![]() |
| ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ(আইসিসিবি)আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নলক্ষ্য: বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জসমূহ’শীর্ষক সংলাপে বক্তারা |
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
চ্যালেঞ্জসমূহ’শীর্ষক সংলাপে বক্তারা জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থান হবে, দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসূচি ঠিক করতে হবে।
গতকাল রোববার ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য: বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামসহ ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা অংশ নেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ মনে করেন, বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন। পরিবেশ খাতে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ দেশে জমি কম, দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে—এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিনিয়োগ করতে হবে। তাঁর মতে, ৩০ বছর ধরে শুধু ঢাকা শহর হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বর্ধনশীল শহর। এ ঢাকা শহরই বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অর্ধেকের বেশি উৎপাদন করে। কিন্তু ঢাকা শহর হলো বসবাসের জন্য খারাপ।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) ১৭টির মধ্যে ১০টিতেই টেকসই উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে বলে জানান ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। উৎপাদন, সুশাসন, রাজনীতি, প্রবৃদ্ধি এর মধ্যে অন্যতম। এসডিজি অর্জনে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ণয়ের সুপারিশ করেন তিনি।
দারিদ্র্য বিমোচনের প্রশংসা করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, অতিদারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। অনেক ধনী দেশও তা পারেনি। তিনি এ সাফল্যকে ‘অডাসিটি অব হোপ’ বা ‘দুঃসাহসী আশা’ পূরণ হিসেবে মনে করেন। সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে অন্য দেশের চেয়ে কম বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ। স্বল্পমূল্যে এসব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। যেমন খাওয়ার স্যালাইন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মৌলিক ধারণাটি এখন বদলে গেছে। বালি কিংবা নাইরোবি মন্ত্রী পর্যায়ের সভা থেকে আমরা কিছুই পাইনি। অনেক দেশ এখন আঞ্চলিক বাণিজ্যব্যবস্থায় ঝুঁকছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, সব শর্ত পূরণ করার পরও যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে না। আমি নিজে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেখেছি, সেখানে বেসরকারি খাতে ৭ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। আর ১৩ শতাংশ সরকারি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। কিন্তু তারা আমাদের শতভাগ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার চাপ দিচ্ছে। এখানে উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন পিয়েরা মায়াদুন নিজেও বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেছেন। তিনিও দেখেছেন, আমাদের এখানে শ্রমিকদের সমস্যা নেই। তাঁরা মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি বেতন পান।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ ভালো। কয়েক বছর ধরে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। এ বছর প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হবে বলে আশা করছি। দেশের উন্নয়নকে তিনি “মিরাকল” বলে মনে করেন।’ যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকে, তবে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবৃদ্ধিই হলো দারিদ্র্য বিমোচনের বড় হাতিয়ার। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ খুব বেশি হচ্ছে না। এসডিজি বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এখনো পাইপলাইনে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সহায়তা পড়ে আছে, ব্যবহার করতে পারছি না।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি নেওয়ার সময় নারী-পুরুষ, শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এসডিজিতে দেশের অগ্রাধিকার কোনগুলো, সেগুলোকে বিবেচনা আনতে হবে। তিনি বলেন, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশ থেকে বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে, যা জিডিপির ৬ শতাংশের সমান। এসব পাচার ঠেকাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও মনোযোগী হতে হবে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেনের মতে, কয়েক বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত হারে বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না। বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে পরিবেশ দিতে হবে, বিশেষ করে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেই দারিদ্র্য বিমোচন করতে হবে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের উপায় দেশজ হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে চীন বড় দৃষ্টান্ত। এসডিজিতে বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার থাকা উচিত।
মূল প্রবন্ধ: মূল প্রবন্ধে জাহিদ হোসেন বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে প্রতিবছর বাংলাদেশকে ১০৯ দশমিক ৪ থেকে ১৫৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। গত অর্থবছরে (২০১৪-১৫) ৫৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বাংলাদেশ।
জাহিদ হোসেনের মতে, বাংলাদেশকে নিজের প্রয়োজন অনুসারে খাতওয়ারি অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন, টেকসই উৎপাদন, টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইসিসিবির সহসভাপতি রোকিয়া আফজাল রহমান, অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন পিয়েরা মায়াদুন, ইউএনডিপির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর নিক বেরেসফোর্ড, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম প্রমুখ।
চ্যালেঞ্জসমূহ’শীর্ষক সংলাপে বক্তারা জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগ হলে কর্মসংস্থান হবে, দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসূচি ঠিক করতে হবে।
গতকাল রোববার ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য: বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামসহ ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা অংশ নেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ মনে করেন, বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন। পরিবেশ খাতে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ দেশে জমি কম, দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে—এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিনিয়োগ করতে হবে। তাঁর মতে, ৩০ বছর ধরে শুধু ঢাকা শহর হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বর্ধনশীল শহর। এ ঢাকা শহরই বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অর্ধেকের বেশি উৎপাদন করে। কিন্তু ঢাকা শহর হলো বসবাসের জন্য খারাপ।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) ১৭টির মধ্যে ১০টিতেই টেকসই উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে বলে জানান ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। উৎপাদন, সুশাসন, রাজনীতি, প্রবৃদ্ধি এর মধ্যে অন্যতম। এসডিজি অর্জনে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার নির্ণয়ের সুপারিশ করেন তিনি।
দারিদ্র্য বিমোচনের প্রশংসা করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, অতিদারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। অনেক ধনী দেশও তা পারেনি। তিনি এ সাফল্যকে ‘অডাসিটি অব হোপ’ বা ‘দুঃসাহসী আশা’ পূরণ হিসেবে মনে করেন। সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে অন্য দেশের চেয়ে কম বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ। স্বল্পমূল্যে এসব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। যেমন খাওয়ার স্যালাইন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মৌলিক ধারণাটি এখন বদলে গেছে। বালি কিংবা নাইরোবি মন্ত্রী পর্যায়ের সভা থেকে আমরা কিছুই পাইনি। অনেক দেশ এখন আঞ্চলিক বাণিজ্যব্যবস্থায় ঝুঁকছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, সব শর্ত পূরণ করার পরও যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে না। আমি নিজে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেখেছি, সেখানে বেসরকারি খাতে ৭ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। আর ১৩ শতাংশ সরকারি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। কিন্তু তারা আমাদের শতভাগ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার চাপ দিচ্ছে। এখানে উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন পিয়েরা মায়াদুন নিজেও বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করেছেন। তিনিও দেখেছেন, আমাদের এখানে শ্রমিকদের সমস্যা নেই। তাঁরা মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি বেতন পান।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ ভালো। কয়েক বছর ধরে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। এ বছর প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হবে বলে আশা করছি। দেশের উন্নয়নকে তিনি “মিরাকল” বলে মনে করেন।’ যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকে, তবে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবৃদ্ধিই হলো দারিদ্র্য বিমোচনের বড় হাতিয়ার। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ খুব বেশি হচ্ছে না। এসডিজি বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এখনো পাইপলাইনে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সহায়তা পড়ে আছে, ব্যবহার করতে পারছি না।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি নেওয়ার সময় নারী-পুরুষ, শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এসডিজিতে দেশের অগ্রাধিকার কোনগুলো, সেগুলোকে বিবেচনা আনতে হবে। তিনি বলেন, গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশ থেকে বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে, যা জিডিপির ৬ শতাংশের সমান। এসব পাচার ঠেকাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও মনোযোগী হতে হবে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেনের মতে, কয়েক বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত হারে বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না। বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে পরিবেশ দিতে হবে, বিশেষ করে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেই দারিদ্র্য বিমোচন করতে হবে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের উপায় দেশজ হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে চীন বড় দৃষ্টান্ত। এসডিজিতে বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার থাকা উচিত।
মূল প্রবন্ধ: মূল প্রবন্ধে জাহিদ হোসেন বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে প্রতিবছর বাংলাদেশকে ১০৯ দশমিক ৪ থেকে ১৫৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। গত অর্থবছরে (২০১৪-১৫) ৫৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বাংলাদেশ।
জাহিদ হোসেনের মতে, বাংলাদেশকে নিজের প্রয়োজন অনুসারে খাতওয়ারি অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন, টেকসই উৎপাদন, টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইসিসিবির সহসভাপতি রোকিয়া আফজাল রহমান, অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন পিয়েরা মায়াদুন, ইউএনডিপির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর নিক বেরেসফোর্ড, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম প্রমুখ।

No comments:
Post a Comment