![]() |
| মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় |
ভোটের
বাদ্যি বেজে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে। সর্বত্র। নেমে পড়েছে সব রাজনৈতিক দল।
চলছে প্রচারণা। সবারই লক্ষ্য এক, জিততে হবে। পরাস্ত করতে হবে
প্রতিদ্বন্দ্বীকে। এই লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক ময়দান গরম করছেন নেতারা। তবে
প্রচারণায় এখনো এগিয়ে রয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায় চষে বেড়াচ্ছেন গোটা রাজ্য। আর একহাত নিচ্ছেন বাম-কংগ্রেস
জোটকে। একদম মেনে নিতে পারছেন না মমতা এই বাম-কংগ্রেস জোটকে। অথচ গত ২০১১
সালের নির্বাচনে তৃণমূল এই কংগ্রেসকেই সঙ্গে নিয়ে জোট গড়ে লড়েছিল বিধানসভা
নির্বাচনে।
মমতার যে এবার ভোটযুদ্ধের পথের কাঁটা এই বাম-কংগ্রেস জোট, তা হাড়ে হাড়ে অনুভব করছেন তিনি স্বয়ং। এবং এই জোট যে অঘটন ঘটিয়েও দিতে পারে, সেটাও মমতার মাথায় রয়েছে। তবু জোর গলায় বলছেন, এবার আরও ভালো ফল হবে। সিপিএমকে এবার আমরা সাইনবোর্ডের দল বানিয়ে ছাড়ব। আরও কত কথা! মমতার দল গত ২০১১ সালের নির্বাচনে এককভাবে ১৮৪টি আসন পেয়েছিল। বিধানসভার আসনসংখ্যা ২৯৪। আর কংগ্রেস পেয়েছিল ৪২ এবং বাম দল পেয়েছিল মাত্র ৬০টি আসন। মমতা এখনো বিশ্বাস করেন, এবার তাঁর দল এককভাবে লড়ে জিতবে। তারা এবার ডাবল আসন পাবে। তৃণমূলই সরকার গড়বে। এই বিশ্বাস নিয়ে মমতা নির্বাচনী ময়দান চষে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু কীভাবে তিনি ডাবল আসন পাবেন, তার ব্যাখ্যা দেননি। কারণ, রাজ্য বিধানসভার আসন তো মাত্র ২৯৪টি। মমতা জিতবেন তেমনটাই এখনো মনে করেন রাজ্যবাসী। জনমত সমীক্ষায়ও সেই ইঙ্গিত মিলছে। তবে জনমত সমীক্ষায় আরেকটি তথ্য মিলেছে, সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া নারদকাণ্ডই শেষ পর্যন্ত মমতাকে বিপদে ফেলতে পারে। কারণ, রাজ্যের শিক্ষিত মহলে এখন এমন ধারণা জন্মে গেছে যে মমতার দলের নেতারা সত্যিই ঘুষকাণ্ডে জড়িয়ে থাকতে পারেন। ক্ষমতায় আসার পর মমতার দল প্রথম জড়ায় সারদা কেলেঙ্কারি মামলায়। আর দ্বিতীয়বার জড়াল নারদকাণ্ডে। দুটিই আর্থিক কেলেঙ্কারি। ঘুষ আর দুর্নীতির নানা কথন। এতে যে মমতার জনপ্রিয়তা প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছে, তা-ও ফুটে উঠেছে সম্প্রতি প্রকাশিত এবিপি নিউজ ও এসি নিয়েলসনের যৌথ জনমত সমীক্ষায়। আটকে যাচ্ছেন মমতার দলের মন্ত্রী, নেতা, সাংসদ, বিধায়কেরা। তাই মমতা যতই জয়ের স্বপ্ন দেখুন না কেন, তাঁর সামনে এখন চার কাঁটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই চার কাঁটাই মমতাকে এখন খুবলে খাচ্ছে।
কাঁটা-১ সারদা কেলেঙ্কারি; ২০১১ সালের ২০ মে মমতা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসেন। হন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে তৃণমূলের কতক নেতা জড়িয়ে পড়েন সারদা কেলেঙ্কারিতে। হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের কাহিনি। এতে জড়িয়ে পড়েন মমতার দলের কজন সাংসদ, বিধায়ক। কলকাতার স্বল্প সঞ্চয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই সারদা গোষ্ঠীর কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন মমতার দলের নেতারা। আর এই কাণ্ডে জড়িয়ে গ্রেপ্তার হন সাংসদ কুণাল ঘোষ, সাংসদ সৃঞ্জয় বোস, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন ক্রীড়া ও যুব উন্নয়নমন্ত্রী মদন মিত্রসহ আরও বেশ কজন নামী–দামি নেতা। গ্রেপ্তার হন সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেনও। সেই মামলায় জড়িয়ে এখনো কারাবন্দী সাংসদ কুণাল ঘোষ, বিধায়ক মদন মিত্র ও সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। এবার বিরোধী দল নির্বাচনী ময়দানে সারদা কেলেঙ্কারিকে প্রধান অস্ত্র করে বলেছে, ১৭ লাখ ক্ষুদ্র আমানতকারীর অর্থ আত্মসাৎ করেছেন মমতার দলের নেতারা। নির্বাচনে এটাই এবার একটা বড় ইস্যু করে মাঠে নেমেছে তারা।
কাঁটা-২ নারদকাণ্ড; ১৪ মার্চ ফাঁস হলো আরেক কেলেঙ্কারি। নারদকাণ্ড। মমতার দলের সাংসদ, বিধায়ক ও মন্ত্রীদের নগদ অর্থ গ্রহণের ভিডিও ফাঁস। এই স্টিং অপারেশনের ভিডিও ফাঁস করে নারদ নিউজ ডট কম নামের একটি ওয়েব পোর্টাল। ব্যস, ধরা খেয়ে যান মমতার ১১ জন সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়ক। ওই ভিডিওতে ছয় তৃণমূল সাংসদ মুকুল রায়, সুলতান আহমেদ, সৌগত রায়, শুভেন্দু অধিকারী, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি এবং ফিরহাদ হাকিম ও সারদাকাণ্ডে কারাবন্দী সাবেক বিধায়ক মদন মিত্র, কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক ইকবাল আহমেদ এবং সাবেক আইপিএস পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ এম এইচ মির্জা ফেঁসে যান। আর এ ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ঝড় ওঠে। সেই ঝড়ের ঝাপটা এখন আঘাত করছে রাজ্যজুড়ে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় নারদকাণ্ড ২১ মার্চ ফাঁস হলে অভিযোগ ওঠে আরও এক সাংসদ অপরূপা পোদ্দার ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাবেক রাজ্য সভাপতি শঙ্কুদেব পন্ডার বিরুদ্ধে।
কাঁটা-৩ সিঙ্গুরকাণ্ড; তেমন পরিচিত ছিল না পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার এক অখ্যাত জনপদ সিঙ্গুর। মমতাই চিনিয়ে দেন এই সিঙ্গুরকে রাজ্যবাসীর কাছে নতুন করে। ২০০৬ সালে এই সিঙ্গুরের ৯৯৭ একর ফসলের জমি অধিগ্রহণ করে লিজ দিয়েছিল তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার টাটা গোষ্ঠীকে একলাখি ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়ার জন্য। এই ৯৯৭ একর জমির ৪০০ একরের মালিকেরা দিতে চাননি টাটার গাড়ির কারখানা গড়ার জন্য। এ নিয়ে তাঁরা আন্দোলনও শুরু করেন। আর এই আন্দোলনের রাশ টেনে ধরেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু করেন টাটার এই জমি দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন। এই লক্ষ্যে মমতা টানা ২৫ দিন অনশনও করেন। শেষমেশ টাটার কর্ণধার রতন টাটা ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে ঘোষণা দেন, তাঁরা এখানে ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়বেন না। টাটা তাদের এই কারখানা নিয়ে যায় গুজরাটের সানন্দে। মমতার এই সিঙ্গুর আর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলনই মমতাকে ক্ষমতায় আসার পথকে প্রশস্ত করে। মমতা নির্বাচনে জেতেন। সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকেরা নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেন, অচিরেই তাঁরা ফিরে পাবেন জমি। কিন্তু ফিরে আর পেলেন না। এখন সেই জমির মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। সিঙ্গুরের কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়েন। আর এবারের নির্বাচনের প্রচারকালীন মমতা ঘোষণা দেন পাঁচ বছর নয়, এই জমি ফিরে পেতে ৫০ বছরও লাগতে পারে, তবে সিঙ্গুরের জমি ফেরত পাবেন কৃষকেরা। এতে আরও ভেঙে পড়েন সিঙ্গুরের চাষিরা। এই নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সিঙ্গুরে। সেই ক্ষোভকে অস্ত্র করে এবার মাঠে নেমেছে বিরোধী বাম-কংগ্রেস জোট। তারা ঘোষণা দিয়েছে, এই জোট ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্প হবে।
কাঁটা-৪ নির্বাচন কমিশন; ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পঞ্চায়েত, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারকাঠামোর নির্বাচন করে থাকে রাজ্যের নির্বাচন দপ্তর। নির্বাচনও হয় রাজ্যের পুলিশ দিয়ে। কেবল রাজ্য বিধানসভা ও লোকসভার নির্বাচন করে থাকে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ফলে এই নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও অবাধ হয়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের নির্বাচন কমিশন কড়া অবস্থান নিয়েছে। ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এই রাজ্যের নির্বাচন হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণভাবে। এই লক্ষ্যে এই রাজ্যে ৩০ হাজার আধাসেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রুটমার্চও শুরু করেছে আধাসেনারা রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। এদিকে পক্ষপাতের জন্য এই রাজ্যের ৩৮ জন সরকারি কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন জেলা প্রশাসক, পাঁচ পুলিশ সুপার। আরও রয়েছেন ২৫টি থানার ওসি এবং আইসি, কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচনী কর্মকর্তা। রয়েছেন মালদহের এসডিও, কান্দি ও বনগাঁর এসডিপিও, ইটাহারের বিডিও এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার তথ্য অফিসার। সব মিলিয়ে ৩৮ জন। নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থানকে এখনো মেনে নিতে পারেনি শাসক দল। তাই তো মমতা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, রাজ্যে কি জরুরি অবস্থা চলছে? এই রাজ্যের ভোট এই রাজ্যের পুলিশ করবে না তো আমেরিকা থেকে পুলিশ এনে করা হবে?
মমতার যে এবার ভোটযুদ্ধের পথের কাঁটা এই বাম-কংগ্রেস জোট, তা হাড়ে হাড়ে অনুভব করছেন তিনি স্বয়ং। এবং এই জোট যে অঘটন ঘটিয়েও দিতে পারে, সেটাও মমতার মাথায় রয়েছে। তবু জোর গলায় বলছেন, এবার আরও ভালো ফল হবে। সিপিএমকে এবার আমরা সাইনবোর্ডের দল বানিয়ে ছাড়ব। আরও কত কথা! মমতার দল গত ২০১১ সালের নির্বাচনে এককভাবে ১৮৪টি আসন পেয়েছিল। বিধানসভার আসনসংখ্যা ২৯৪। আর কংগ্রেস পেয়েছিল ৪২ এবং বাম দল পেয়েছিল মাত্র ৬০টি আসন। মমতা এখনো বিশ্বাস করেন, এবার তাঁর দল এককভাবে লড়ে জিতবে। তারা এবার ডাবল আসন পাবে। তৃণমূলই সরকার গড়বে। এই বিশ্বাস নিয়ে মমতা নির্বাচনী ময়দান চষে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু কীভাবে তিনি ডাবল আসন পাবেন, তার ব্যাখ্যা দেননি। কারণ, রাজ্য বিধানসভার আসন তো মাত্র ২৯৪টি। মমতা জিতবেন তেমনটাই এখনো মনে করেন রাজ্যবাসী। জনমত সমীক্ষায়ও সেই ইঙ্গিত মিলছে। তবে জনমত সমীক্ষায় আরেকটি তথ্য মিলেছে, সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া নারদকাণ্ডই শেষ পর্যন্ত মমতাকে বিপদে ফেলতে পারে। কারণ, রাজ্যের শিক্ষিত মহলে এখন এমন ধারণা জন্মে গেছে যে মমতার দলের নেতারা সত্যিই ঘুষকাণ্ডে জড়িয়ে থাকতে পারেন। ক্ষমতায় আসার পর মমতার দল প্রথম জড়ায় সারদা কেলেঙ্কারি মামলায়। আর দ্বিতীয়বার জড়াল নারদকাণ্ডে। দুটিই আর্থিক কেলেঙ্কারি। ঘুষ আর দুর্নীতির নানা কথন। এতে যে মমতার জনপ্রিয়তা প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছে, তা-ও ফুটে উঠেছে সম্প্রতি প্রকাশিত এবিপি নিউজ ও এসি নিয়েলসনের যৌথ জনমত সমীক্ষায়। আটকে যাচ্ছেন মমতার দলের মন্ত্রী, নেতা, সাংসদ, বিধায়কেরা। তাই মমতা যতই জয়ের স্বপ্ন দেখুন না কেন, তাঁর সামনে এখন চার কাঁটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই চার কাঁটাই মমতাকে এখন খুবলে খাচ্ছে।
কাঁটা-১ সারদা কেলেঙ্কারি; ২০১১ সালের ২০ মে মমতা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসেন। হন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে তৃণমূলের কতক নেতা জড়িয়ে পড়েন সারদা কেলেঙ্কারিতে। হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের কাহিনি। এতে জড়িয়ে পড়েন মমতার দলের কজন সাংসদ, বিধায়ক। কলকাতার স্বল্প সঞ্চয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই সারদা গোষ্ঠীর কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন মমতার দলের নেতারা। আর এই কাণ্ডে জড়িয়ে গ্রেপ্তার হন সাংসদ কুণাল ঘোষ, সাংসদ সৃঞ্জয় বোস, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন ক্রীড়া ও যুব উন্নয়নমন্ত্রী মদন মিত্রসহ আরও বেশ কজন নামী–দামি নেতা। গ্রেপ্তার হন সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেনও। সেই মামলায় জড়িয়ে এখনো কারাবন্দী সাংসদ কুণাল ঘোষ, বিধায়ক মদন মিত্র ও সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। এবার বিরোধী দল নির্বাচনী ময়দানে সারদা কেলেঙ্কারিকে প্রধান অস্ত্র করে বলেছে, ১৭ লাখ ক্ষুদ্র আমানতকারীর অর্থ আত্মসাৎ করেছেন মমতার দলের নেতারা। নির্বাচনে এটাই এবার একটা বড় ইস্যু করে মাঠে নেমেছে তারা।
কাঁটা-২ নারদকাণ্ড; ১৪ মার্চ ফাঁস হলো আরেক কেলেঙ্কারি। নারদকাণ্ড। মমতার দলের সাংসদ, বিধায়ক ও মন্ত্রীদের নগদ অর্থ গ্রহণের ভিডিও ফাঁস। এই স্টিং অপারেশনের ভিডিও ফাঁস করে নারদ নিউজ ডট কম নামের একটি ওয়েব পোর্টাল। ব্যস, ধরা খেয়ে যান মমতার ১১ জন সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়ক। ওই ভিডিওতে ছয় তৃণমূল সাংসদ মুকুল রায়, সুলতান আহমেদ, সৌগত রায়, শুভেন্দু অধিকারী, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি এবং ফিরহাদ হাকিম ও সারদাকাণ্ডে কারাবন্দী সাবেক বিধায়ক মদন মিত্র, কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক ইকবাল আহমেদ এবং সাবেক আইপিএস পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ এম এইচ মির্জা ফেঁসে যান। আর এ ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে ঝড় ওঠে। সেই ঝড়ের ঝাপটা এখন আঘাত করছে রাজ্যজুড়ে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় নারদকাণ্ড ২১ মার্চ ফাঁস হলে অভিযোগ ওঠে আরও এক সাংসদ অপরূপা পোদ্দার ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাবেক রাজ্য সভাপতি শঙ্কুদেব পন্ডার বিরুদ্ধে।
কাঁটা-৩ সিঙ্গুরকাণ্ড; তেমন পরিচিত ছিল না পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার এক অখ্যাত জনপদ সিঙ্গুর। মমতাই চিনিয়ে দেন এই সিঙ্গুরকে রাজ্যবাসীর কাছে নতুন করে। ২০০৬ সালে এই সিঙ্গুরের ৯৯৭ একর ফসলের জমি অধিগ্রহণ করে লিজ দিয়েছিল তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার টাটা গোষ্ঠীকে একলাখি ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়ার জন্য। এই ৯৯৭ একর জমির ৪০০ একরের মালিকেরা দিতে চাননি টাটার গাড়ির কারখানা গড়ার জন্য। এ নিয়ে তাঁরা আন্দোলনও শুরু করেন। আর এই আন্দোলনের রাশ টেনে ধরেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু করেন টাটার এই জমি দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন। এই লক্ষ্যে মমতা টানা ২৫ দিন অনশনও করেন। শেষমেশ টাটার কর্ণধার রতন টাটা ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে ঘোষণা দেন, তাঁরা এখানে ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়বেন না। টাটা তাদের এই কারখানা নিয়ে যায় গুজরাটের সানন্দে। মমতার এই সিঙ্গুর আর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলনই মমতাকে ক্ষমতায় আসার পথকে প্রশস্ত করে। মমতা নির্বাচনে জেতেন। সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকেরা নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেন, অচিরেই তাঁরা ফিরে পাবেন জমি। কিন্তু ফিরে আর পেলেন না। এখন সেই জমির মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। সিঙ্গুরের কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়েন। আর এবারের নির্বাচনের প্রচারকালীন মমতা ঘোষণা দেন পাঁচ বছর নয়, এই জমি ফিরে পেতে ৫০ বছরও লাগতে পারে, তবে সিঙ্গুরের জমি ফেরত পাবেন কৃষকেরা। এতে আরও ভেঙে পড়েন সিঙ্গুরের চাষিরা। এই নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সিঙ্গুরে। সেই ক্ষোভকে অস্ত্র করে এবার মাঠে নেমেছে বিরোধী বাম-কংগ্রেস জোট। তারা ঘোষণা দিয়েছে, এই জোট ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্প হবে।
কাঁটা-৪ নির্বাচন কমিশন; ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পঞ্চায়েত, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারকাঠামোর নির্বাচন করে থাকে রাজ্যের নির্বাচন দপ্তর। নির্বাচনও হয় রাজ্যের পুলিশ দিয়ে। কেবল রাজ্য বিধানসভা ও লোকসভার নির্বাচন করে থাকে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ফলে এই নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও অবাধ হয়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের নির্বাচন কমিশন কড়া অবস্থান নিয়েছে। ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এই রাজ্যের নির্বাচন হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণভাবে। এই লক্ষ্যে এই রাজ্যে ৩০ হাজার আধাসেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রুটমার্চও শুরু করেছে আধাসেনারা রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। এদিকে পক্ষপাতের জন্য এই রাজ্যের ৩৮ জন সরকারি কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন জেলা প্রশাসক, পাঁচ পুলিশ সুপার। আরও রয়েছেন ২৫টি থানার ওসি এবং আইসি, কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচনী কর্মকর্তা। রয়েছেন মালদহের এসডিও, কান্দি ও বনগাঁর এসডিপিও, ইটাহারের বিডিও এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার তথ্য অফিসার। সব মিলিয়ে ৩৮ জন। নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থানকে এখনো মেনে নিতে পারেনি শাসক দল। তাই তো মমতা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, রাজ্যে কি জরুরি অবস্থা চলছে? এই রাজ্যের ভোট এই রাজ্যের পুলিশ করবে না তো আমেরিকা থেকে পুলিশ এনে করা হবে?

No comments:
Post a Comment