![]() |
| রাজধানীর উত্তরায় একটি বাসার রান্নাঘরে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হয়েছে এই শিশুটিসহ তার পরিবারের পাঁচজন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে সে চিকিৎসাধীন |
২০
ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর বাড়ির ভাড়া করা
নতুন ফ্ল্যাটে ওঠেন মার্কিন দূতাবাসের প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ (৫০)। নতুন বাসায়
সংসার গোছানো চলছিল। আজ শুক্রবার খুব ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করতে ওঠেন
তিনি। ১৪ মাস বয়সী ছেলে জায়ানকে কোলে নিয়ে খাবারের ঘরে পায়চারি করছিলেন। এ
সময় রান্নাঘরে যান স্ত্রী সুমাইয়া (৩৫)। বড় দুই ছেলে সারলিন (১৫) আর জারিফ
(৯) নিজেদের কক্ষে গভীর ঘুমে।
শিগগিরই ভয়ংকর বিপদ নেমে আসে পাঁচজনের জীবনে। সুমাইয়া রান্না ঘরে গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে যাবেন, দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। নিমেষে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে। দগ্ধ হন তিন সন্তানসহ বাবা-মা। মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায় আনন্দে ভরা একটি সংসার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
মারাত্মক দগ্ধ পাঁচজন এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক মুন্নী মমতাজ বলেন, চারজনেরই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। গৃহকর্তা শাহনেওয়াজ ও স্ত্রী সুমাইয়ার শরীরের ৯৫ ভাগ পুড়েছে। বড় ছেলে সারলিনের ৮৮ ভাগ ও ছোট ছেলে জায়ানের শরীরের ৭৪ ভাগ পুড়ে গেছে। মেজ ছেলে জারিফের ছয় ভাগ পুড়ে যাওয়ায় তার অবস্থা তুলনামূলক ভালো। এ ধরনের দগ্ধ মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম থাকে।
শাহনেওয়াজ ও তাঁর স্ত্রীকে বার্ন ইউনিটের হাই ডিপেনডেনসি ইউনিটে (এইচডিইউ) এবং সারলিন ও জায়ানকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সারলিন মারা যায়। জারিফকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান মুন্নী মমতাজ।
শাহনেওয়াজের স্বজন ও পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের ভাষ্য, নতুন ফ্ল্যাটে ওঠার পর বাড়িওয়ালা দেলোয়ার হোসেনের কাছে গ্যাস লাইনের ছিদ্র থেকে গ্যাস বের হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গ্যাস লাইনের কাজ করানো হলে হয়তো পাঁচটি তাজা প্রাণ এমন সংকটে পড়ত না।
শাহনেওয়াজের পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ হয়। মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে বা বাড়িটি বোধ হয় ভেঙে পড়ছিল। ঘরের দরজা খুললে দেখা যায়, পাশের ফ্ল্যাটে আগুন ধরেছে। ছটফট করতে করতে ফ্ল্যাট থেকে লোকজন বের হয়ে আসেন। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে পাশের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দিতে না পারায় অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁদের। সেখানেও সুরাহা না হলে শেষে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বের হওয়ার সময় অন্য ফ্ল্যাটগুলোর দরজা ধাক্কা দেন শাহনেওয়াজ। ফ্ল্যাটগুলোর দরজায় পোড়া চামড়ার ছিন্নভিন্ন অংশ লেগে আছে।
ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, ফ্ল্যাটটির দুটি কক্ষ, রান্নাঘর ও খাবার ঘর সবই ছিল লন্ডভন্ড। বেশি পুড়েছে ফ্ল্যাটের পেছন দিকে থাকা রান্নাঘরটি। প্লাস্টিকের জিনিস ও দাহ্য বস্তু সবই পুড়ে গেছে। সব কক্ষের দেয়ালে লেগে ছিল পোড়া চামড়া।
বার্ন ইউনিটে শাহনেওয়াজের ফুপাতো বোন আরমিন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে ছটফট করার সময়ও আমার ভাই বলছিল যে, আপা আমারে আগুন ধাক্কা দিয়েছে। বাড়িওয়ালাকে গ্যাস লিক হওয়ার কথার বলেছিলাম। এত বড় একটি ঘটনা। পাঁচজন পুড়ে গেল! কিন্তু বাড়িওয়ালা একবারের জন্যও হাসপাতাল কিংবা ঘটনাস্থলে যাননি।
শাহনেওয়াজের ভাগনে নাজমুস সাকিব প্রথম আলোকে বলেন, বাড়িতে ওঠার পর গ্যাস জাতীয় গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি মামা বাড়িওয়ালাকে বলেছিলেন। বৃহস্পতিবারও একই অভিযোগ করা হয়।
তবে ভবনটির মালিক দেলোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক সালেহ বলেন, এখানে প্রায়ই গ্যাস থাকে না। গ্যাস না থাকার বিষয়ে স্থানীয় তিতাস গ্যাস কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আতিকুল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাসের চুলা বন্ধ থাকলেও পাইপের কোনো অংশে হয়তো লিক ছিল। দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা-জানাল বন্ধ ছিল। এ কারণে চুলা ধরাতে গিয়ে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে।
উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার কারণ সম্পর্কে বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
শিগগিরই ভয়ংকর বিপদ নেমে আসে পাঁচজনের জীবনে। সুমাইয়া রান্না ঘরে গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে যাবেন, দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। নিমেষে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে। দগ্ধ হন তিন সন্তানসহ বাবা-মা। মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায় আনন্দে ভরা একটি সংসার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
মারাত্মক দগ্ধ পাঁচজন এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক মুন্নী মমতাজ বলেন, চারজনেরই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। গৃহকর্তা শাহনেওয়াজ ও স্ত্রী সুমাইয়ার শরীরের ৯৫ ভাগ পুড়েছে। বড় ছেলে সারলিনের ৮৮ ভাগ ও ছোট ছেলে জায়ানের শরীরের ৭৪ ভাগ পুড়ে গেছে। মেজ ছেলে জারিফের ছয় ভাগ পুড়ে যাওয়ায় তার অবস্থা তুলনামূলক ভালো। এ ধরনের দগ্ধ মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম থাকে।
শাহনেওয়াজ ও তাঁর স্ত্রীকে বার্ন ইউনিটের হাই ডিপেনডেনসি ইউনিটে (এইচডিইউ) এবং সারলিন ও জায়ানকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সারলিন মারা যায়। জারিফকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান মুন্নী মমতাজ।
শাহনেওয়াজের স্বজন ও পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের ভাষ্য, নতুন ফ্ল্যাটে ওঠার পর বাড়িওয়ালা দেলোয়ার হোসেনের কাছে গ্যাস লাইনের ছিদ্র থেকে গ্যাস বের হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গ্যাস লাইনের কাজ করানো হলে হয়তো পাঁচটি তাজা প্রাণ এমন সংকটে পড়ত না।
শাহনেওয়াজের পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ হয়। মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে বা বাড়িটি বোধ হয় ভেঙে পড়ছিল। ঘরের দরজা খুললে দেখা যায়, পাশের ফ্ল্যাটে আগুন ধরেছে। ছটফট করতে করতে ফ্ল্যাট থেকে লোকজন বের হয়ে আসেন। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে পাশের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দিতে না পারায় অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁদের। সেখানেও সুরাহা না হলে শেষে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বের হওয়ার সময় অন্য ফ্ল্যাটগুলোর দরজা ধাক্কা দেন শাহনেওয়াজ। ফ্ল্যাটগুলোর দরজায় পোড়া চামড়ার ছিন্নভিন্ন অংশ লেগে আছে।
ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, ফ্ল্যাটটির দুটি কক্ষ, রান্নাঘর ও খাবার ঘর সবই ছিল লন্ডভন্ড। বেশি পুড়েছে ফ্ল্যাটের পেছন দিকে থাকা রান্নাঘরটি। প্লাস্টিকের জিনিস ও দাহ্য বস্তু সবই পুড়ে গেছে। সব কক্ষের দেয়ালে লেগে ছিল পোড়া চামড়া।
বার্ন ইউনিটে শাহনেওয়াজের ফুপাতো বোন আরমিন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে ছটফট করার সময়ও আমার ভাই বলছিল যে, আপা আমারে আগুন ধাক্কা দিয়েছে। বাড়িওয়ালাকে গ্যাস লিক হওয়ার কথার বলেছিলাম। এত বড় একটি ঘটনা। পাঁচজন পুড়ে গেল! কিন্তু বাড়িওয়ালা একবারের জন্যও হাসপাতাল কিংবা ঘটনাস্থলে যাননি।
শাহনেওয়াজের ভাগনে নাজমুস সাকিব প্রথম আলোকে বলেন, বাড়িতে ওঠার পর গ্যাস জাতীয় গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি মামা বাড়িওয়ালাকে বলেছিলেন। বৃহস্পতিবারও একই অভিযোগ করা হয়।
তবে ভবনটির মালিক দেলোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক সালেহ বলেন, এখানে প্রায়ই গ্যাস থাকে না। গ্যাস না থাকার বিষয়ে স্থানীয় তিতাস গ্যাস কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আতিকুল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাসের চুলা বন্ধ থাকলেও পাইপের কোনো অংশে হয়তো লিক ছিল। দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটের দরজা-জানাল বন্ধ ছিল। এ কারণে চুলা ধরাতে গিয়ে গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে।
উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার কারণ সম্পর্কে বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

No comments:
Post a Comment