতুর্থ বছরের জন্য ৫০ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ২৫ শতাংশ কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়। রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল বিভাগ এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় বিনিয়োগ করলে প্রথম ৩ বছর ১০০ শতাংশ কর অবকাশ, পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং সপ্তম বছরের জন্য ২৫ শতাংশ কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়। নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতির জন্য প্রথম বছরে ৫০ শতাংশ অবচয় সুবিধা, দ্বিতীয় বছরে ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ৩০ শতাংশ অবচয় সুবিধা দেয়া হয়। উৎপাদিত পণ্যের ৮০ শতাংশের বেশি রফতানি করলে শুল্কমুক্ত যন্ত্রাংশ আমদানি এবং আলাদা বন্ডেড ওয়্যার হাউজিং সুবিধা দেয়া হয়। এছাড়া এলসির (ঋণপত্র) বিপরীতে ৯০ শতাংশ ঋণ এবং রফতানি উন্নয়নে তহবিল দেয়া হয়। রয়েছে রফতানি ঋণ গ্যারান্টি স্কিমও। ইপিজেডের বাইরে শতভাগ রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানকেও স্থানীয় মার্কেটে একই শুল্কে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিপণনের সুযোগ দেয়া হয়। সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ৫ থেকে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া বিদেশী উদ্যোক্তা মাত্র ৭৫ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে স্থায়ী আবাসন সুবিধা এবং ৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়। তবে দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে পদে পদে জটিলতা রয়েছে।
বিদেশী বিনিয়োগের ৫৫ শতাংশই শীর্ষ ৫ দেশের : দেশে এফডিআইর প্রায় ৫৫ শতাংশই শীর্ষ ৫ দেশের। গত এক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে ৫ দেশের ৬৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার। সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ যুক্তরাজ্যের। আলোচ্য সময়ে দেশটির বিনিয়োগ ১৮ কোটি ৯ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ১৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। এরপর পাকিস্তানের ১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার, সিঙ্গাপুরের ১১ কোটি ৭১ লাখ ডলার এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা হংকংয়ের বিনিয়োগ ১১ কোটি ৪১ লাখ ডলার।
মুনাফা হিসেবে টাকা বিদেশে যাচ্ছে : গত ৫ বছরে বিদেশীরা বিনিয়োগের মুনাফা হিসেবে ১৬ কোটি ১০ লাখ ডলার নিয়ে গেছে। প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসেবে স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা নিয়েছে ২০১২ সালে। এ সময়ে টাকা নেয়ার পরিমাণ ছিল ৪২৪ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৪ সালে নিয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ২০১৩ সালে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, ২০১১ সালে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং ২০১০ সালে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার নিয়ে গেছে।
বিনিয়োগ বোর্ডের বক্তব্য : জানতে চাইলে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্রমণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে অন্যান্য দেশেরও ধারণা পরিবর্তন হচ্ছে। বিনিয়োগ বোর্ড এরই মধ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশে সেমিনার এবং রোড শো করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলাফল পাওয়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে সময় লাগবে। তিনি বলেন, কিছু দেশ অব্যাহতভাবে বিনিয়োগ করেছে। কারণ এ দেশের সম্ভাবনার ব্যাপারেও তাদের ধারণা রয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশী টাকা নেয়াকে বিনিয়োগ আউট ফ্লো বলে। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গ্যাস সেক্টরে হয়েছে। অর্থাৎ বিদেশীরা যে টাকা বিনিয়োগ করেছে, তার থেকে মুনাফা নিয়ে গেছে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নিতে হয়। বিনিয়োগ বোর্ড শুধু তথ্য সংগ্রহ করে।
জানা গেছে, গত ৫ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রত্যাশা করেছিল সরকার। কিন্তু প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। তবে এ প্রতিশ্রুতির কতটুকু কার্যকর হয়েছে বা হচ্ছে তার কোনো হিসাব নেই বিনিয়োগ বোর্ডের কাছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে বিনিয়োগ না হওয়ার মূল কারণ গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো সমস্যা, দুর্নীতি ও নিরাপত্তার অভাব। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেও দায়ী করা হচ্ছে। ঋণের উচ্চ সুদহারও একটি বড় কারণ। এসব সমস্যার সমাধান না হলে কাক্সিক্ষত হারে বিনিয়োগ বাড়বে না। এ সময়ে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ না হওয়ার পেছনে বড় দুটি কারণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে- অবকাঠামো সমস্যা ও দুর্নীতি। তিনি বলেন, যে দেশে দুর্নীতি বেশি থাকে, বিদেশীরা সেখানে আসতে চায় না। বিদেশে টাকা নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, যারা এক্সচেঞ্জ হাউস খুলছে, তারা সরকারের অনুমোদন নিয়ে বিদেশে কিছু টাকা নিতে পারে। তবে ২ বছর থেকে দেখা যাচ্ছে বিনিয়োগ কম হলেও আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করা হচ্ছে। তার মতে, দেশে বিনিয়োগ নেই; কিন্তু আমদানি ব্যয় বাড়ছে। এটি ভালো লক্ষণ নয়। সরকারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।
পাঁচ বছরে বিনিয়োগ : বাংলাদেশে দুই ধরনের বিদেশী বিনিয়োগ আসে। একটি হল এফডিআই এবং অপরটি শেয়ারবাজারের মাধ্যমে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ। তবে পোর্টফোলিও বিনিয়োগে দেশের খুব বেশি লাভ হয় না। কারণ এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে, মুনাফা হলে সহজেই দেশে নিয়ে যায়। কিন্তু এফডিআই এলে দেশে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য অনুসারে গত ৫ বছরে ৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসেবে স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, ২০১৩ সালে ১৫৯ কোটি ৯১ লাখ ডলার, ২০১২ সালে ১২৯ কোটি ২৫ লাখ ডলার, ২০১১ সালে ১১৩ কোটি ৬৩ লাখ ডলার এবং ২০১০ সালে ৯১ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছে।
বিদেশী কোম্পানির সুবিধা : বিনিয়োগ বোর্ড সূত্র জানায়, বর্তমানে কোনো বিদেশী উদ্যোক্তা এককভাবে অথবা যৌথ মালিকানায় করলে তাদের জন্য বিশাল সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিনিয়োগ করলে প্রথম ২ বছরের জন্য ১০০ শতাংশ কর অবকাশ, তৃতীয় ও চতুর্থ বছরের জন্য ৫০ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ২৫ শতাংশ কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়। রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল বিভাগ এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় বিনিয়োগ করলে প্রথম ৩ বছর ১০০ শতাংশ কর অবকাশ, পরবর্তী তিন বছর ৫০ শতাংশ এবং সপ্তম বছরের জন্য ২৫ শতাংশ কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়। নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতির জন্য প্রথম বছরে ৫০ শতাংশ অবচয় সুবিধা, দ্বিতীয় বছরে ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরে ৩০ শতাংশ অবচয় সুবিধা দেয়া হয়। উৎপাদিত পণ্যের ৮০ শতাংশের বেশি রফতানি করলে শুল্কমুক্ত যন্ত্রাংশ আমদানি এবং আলাদা বন্ডেড ওয়্যার হাউজিং সুবিধা দেয়া হয়। এছাড়া এলসির (ঋণপত্র) বিপরীতে ৯০ শতাংশ ঋণ এবং রফতানি উন্নয়নে তহবিল দেয়া হয়। রয়েছে রফতানি ঋণ গ্যারান্টি স্কিমও। ইপিজেডের বাইরে শতভাগ রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানকেও স্থানীয় মার্কেটে একই শুল্কে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিপণনের সুযোগ দেয়া হয়। সুনির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ৫ থেকে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া বিদেশী উদ্যোক্তা মাত্র ৭৫ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে স্থায়ী আবাসন সুবিধা এবং ৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়। তবে দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে পদে পদে জটিলতা রয়েছে।
বিদেশী বিনিয়োগের ৫৫ শতাংশই শীর্ষ ৫ দেশের : দেশে এফডিআইর প্রায় ৫৫ শতাংশই শীর্ষ ৫ দেশের। গত এক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এফডিআই এসেছে। এর মধ্যে ৫ দেশের ৬৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার। সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ যুক্তরাজ্যের। আলোচ্য সময়ে দেশটির বিনিয়োগ ১৮ কোটি ৯ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ১৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। এরপর পাকিস্তানের ১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার, সিঙ্গাপুরের ১১ কোটি ৭১ লাখ ডলার এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা হংকংয়ের বিনিয়োগ ১১ কোটি ৪১ লাখ ডলার।
মুনাফা হিসেবে টাকা বিদেশে যাচ্ছে : গত ৫ বছরে বিদেশীরা বিনিয়োগের মুনাফা হিসেবে ১৬ কোটি ১০ লাখ ডলার নিয়ে গেছে। প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসেবে স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা নিয়েছে ২০১২ সালে। এ সময়ে টাকা নেয়ার পরিমাণ ছিল ৪২৪ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৪ সালে নিয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ২০১৩ সালে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, ২০১১ সালে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং ২০১০ সালে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার নিয়ে গেছে।
বিনিয়োগ বোর্ডের বক্তব্য : জানতে চাইলে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্রমণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে অন্যান্য দেশেরও ধারণা পরিবর্তন হচ্ছে। বিনিয়োগ বোর্ড এরই মধ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশে সেমিনার এবং রোড শো করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলাফল পাওয়া যাবে। তবে এক্ষেত্রে সময় লাগবে। তিনি বলেন, কিছু দেশ অব্যাহতভাবে বিনিয়োগ করেছে। কারণ এ দেশের সম্ভাবনার ব্যাপারেও তাদের ধারণা রয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশী টাকা নেয়াকে বিনিয়োগ আউট ফ্লো বলে। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গ্যাস সেক্টরে হয়েছে। অর্থাৎ বিদেশীরা যে টাকা বিনিয়োগ করেছে, তার থেকে মুনাফা নিয়ে গেছে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নিতে হয়। বিনিয়োগ বোর্ড শুধু তথ্য সংগ্রহ করে।

No comments:
Post a Comment