Saturday, March 19, 2016

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই মুস্তাফিজ?

চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় মুস্তাফিজুর রহমান।
আর তাঁকে পেলে নিশ্চিতই খুশি হবেন অধিনায়ক
মাশরাফি বিন মুর্তজা। মুস্তাফিজের তোলা সেলফি
সেই কথাই তো বলে! কাল বেঙ্গালুরুতেl ছবি: ফেসবুক
মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে একটা হাহাকার পড়ে গিয়েছিল এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই। দারুণ জয়ে সেই হাহাকার একটু চাপা পড়লেও সেটি আবার তীব্র হলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওই পাকিস্তানের কাছেই হারের পর।
সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে মুস্তাফিজ কতটা কী করতে পারতেন তা অবশ্য তর্কসাপেক্ষ। তবে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ওই ম্যাচে খুব করে চেয়েছিলেন তাঁর বোলিং-বিস্ময়কে। শতভাগ ফিট না হওয়ায় বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট মুস্তাফিজকে ইডেনে খেলায়নি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার পর থেকেই বাংলাদেশ দলের আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন মুস্তাফিজ। হিথ স্ট্রিক মনে করেন, ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে মুস্তাফিজ থাকলে ফলটা অন্য রকম হতে পারত। ইডেনে পাকিস্তানের কাছে হয়তো বড় ব্যবধানেও হারতে হতো না। কাল বেঙ্গালুরুতে সেটিই বললেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ, ‘আমাদের জন্য সে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এশিয়া কাপের ফাইনালে তাকে পেলে আমাদের সম্ভাবনা খুব ভালো থাকত। ওই রানে (১২০) আমরা হয়তো ভারতকে আটকাতে পারতাম। পাকিস্তানের বিপক্ষেও ওর সাফল্য আছে। আগের ম্যাচে (ইডেনে) ওকে পেলে দারুণ হতো। কিন্তু পেসাররা চোটে পড়তেই পারে, এতে তো কারও হাত নেই।’
ইডেন-পর্ব পেছনে রেখে মাশরাফিদের চোখ এখন বেঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে। পরশুর এই ম্যাচে খেলার জোর সম্ভাবনা আছে মুস্তাফিজের। কাল চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে অনুশীলনে তেমন অস্বস্তি ছাড়াই বেশ কয়েক ওভার বোলিং করেছেন মুস্তাফিজ। তবে মুস্তাফিজকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা জানাতে চাননি স্ট্রিক, ‘অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের জন্য আমরা তাকে তৈরি করার চেষ্টা করছি। এ মুহূর্তে ওর অবস্থা ভালো। তবে ম্যাচের আগে কিছুই বলতে পারছি না।’
দলের পেস আক্রমণের আরেক ভরসা তাসকিন আহমেদের ওপর দিয়ে গত কয়েকটি দিন বেশ ঝড় গেছে। হঠাৎ তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধর্মশালা থেকে উড়ে গিয়ে চেন্নাইয়ের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা দিয়ে কলকাতা এসে ম্যাচ খেলেছেন। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাজে বোলিংয়ের মধ্যেও যা একটু উজ্জ্বল ছিলেন তাসকিনই (২/৩২)। হারের মধ্যেও এটিকে প্রাপ্তি মনে করছেন বোলিং কোচ, ‘ওই রকম উইকেটেও ভালো ম্যাচ গেছে তাসকিনের। ভালো গতিতে বোলিং করেছে। বোলিং পরীক্ষার জন্য দুই দিন ভ্রমণের পরও দারুণ বোলিং করেছে। উইকেট ন্যাড়া ছিল, আউটফিল্ড ছিল দ্রুতগতির। বোলারদের কাজ কঠিনই ছিল। তবে আমরা আরও ভালো বোলিং করতে পারতাম। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ভালো করার চেষ্টা করব।’
একটি মাত্র আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি হয়েছে বেঙ্গালুরুতে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ভারতের ১৩৩ রান ৫ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। একটি মাত্র ম্যাচ দিয়েই তো আর উইকেটের চরিত্র বোঝা যায় না। আইপিএলে এই মাঠে নিয়মিত রানের বন্যা বইয়ে দেন ক্রিস গেইল। বেঙ্গালুরুতে খেলা ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে ৫৪.৩৭ গড়ে গেইলের রান ১৫৭৭! রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে করা তাঁর অপরাজিত ১৭৫ রান এই মাঠেই।
ব্যাটিং-বান্ধব এমন উইকেট বোলারদের যদি নিরাশ করে, ব্যাটসম্যানদের দেয় আশা! এখন তামিম-সাব্বিররা সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবেন তো? স্ট্রিককে অবশ্য আশাবাদী করছে বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামই। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের কোচ হিসেবে মাঠ ও উইকেট পর্যবেক্ষণের একটু সুযোগ তাঁর হয়েছিল। ব্যর্থ সেই সফরে এই মাঠেই সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন সাব্বির। সীমিত ওভারে বাংলাদেশ দলের অন্যতম ব্যাটিং-ভরসা সাব্বিরের কাছে তাই বড় কিছুই আশা করছেন জিম্বাবুইয়ান বোলিং কোচ, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের ভালো সুযোগ আছে। ভালো ব্যাটিং উইকেট। ‘এ’ দলের হয়ে কয়েকজন এখানে খেলে গেছে। সাব্বির রান পেয়েছিল। আশা করছি, সেই আত্মবিশ্বাসটা কাজে দেবে।’

No comments:

Post a Comment