Monday, March 28, 2016

অর্জনেও মুছে যায় না হতাশা

ছেলে রায়িদকে নিয়ে মাহমুদউল্লাহ, সঙ্গী মুশফিক।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে প্রথমেই বেরিয়ে এলেন তামিম ইকবাল। বিমানপথে কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব ক্লান্ত হওয়ার মতো নয়। তা ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে অসাধারণ এক টুর্নামেন্টই গেছে তাঁর। তবু তামিমের মুখটা কেমন মেঘকালো! এটি যতটা না ভ্রমণজনিত, তার চেয়ে বেশি সুপার টেনে দলের ব্যর্থতায়। টুর্নামেন্টে কাল বিকেল পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তামিমের। ৬ ম্যাচে ৭৩.৭৫ গড়ে তাঁর রান ২৯৫। তাঁর এই উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ঢেকে গেছে দলের শেষ দুটি পরাজয়ে। ভারতের বিপক্ষে ১ রানে হারের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড—দুটি হারই ভীষণ পোড়াচ্ছে তামিমকে, ‘ভারত আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচে সব এলোমেলো হয়ে গেছে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যদি বলেন, ভালোই হয়েছে। কিন্তু যতই রান করেন, দিন শেষে দল না জিতলে এমন পারফরম্যান্সের কোনো অর্থ থাকে না।’ শেষ দুটি হার যন্ত্রণা দিলেও তামিমের চোখে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রাপ্তিও কম নয়, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে ম্যাচ দুটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছিল। এই যে বড় দলগুলোর সঙ্গে আমরা লড়াই করেছি, ছয় মাস আগেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারতাম না তাদের হারিয়ে দেব। আমাদের আরেকটি পাওয়া বোলারদের পারফরম্যান্স। একটা ম্যাচ বাদে বোলাররা অসাধারণ বোলিং করেছে।’ বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে যান বনানী ডিওএইচএসের বাসায়। সেখানে তাঁর জন্য অপেক্ষায় ছেলে আরহাম। গত মাসে ব্যাংককে জন্ম নেওয়া ছেলেকে রেখেই হঠাৎ তাঁকে দেশে চলে আসতে হয়েছিল এশিয়া কাপ খেলতে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলে পরদিনই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে উড়াল দিয়েছিলেন ভারতে। দেশের মাটিতে বাবা-ছেলের এই প্রথম সাক্ষাৎ, অপার্থিব আনন্দ এখন তামিমের বুকের মধ্যে! আগামী কটা দিন ক্রিকেটকে নির্বাসনে দিয়ে সন্তানের সঙ্গেই কাটাতে চান বাঁহাতি ওপেনার। বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সের কথা বললে সবার আগে আসবে মুস্তাফিজুর রহমানের নাম। চোটের কারণে বাঁহাতি পেসার খেলতে পারেননি প্রথম চারটি ম্যাচ। শেষ তিনটিতে মাঠে নেমেই দেখালেন তাঁর বোলিং-জাদু। ইডেনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে রেকর্ড বইয়ের বেশ কয়েক জায়গায় লেখালেন নিজের নাম। কিন্তু দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সও স্পর্শ করছে না মুস্তাফিজকে। আক্ষেপ ঝরল তাঁর কণ্ঠেও, ‘আর অসাধারণ পারফরম্যান্স...!’ বাঁহাতি এই পেসার থেকে কাল বিকেলেই ঢাকা থেকে চলে গেছেন সাতক্ষীরায় নিজ বাড়িতে। ৪-৫ দিন ছুটি কাটিয়ে ফিরবেন আবার। এর পর দিনক্ষণ ঠিক হলে আবার ভারতে যাবেন আইপিএল খেলতে। নুরুল হাসানের অভিজ্ঞতা অবশ্য তামিম-মুস্তাফিজের মতো নয়। সাইডলাইনেই কেটেছে তাঁর পুরো টুর্নামেন্ট। ম্যাচ না খেলার হতাশার চেয়ে বাংলাদেশ দলের এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের কাছেও বড় হয়ে উঠেছে না জেতার কষ্ট, ‘সুপার টেনে একটি-দুটি ম্যাচ জিততে পারলে ম্যাচ না খেলার আফসোসটা পুষিয়ে যেত। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে যদি জিততে পারতাম...।’ এই আফসোসটা হয়তো আরও অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে বাংলাদেশকে।

No comments:

Post a Comment