বাংলাদেশ
ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ যখন চুরির উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করা হচ্ছিল, তা
ঠেকানোর কোনো আইনি এখতিয়ার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং
করপোরেশনের (আরসিবিসি) ছিল না। অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের সিনেটে চলা
শুনানিতে আজ মঙ্গলবার এমন দাবি করেছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ। রিজাল ব্যাংকের
জুপিটার মাকাতি শাখার ছয়টি সন্দেহভাজন হিসাবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি
হয়। সিনেট শুনানিতে রিজাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা চাইলেও এই চুরি
ঠেকাতে পারত না। আইন তাদের সে এখতিয়ার দেয়নি। রিজাল ব্যাংকের আইনি বিভাগের
প্রধান মেকেল ফার্নান্দেজ-এস্তাভিলো এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য একটি
নির্বাহী সেশন করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অর্থ স্থানান্তরের পুরো
প্রক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনা করা দরকার। শুনানিতে সিনেটর সার্জি ওসমেনা রিজাল
ব্যাংকের আইনি বিভাগের প্রধান এস্তাভিলোর কাছে জানতে চান, অর্থ চুরি হয়ে
যাচ্ছে—এটা বুঝতে পারার পরও কি অর্থ স্থানান্তর বন্ধ করতে পারত না ব্যাংক?
উত্তরে এস্তাভিলো বলেন, অর্থ স্থানান্তর জব্দ করার অনুরোধ না জানানো হলে এ
ব্যাপারে ব্যাংকের কিছু করার নেই। ব্যাংক শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে
বিষয়টি জানাতে পারে এবং সন্দেহভাজন লেনদেনের বিষয়টি নথিভুক্ত করতে পারে। ওই
অর্থ জব্দ করার কোনো আইনি এখতিয়ার ব্যাংকের নেই। আর আইন অনুযায়ী, চুরি
যাচ্ছে বুঝতে পারার পরও ওই অর্থ নিজেদের কাছে ধরে রাখার কোনো বিধান নেই।
সিনেটর ওসমেনা তখন বলেন, তিনি অন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে
জেনেছেন যে অর্থ চুরি যাচ্ছে, এটা বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই অর্থ
স্থানান্তর একতরফাভাবে বন্ধ করে দিতে পারেন তাঁরা। তখন রিজাল ব্যাংকের
এস্তাভিলো জোরালোভাবে বলেন, ‘না, আমরা বন্ধ করতে পারি না। আইন আমাদের এটা
করার অনুমোদন দেয় না।’ তিনি বলেন, ‘অর্থ জমাদাতার লিখিত সম্মতি পেলে আমরা
গোপন তথ্য ফাঁস করি।’ সিনেটর ওসমেনা তখন জানতে চান, অস্তিত্বই নেই—এমন
জমাদাতা যদি তথ্য জানতে চায়, তাহলে তখনো তারা তথ্য জানান কি না। উত্তরে
এস্তাভিলো বলেন, ‘এ ঘটনার পর তো আমরা আইনের ফাঁকফোকর দেখলাম। আশা করি,
বিষয়টি আপনারাও নজরে আনতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংককে আরও শক্তিশালী
করতে আইনের সংশোধন করতে হবে...এমনকি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কিছু
বিষয়ে কর্তৃত্ব নেই।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment