![]() |
| রাহুল গান্ধী, গতকাল আসামে l |
উত্তর-পূর্ব
ভারতের আসামে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারযুদ্ধ জমে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদি দুই দিনে সাতটি জনসভা করে প্রচার তুঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর এবার
টানা ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেসও প্রচারাভিযানে ঝড় তুলতে চাইছে। তবে
নির্বাচন কমিশনের কঠোর বিধিনিষেধ এবং নজরদারিতে এবার চোখ ধাঁধানো
প্রচার-প্রচারণা অনেকটাই কম। কিন্তু বাগ্যুদ্ধে কেউ কারও জন্য সূচ্যগ্র
মেদিনীও ছাড়তে নারাজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা
তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈকে বার্ধক্য থেকে শুরু করে নানা কথায়
কড়া আক্রমণের পর এবার পাল্টা আক্রমণের পালা। বয়স নিয়ে মোদির কটাক্ষের
পাল্টা উত্তর দিয়ে গগৈ গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘উনি কেমন
বয়স্কদের সম্মান দেন সেটা তো আদভানিই বলতে পারবেন। আসলে ম্যানেজ মাস্টার
নরেন্দ্র মোদি অপপ্রচারের মাস্টার!’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘রাজ্যপালকে
সঙ্গে নিয়ে ৩৫ জন বিধায়কসহ আসামেও কংগ্রেস সরকারকে ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত
করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি-সর্বানন্দ সোনোয়াল (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা
নির্বাচনে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী)।’ এরপর আরও এক ধাপ এগিয়ে
আরএসএসের ‘বিপদ’ সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করতে গিয়ে ‘দাঙ্গা’র আশঙ্কা ও বিপদও
তুলে ধরেন তিনি। তরুণ গগৈয়ের পর ৪ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগে কংগ্রেসের
‘যুবরাজ’ রাহুল গান্ধী পাল্টা আক্রমণ করলেন নরেন্দ্র মোদিকে। রাহুলের কথা,
‘দাঙ্গা’ করাই হলো বিজেপির প্রধান অস্ত্র। বললেন, ‘দাঙ্গা করেই ওঁরা
বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে’। তিনি নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা
প্রতিশ্রুতি’র অভিযোগ তোলেন। ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির
অভিযোগ প্রসঙ্গে পাল্টা কটাক্ষ রাহুলের, ‘মোদিজি ক্ষমতায় আসার আগে
কালোটাকা ফেরত আনার কথা বলেছিলেন, কী হলো সেই টাকার!’ গতকাল আসামের ডিফু,
দক্ষিণ করিমগঞ্জ ও সোনাইতে জনসভা করেন রাহুল। তিনটি সভাতেই রাজ্যে
সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটারদের কথা মাথায় রেখে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে
‘সাম্প্রদায়িক’ রাজনীতির অভিযোগকে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী করিমগঞ্জে ভাষণে বারবার আরএসএসের ‘বিপদ’ উঠে
আসে রাহুলের বক্তব্যে। কংগ্রেসই যে ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বড় ভরসা,
সেটা বোঝানোরও চেষ্টা করেন তিনি। কংগ্রেস নির্বাচনী প্রচারণায়
সংখ্যালঘুদের ‘রক্ষাকর্তা’ হয়ে উঠতে চাইছে, এটা টের পেয়েই বদরুদ্দিন আজমলের
সদৌ ভারত সংযুক্ত গণতান্ত্রিক জোটও আক্রমণ করতে শুরু করেছেন তরুণ গগৈকেই। এ
ক্ষেত্রেও লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে তরুণ গগৈয়ের বয়স। ৮২ বছরের প্রবীণ এই কংগ্রেস
নেতা এদিন ভোট প্রচারে নামলে আজমল তাঁকে ‘বুড়ো বাঘ’ বলে কটাক্ষ করেন।
তাঁর অভিযোগ, মুসলমানদের জন্য কিছুই করেননি গগৈ। প্রচার, পাল্টাপ্রচার,
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে জমে উঠেছে আসামের নির্বাচনী যুদ্ধ। নরেন্দ্র মোদির
পর রাহুল গান্ধী সেই প্রচারকে আরও তুঙ্গে নিয়ে গেলেন। আসছেন সোনিয়া
গান্ধী, রাজনাথ সিংসহ অন্যরাও। বরাক উপত্যকার কংগ্রেস নেতা পার্থরঞ্জন
চক্রবর্তীর দাবি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও আসছেন ভোট প্রচারে। জনসভা ও নির্বাচনী
সভায় ঝড় উঠলেও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে ব্যানারসহ প্রচারের উপকরণের ক্ষেত্রে। এ
বিষয়ে অবশ্য কংগ্রেস, বিজেপি এক সুরেই কথা বলছে। সাবেক সাংসদ তথা কংগ্রেস
নেতা কমলেন্দু ভট্টাচার্য বা বিজেপি নেতা দিলীপকুমার পাল সবাই বলছেন,
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির কারণেই এবার প্রচারে অনেকটা ভাটা পড়েছে।
তাই নেতাদের শত চেষ্টাতেও ভোটের উত্তাপ এখনো খুব একটা নজরে আসছে না। অথচ,
মাত্র হাতে গোনা পাঁচ দিন পরই ভোট। তাই মৃদু আশঙ্কার হাওয়াও বইছে আসামে,
ভোটের হার কম হবে না তো!

No comments:
Post a Comment