![]() |
| থেইন সেইন |
মিয়ানমারে
সেনা-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ক্ষমতা ছাড়ার আগমুহূর্তে গতকাল
মঙ্গলবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন রাজ্য থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নিলেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের সঙ্গে ২০১২ সালে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের
সংঘর্ষের ফলে এই রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত
গণমাধ্যমে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন থেইন সেইন। আজ বুধবার
আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির
(এনএলডি) সমর্থিত প্রেসিডেন্ট থিন কিউয়ের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
দুই বছর ধরে রাখাইন রাজ্যে জাতিগত সংঘাত হয়নি। কিন্তু এরপরও মিয়ানমারের
প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা দেশহীন মানুষ হিসেবে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য
হচ্ছে। সরকার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গারা
তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছে। গতকাল জরুরি অবস্থা তুলে
নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দেওয়া অধ্যাদেশে বলা হয়, ‘রাখাইন রাজ্য সরকারের দেওয়া
প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এখানে প্রাণ ও
সম্পদের কোনো ঝুঁকি নেই।’ রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ বরাবরই
অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার। সরকার রোহিঙ্গাদের জাতিগত সংখ্যালঘু
হিসেবে বিবেচনা করে না, বরং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বাঙালি বলে চিহ্নিত করে।
গত বছর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ভোটাধিকারের পাশাপাশি প্রার্থী হওয়ার
সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয় রোহিঙ্গারা। নির্বাচনের আগে রাখাইন রাজ্যে
সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দেয়।

No comments:
Post a Comment