ভাষার
মাস চেতনার মাস। একুশের চেতনা বাংলা ভাষা, বাঙালি জাতি আর বাংলাদেশের
মানুষের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা-বেদনাকে উপলব্ধির। একুশের চেতনা একটি
জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর অভিমুখে, ধ্বংস থেকে নির্মাণের অভিযাত্রায় শামিল
করেছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের শহীদেরা অকাতরে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে
আমাদের একুশের প্রতিজ্ঞায় পথ দেখিয়েছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও
সত্যি যে, তাদের আত্মত্যাগের ৬৪ বছর পেরিয়ে এসেও আমরা স্বাধীন বাঙালি জাতি
স্বাধীন দেশে বাস করেও আজ পর্যন্ত শিক্ষার সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে চালু
করতে পারিনি। এখনও বিচার বিভাগের রায় ইংরেজিতে লেখা হয়। আমরা এখন পর্যন্ত
বাংলা ভাষা শুদ্ধ ভাষায় বলতে, লিখতে এবং পড়তে অক্ষম। শব্দের ভুল উচ্চারণ
করে, ভুল বাক্য ব্যবহার করে- বাক্য শুরু করলে শেষ করতে পারি না। বাংলা
ভাষার সঙ্গে ইংরেজি মিলিয়ে যে গুরুচণ্ডালী ভাষায় কথা বলা হয়, তা দুটি
ভাষারই অপব্যবহারে অমর্যাদার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার এ কথাগুলো বুঝতে খুব
বেশি দূরে যেতে হবে না। ঘরের টেলিভিশনটির সুুইচ অন করলেই যে কেউ চাক্ষুষ
প্রমাণ পেয়ে যাবেন। দেশে এখন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংখ্যা অনেক- এগুলোতে
অবিরাম ভুল শব্দ উচ্চারণে, ভুল বাক্যে বাংলা ভাষার অপব্যবহার, অশুদ্ধ
ব্যবহার চলছে। এটা খুব বেদনাদায়ক বাস্তবতা।
বাংলা ভাষায় বিশ্বমানের অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। কিন্তু সেগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে আমাদের সাহিত্যের বৈশ্বিক মূল্যায়ন আমরা পাইনি। সেদিক থেকে বাংলা ভাষার বৈশ্বিক অধিকার আমরা অর্জন করতে পারিনি। এজন্য যে শ্রম ও মেধার বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল, তা প্রদান করা হয়নি। বাংলা ভাষার সাহিত্য অন্য ভাষায় অনুবাদের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এ কাজ সরকারকে করতে হবে। অনুবাদের ওপর আমাদের জোর দিতে হবে। শুধু সাহিত্যকে বিশ্বে পরিচিত করতে তা না, অন্য ভাষায় প্রয়োজনীয় জ্ঞানও আমাদের ভাষায় রূপান্তর করতে হবে শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্যও যেমন- মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষিবিজ্ঞান বা পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানের বই-পুস্তক প্রচুর পরিমাণে বাংলায় অনুবাদ করতে হবে। অর্থাৎ, শুদ্ধভাবে মাতৃভাষার চর্চা করতে হবে; বিদেশী ভাষারও শুদ্ধ চর্চা করতে হবে।
মান বাংলা তৈরির কাজে আমাদের আন্তরিক হতে হবে। বাংলা এত সুন্দর ভাষা, এত মিষ্টি ভাষা, এত নান্দনিক ভাষা অথচ এ ভাষার সেই গুণাবলিকে ক্ষুণ্ণ করছে আঞ্চলিকতা। আঞ্চলিকতার দূষণমুক্ত সুন্দর মান বাংলা প্রমিত বাংলা গড়ে তোলা এখন আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।
মান বাংলা তথা প্রমিত বাংলার ভয়ংকর প্রতিপক্ষ বর্তমানে এফএম রেডিও। এফএম রেডিওতে অদ্ভুত ধরনের এক বাংলা চর্চা শুরু হয়েছে যেটা না বাংলা, না ইংরেজি, না বাংলিশ! এটা তরুণ প্রজন্মের ক্ষতি করছে। এফএম রেডিও খুবই ক্ষতি করছে বাংলা ভাষার। বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও এফএম রেডিওয় বাংলা ব্যবহারে যে নৈরাজ্য চলছে, সেটা ঠেকাতে এ মাধ্যমের তরুণ কর্মীদের মান বাংলা শিক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি বলে আমি মনে করি। কেননা গণমাধ্যম খুব প্রভাবশালী। গণমাধ্যমের কাজ জনগণকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলায় অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখা, তার বদলে গণমাধ্যম যদি অশিক্ষা, অসম্পূর্ণ শিক্ষাকে ছড়িয়ে দেয় সেটা সবার জন্যই ক্ষতিকর। এ ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে দেশের ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এফএম রেডিওগুলোকে ফেরাতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভীষণ শিল্প-সংস্কৃতিবান্ধব। তিনি নিজেও একজন সুলেখক এবং শিল্প-সাহিত্যের অনুরাগী। তার মন্ত্রিসভায়ও অনেক সংস্কৃতিবান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তার কাছে আমার সনির্বন্ধ আকুতি- বাংলা ভাষার এ নৈরাজ্যজনক চর্চা রোধে তিনি যেন অতি দ্রুত একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যেখানে মান বাংলা ভাষা, প্রমিত বাংলা ভাষা তৈরির জন্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পণ্ডিত-মেধাবী ব্যক্তিরা কাজ করতে পারেন। একুশে ফেব্রুয়ারি আজ যে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে, তার নেপথ্যে যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবদান রেখেছেন; তার প্রয়াত পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে বাংলাকে বিশ্বসভায় অভিষিক্ত করেছেন, তেমনই দেশের বর্তমান বাংলা ভাষা চর্চার নিরিখে বাংলা ভাষা চর্চার নৈরাজ্য প্রতিরোধে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটকেও এ কাজে নিয়োজিত করতে পারেন তিনি। বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষার মঙ্গল সাধন আর অগ্রগমনের জন্য এ পদক্ষেপ একুশ শতকের ভাষা-সংগ্রাম বলে বিবেচিত হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা ভাষা চেতনার কথা বলি; কিন্তু আমি মনে করি ভাষা চেতনা সারা বছরের, সারা জীবনের বিষয়।
অনুলিখন : শুচি সৈয়দ
বাংলা ভাষায় বিশ্বমানের অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। কিন্তু সেগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে আমাদের সাহিত্যের বৈশ্বিক মূল্যায়ন আমরা পাইনি। সেদিক থেকে বাংলা ভাষার বৈশ্বিক অধিকার আমরা অর্জন করতে পারিনি। এজন্য যে শ্রম ও মেধার বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল, তা প্রদান করা হয়নি। বাংলা ভাষার সাহিত্য অন্য ভাষায় অনুবাদের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এ কাজ সরকারকে করতে হবে। অনুবাদের ওপর আমাদের জোর দিতে হবে। শুধু সাহিত্যকে বিশ্বে পরিচিত করতে তা না, অন্য ভাষায় প্রয়োজনীয় জ্ঞানও আমাদের ভাষায় রূপান্তর করতে হবে শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্যও যেমন- মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষিবিজ্ঞান বা পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানের বই-পুস্তক প্রচুর পরিমাণে বাংলায় অনুবাদ করতে হবে। অর্থাৎ, শুদ্ধভাবে মাতৃভাষার চর্চা করতে হবে; বিদেশী ভাষারও শুদ্ধ চর্চা করতে হবে।
মান বাংলা তৈরির কাজে আমাদের আন্তরিক হতে হবে। বাংলা এত সুন্দর ভাষা, এত মিষ্টি ভাষা, এত নান্দনিক ভাষা অথচ এ ভাষার সেই গুণাবলিকে ক্ষুণ্ণ করছে আঞ্চলিকতা। আঞ্চলিকতার দূষণমুক্ত সুন্দর মান বাংলা প্রমিত বাংলা গড়ে তোলা এখন আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।
মান বাংলা তথা প্রমিত বাংলার ভয়ংকর প্রতিপক্ষ বর্তমানে এফএম রেডিও। এফএম রেডিওতে অদ্ভুত ধরনের এক বাংলা চর্চা শুরু হয়েছে যেটা না বাংলা, না ইংরেজি, না বাংলিশ! এটা তরুণ প্রজন্মের ক্ষতি করছে। এফএম রেডিও খুবই ক্ষতি করছে বাংলা ভাষার। বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও এফএম রেডিওয় বাংলা ব্যবহারে যে নৈরাজ্য চলছে, সেটা ঠেকাতে এ মাধ্যমের তরুণ কর্মীদের মান বাংলা শিক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি বলে আমি মনে করি। কেননা গণমাধ্যম খুব প্রভাবশালী। গণমাধ্যমের কাজ জনগণকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলায় অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখা, তার বদলে গণমাধ্যম যদি অশিক্ষা, অসম্পূর্ণ শিক্ষাকে ছড়িয়ে দেয় সেটা সবার জন্যই ক্ষতিকর। এ ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে দেশের ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এফএম রেডিওগুলোকে ফেরাতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভীষণ শিল্প-সংস্কৃতিবান্ধব। তিনি নিজেও একজন সুলেখক এবং শিল্প-সাহিত্যের অনুরাগী। তার মন্ত্রিসভায়ও অনেক সংস্কৃতিবান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তার কাছে আমার সনির্বন্ধ আকুতি- বাংলা ভাষার এ নৈরাজ্যজনক চর্চা রোধে তিনি যেন অতি দ্রুত একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যেখানে মান বাংলা ভাষা, প্রমিত বাংলা ভাষা তৈরির জন্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পণ্ডিত-মেধাবী ব্যক্তিরা কাজ করতে পারেন। একুশে ফেব্রুয়ারি আজ যে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস রূপে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে, তার নেপথ্যে যেমন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবদান রেখেছেন; তার প্রয়াত পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে বাংলাকে বিশ্বসভায় অভিষিক্ত করেছেন, তেমনই দেশের বর্তমান বাংলা ভাষা চর্চার নিরিখে বাংলা ভাষা চর্চার নৈরাজ্য প্রতিরোধে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটকেও এ কাজে নিয়োজিত করতে পারেন তিনি। বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষার মঙ্গল সাধন আর অগ্রগমনের জন্য এ পদক্ষেপ একুশ শতকের ভাষা-সংগ্রাম বলে বিবেচিত হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা ভাষা চেতনার কথা বলি; কিন্তু আমি মনে করি ভাষা চেতনা সারা বছরের, সারা জীবনের বিষয়।
অনুলিখন : শুচি সৈয়দ

No comments:
Post a Comment