![]() |
| রিজার্ভের অর্থ চুরি |
বাংলাদেশ
ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজের জন্য বরাদ্দকৃত সব ল্যাপটপ
রিজার্ভের অর্থ চুরির তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। এ কারণে সব কর্মকর্তার কাছ
থেকে ল্যাপটপগুলো জমা নেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল বুধবারের মধ্যে সব কর্মকর্তার
ল্যাপটপ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি অপারেশন ও কমিউনিকেশন
বিভাগে জমা দেওয়ার দাপ্তরিক আদেশ জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
মানবসম্পদ বিভাগ থেকে গতকাল সোমবার বিকেলে জারি করা দাপ্তরিক আদেশে বলা
হয়েছে, ‘চলমান তদন্তের স্বার্থে ব্যাংকের সব কর্মকর্তার ল্যাপটপ সংগ্রহ করে
‘সিকিউরিটি এজেন্ট’ স্থাপন বা ইনস্টল করে নেটওয়ার্কে চলমান রাখা প্রয়োজন।’
এদিকে দাপ্তরিক এই আদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের
ভীতির সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন
পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ল্যাপটপগুলো কবে নাগাদ
ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আদেশে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়েছে, তদন্তকাজ
শেষে দ্রুত ল্যাপটপগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ অবস্থায় ল্যাপটপ জমা দিয়ে
দিলে কীভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালানো হবে, তারও কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহা
প্রথম আলোকে বলেন, কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা ল্যাপটপগুলোতে
ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি সাইবার আক্রমণের ঘটনা
ঘটেছে, তাতে ল্যাপটপগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।
পাশাপাশি চলমান তদন্তের প্রয়োজনে তথ্য সংগ্রহে বিশেষ প্রোগ্রাম ইনস্টল বা
স্থাপন করা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের
অর্থ চুরির ঘটনার ফরেনসিক তদন্তের আওতায় এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব
কম্পিউটারে ‘ফায়ার আইয়ের’ বিশেষ একটি প্রোগ্রাম বসানো হয়েছে। ফরেনসিক
তদন্তের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার
তথ্য-প্রমাণ উদ্ঘাটন ও কার্যকারণ খুঁজে বের করা হয়। রিজার্ভের অর্থ চুরির
ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই ফরেনসিক তদন্তের কাজটি করছে
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফায়ার আই ও ওয়ার্ল্ড ইনফোমেটিক্স। এর মধ্যে
ওয়ার্ল্ড ইনফোমেটিক্সের মালিকানায় রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার
উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা রাকেশ
আস্তানা। এর আগে রাকেশ আস্তানার পরামর্শেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কম্পিউটারে
ফায়ার আইয়ের সরবরাহ করা একটি ‘প্রোগ্রাম’ বসানো হয়েছিল। এরই মধ্যে ফায়ার
আই ও ওয়ার্ল্ড ইনফোমেটিক্স ঘটনার একটি অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন
দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আগে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি
ব্যবস্থার দুর্বলতা জেনে পরিকল্পিতভাবে সাইবার আক্রমণটি করা হয়েছে। যারা এ
আক্রমণটি করেছে, তারা তাদের উপস্থিতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত মুছে
দিয়ে গেছে। মুছে দেওয়া সেসব তথ্য-উপাত্ত পুনরুদ্ধারে ফায়ার আইয়ের বিশেষ
প্রোগ্রামটি বসানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা
গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক
শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি’ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দেড়
হাজার কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক কাজের জন্য ল্যাপটপ দেওয়া হয়। সেগুলো তদন্তের
স্বার্থে আইটি অপারেশন ও কমিউনিকেশন বিভাগে আগামীকালের মধ্যে জমা দিতে বলা
হয়েছে।
ল্যাপটপ জমা দেওয়ার দাপ্তরিক আদেশ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, চলতি মাসের শুরুতে একবার আমার ব্যবহৃত ল্যাপটপে একটি প্রোগ্রাম স্থাপন করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও আবার নতুন করে ল্যাপটপ জমা দিতে বলা হয়েছে। সবার ল্যাপটপ জমা দিয়ে দিলে কাজ চলবে কীভাবে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সুইফটে ঢুকে। কীভাবে তৃতীয় পক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের সংকেত বার্তায় ঢুকে পড়েছিল, সেটিই খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে এখন।
ল্যাপটপ জমা দেওয়ার দাপ্তরিক আদেশ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, চলতি মাসের শুরুতে একবার আমার ব্যবহৃত ল্যাপটপে একটি প্রোগ্রাম স্থাপন করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও আবার নতুন করে ল্যাপটপ জমা দিতে বলা হয়েছে। সবার ল্যাপটপ জমা দিয়ে দিলে কাজ চলবে কীভাবে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সুইফটে ঢুকে। কীভাবে তৃতীয় পক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের সংকেত বার্তায় ঢুকে পড়েছিল, সেটিই খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে এখন।

No comments:
Post a Comment