![]() |
| সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে মিসরের ছিনতাই হওয়া বিমান। |
মিসরের
বিমান ছিনতাইয়ের ছয় ঘণ্টা পর ওই ছিনতাইকারী সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার
হয়েছেন। জিম্মি করা যাত্রী ও ক্রুকে ছেড়ে দেওয়ার পর ওই ছিনতাইকারী বিমান
থেকে নেমে আসেন। এর পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাইপ্রাস সরকারের বরাত
দিয়ে এএফপি ও বিবিসির খবরে বলা হয়, সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে
বিমানের ক্রু ও যাত্রীদের মুক্ত করে দেন ছিনতাইকারী। এরপর তিনি বিমান থেকে
নেমে আসেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালানোর পর তাঁকে
গ্রেপ্তার করেন। সাইপ্রাস সরকারের মুখপাত্র নিকস ক্রিস্টোডোইলিডেস টুইটারে
এক বার্তায় বলেন, ‘ছিনতাইকারী এই মাত্র গ্রেপ্তার হয়েছেন।’ খবরে বলা
হয়, বিমান থেকে কয়েকজন নেমে যাওয়ার পর ছিনতাইকারী আত্মসমর্পণ করেন। এ
সময় বিমানের একজন ক্রুকে ককপিটের জানালা দিয়ে ঝুলে নামতে দেখা যায়। এক
টুইট বার্তায় সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিমান ছিনতাইয়ের
ঘটনার পরিসমাপ্তি হয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে, ছিনতাইকারী মিসরের নাগরিক।
সাইপ্রাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছিনতাইকারীর নাম সাইফ এলদিন মুস্তাফা।
ছিনতাইকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। মিসরের
আলেকজান্দ্রিয়া থেকে কায়রো যাওয়ার পথে আজ মঙ্গলবার দেশটির একটি বিমান
ছিনতাই হয়। পরে বিমানটিকে সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে অবতরণে বাধ্য
করা হয়। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বিমানটিতে সাতজন ক্রুসহ অন্তত ৬০ জন
আরোহী ছিল। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটিতে ৮১ জন আরোহী
ছিল। ইজিপ্ট এয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এক ব্যক্তি বিমানটি ছিনতাই
করেছেন। তাঁর কাছে বিস্ফোরক আছে বলে যাত্রীরা দাবি করে। বিবিসি অনলাইনের
প্রতিবেদনে বলা হয়, ছিনতাইকারী যাত্রীবেশে ছিলেন। তাঁর শরীরে বিস্ফোরকের
বেল্ট বাঁধা আছে বলে দাবি করেন তিনি। এরপর তিনি ক্রুদের সাইপ্রাসের দিকে
বিমানটিকে নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। ইজিপ্ট এয়ার বলছে, লারনাকা বিমানবন্দরে
বিমানটি অবতরণের একপর্যায়ে সমঝোতার পরিপ্রেক্ষিতে একজন ক্রু ও চারজন
বিদেশি যাত্রী বাদে সবাইকে ছেড়ে দিয়েছেন ছিনতাইকারী। ঘটনার পর লারনাকা
বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো অন্যত্র ঘুরিয়ে
দেওয়া হয়েছে। সাইপ্রাসের সম্প্রচারমাধ্যম বলছে, বিমানে সম্ভবত একজন
ছিনতাইকারী আছেন। ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থেকে তিনি এ কাজ করেছেন। এই বিমান
ছিনতাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানিয়েছেন
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট।

No comments:
Post a Comment