Tuesday, February 9, 2016

তিন শ' টাকার ধনে পাতা বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায়! by মোহাম্মদ হাসান ফয়জী

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি ধনে পাতা উৎপাদন হলেও বতর্মানে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকের লোকসান হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে পাইকারী ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন সর্বোচ্চ বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকা কেজি দরে।
এতে ক্ষেত থেকে উঠিয়ে বাজার নেয়া পর্যন্ত খরচ উঠাতেই কষ্ট হচ্ছে। ফলে সাটুরিয়ায় ধনে (শচ) পাতার উৎপাদনে জয় হলেও কৃষকে মুখে হাসি নেই। সাধারণ ক্রেতারা কম দামে কিনতে পারলেও, তারা মনে করেন এ পাতা সংরক্ষণ করতে পারলে কৃষকরা লাভবান হতে পারে।
সাটুরিয়ার ধানকোড়া, হরগজ, ফুকুরহাটি, দরগ্রাম, বালিয়াটী, দিঘুলিয়া, বরাইদ, তিল্লি, সাটুরিয়া ইউনিয়নে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ৫০ হেক্টর জমিতে বেশি ধনে পাতা চাষ হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে পাইকারী ৩০০ টাকা কেজি ধরে ধনে পাতা বিক্রি হলেও তা এখন ১২ টাকা কেজিতে যাচ্ছে। এতে কৃষকের লোকসান হচ্ছে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস জানান, জেলায় এবার ১০০ হেক্টর জমিতে ধনে পাতা আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ হলেও আবাদ হয়েছে ১৫০ হেক্টর জমিতে। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় ফুকুরহাটি, ধানকোড়া ও হরগজ ইউনিয়নে।
সাটুরিয়া উপজেলার জান্না গ্রামের আক্কাছ জানান, এ বছর তিনি মৌসুমের শুরুতে ফুল কফির সাথে মিশ্র ধনে পাতা ৬০ শতাংশ জমিতে চাষ করেন। কাঙ্ক্ষিত ফলন পাননি দাবি করে বলেন, সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৭০ হাজার টাকার ধনে পাতা বিক্রি করেছিলেন। আরো ৯০ শতাংশ জমিতে ভুট্টার সাথে এ পাতা চাষ করেছেন তিনি। মিশ্র চাষে এক সাথে দুই ফসল ঘরে তুলতে পারেন। তার চাষ করা ধনে পাতার খরচ বাদ দিলে তেমন লাভ হবে না। বর্তমানে পাইকারী সর্বোচ্চ ১২ টাকা কেজি আর খুচরা ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে ধনে পাতা।
একই এলাকার তেয়ব আলী জানান, ১৮০ শতাংশ জমিতে এ বছর ধনে পাতা চাষ করেছেন তিনি। আগে ভাল দাম পেলেও এখন কমে যাওয়ায় তাদের লোকসান হচেছ। এক কেজি বীজ দিয়ে পাঁচ শতাংশ জমি চাষ করা যায়। এর পর ঘাস মারার সার ও নিড়ানোর জন্য শ্রমিক প্রয়োজন পড়ে। এক কেজি বীজের দাম পড়ে ১৮০- ২০০ টাকা কেজি। শ্রমিকের দাম পড়ে ৪০০ টাকা। সবশেষে ক্ষেত থেকে নারী শ্রমিক দিয়ে পাতা উঠাতে হয়। নারী শ্রমিক রা সকাল ৬-১টা পর্যন্ত পাতা উঠালে ১৪০ টাকা এবং দুপুর ২-৬টা অবধি কাজ করলে ১২০ টাকা দিতে হয়। বাজারে খুচরা বিক্রি করলে চার আটি, পরিমানে ২৫০ গ্রাম সর্বোচ্চ ৫ টাকা বিক্রি করা যায়।
এ ব্যাপারে বালিয়াটী বাজারে ধনে পাতা ক্রেতা সাব্বির ও রাকিব জানান, তরকারির সাথে ধনে পাতা ছাড়া চলেই না। তাই সবার আগে এ পাতা কিনি। এ বছর ১০ গ্রাম ধনে পাতা ১৫ টাকা দিয়ে নিয়েছি, অথচ আজ হাফ কেজি কিনেছি ১০ টাকা দিয়ে। মানিকগঞ্জে যে ধনে পাতা উৎপাদন হয় তা যদি সংরক্ষণ করা যেত তাহলে আমরা যেমন সারা বছর ক্ষেতে পারতাম তেমনি কৃষকরাও লাভবান হত।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অসিত বরণ চৌধুরী জানান, ধনে পাতা বীজ বপনের ১৫ দিন পর চারা গজায়, ৬০- ৬৫ দিনের মাথায় কৃষকরা তা বিক্রি করতে পারে। অল্প সময়ে বেশী লাভ হওয়ায় কৃষকরা ধনে পাতায় ঝুকছে। তবে দাম এখন কম থাকলেও মৌসম শেষের দিকে আবার দাম বাড়বে বলে মনে করছেন। ২০ টাকা কেজি ধনে পাতা বিক্রি হলেও এক সাথে যে কৃষকরা মিশ্র চাষ করেছেন তাদের লোকসান হবে না বলেও জানান।

No comments:

Post a Comment