Monday, March 28, 2016

গত মে মাসের অবস্থানে ফিরে গেছে ডিএসইর সূচক

দরপতনের ধারাবাহিকতায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত বছরের মে মাস বা সাড়ে দশ মাস আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৬ পয়েন্টে। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ১৭ মে এ সূচকটি সর্বনিম্ন ৪ হাজার ৩১৬ পয়েন্টে ছিল। সূচক পতনের পাশাপাশি ঢাকার বাজারের লেনদেনও গতকাল আবার ৩০০ কোটির নিচে নেমে গেছে। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল গতকাল প্রায় ২৭৮ কোটি টাকা। গত ১৩ ডিসেম্বরের পর এটিই ডিএসইর সর্বনিম্ন লেনদেন। সর্বশেষ ১৩ ডিসেম্বর ডিএসইতে ২৭৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এদিকে, টানা চতুর্থ দিনের মতো দরপতন ঘটেছে শেয়ারবাজারে। দরপতনে সূচকের প্রায় এক বছর আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া ও লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার নিচে নেমে যাওয়ায় আবারও দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এ অবস্থার কোনো সঠিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, বাজার পুরোনো কিছু বিনিয়োগকারীর মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। যাদের অধিকাংশের আর্থিক ক্ষমতা খুব বেশি নেই। তাই, যখনই সামান্য লোকসানে পড়েন তখনই সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। এ অবস্থায় বাজারে গতি বা প্রাণ ফেরাতে হলে দরকার নতুন বিনিয়োগকারী ও নতুন অর্থের জোগান। কিন্তু কোনো দিক থেকেই সেটি আসছে না। ফলে বাজারও ঝিমিয়ে পড়েছে। কেন নতুন বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হচ্ছেন না—জানতে চাইলে শাকিল রিজভী বলেন, নতুন বিনিয়োগকারী তখনই আসবেন, যখন তাঁরা মনে করবেন বাজারে গেলে লাভ পাওয়া যাবে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি বাজারে বিদ্যমান নেই। আবার ভালো কিছু কোম্পানি যদি বাজারে আসে তার ফলেও কিছু নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসেন। গত কয়েক বছরে উল্লেখ করার মতো ভালো কোনো কোম্পানিকে বাজারে আনা সম্ভব হয়নি। তাই নতুন বিনিয়োগকারীর আনাগোনা কম। মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের গতকালের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন স্বল্প ও মাঝারি মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের বিক্রির চাপ ছিল বেশি। লেনদেনে আধিপত্য ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানিগুলোর। ডিএসইর গতকালের মোট লেনদেনের প্রায় ২০ শতাংশই ছিল এ খাতের। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গতকালের বাজারে দর বৃদ্ধিতে শীর্ষস্থানে ছিল ওষুধ খাতের কোম্পানি ইবনে সিনা। এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বা প্রায় ১৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫২ টাকা। আর লেনদেনে শীর্ষে ছিল কেয়া কসমেটিকস। এদিন এককভাবে কোম্পানিটির প্রায় ১৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৯ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৬৫টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ১০৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৮টির দাম। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল লেনদেন হওয়া ২৩৩ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৩৩টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৬১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৯টির। দিন শেষে সিএসইর সার্বিক সূচকটি প্রায় ৭৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪০১ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে তিন কোটি টাকা কম।

No comments:

Post a Comment