Thursday, March 31, 2016

সু চির জন্য‘প্রধানমন্ত্রীর মতো’পদ- নতুন পথে যাত্রা শুরু করল মিয়ানমার

মিয়ানমারের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন(ডানে)
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট থিন কিউয়ের হাতে পদমর্যাদার
প্রতীক হিসেবে বিশেষ কাপড়ের ফালি তুলে দিচ্ছেন
মিয়ানমারে নতুন যুগের সূচনা হলো গতকাল বুধবার। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক শাসনের পর একজন বেসামরিক প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় বসলেন। তিনি মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ঘনিষ্ঠ সহযোগী থিন কিউ। সাবেক জেনারেল থেইন সেইনের স্থলাভিষিক্ত হলেন থিন। স্পিকার উ মান ওয়েন খাইং থান গতকালই পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অং সান সু চিকে নিয়োগ করার ঘোষণা দেন। এ ছাড়াও সু চি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন। অং সান সু চি প্রেসিডেন্ট না হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন। এ ছাড়াও সু চির অধীনে থাকছে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, শিক্ষা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় গতকাল শপথ নিয়েই থিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক বাহিনীর তৈরি যে সংবিধান তাঁর নেত্রী সু চিকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, তা তিনি পরিবর্তন করবেন। ওই সংবিধান অনুযায়ী কারও স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান বিদেশি হলে সেই নাগরিক মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। ৭০ বছর বয়সী সু চির স্বামী ও দুই সন্তান ব্রিটিশ নাগরিক। গতকাল রাজধানী নেপিডোর সামরিক বাহিনীর তৈরি পার্লামেন্ট ভবনেই দুই কক্ষের মিলিত অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন থিন কিউ। গত বছরের নভেম্বর মাসে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) বিপুল বিজয়ের পর গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে প্রথম ধাপ শুরু হলো এভাবেই। পার্লামেন্টের বক্তৃতায় থিন ‘মিয়ানমারের মানুষের প্রতি বিশ্বস্ত’ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অং সান সুচি
পার্লামেন্ট ভবনের অধিবেশন শেষে প্রেসিডেন্ট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন থেইন সেইন। হাস্যোজ্জ্বল সু চি তখন সামনেই ছিলেন। থিন তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমাদের নতুন সরকার জাতীয় সংহতি ও শান্তি রক্ষায় কাজ করে যাবে।
মিয়ানমারকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সংবিধানকে ঢেলে সাজানো হবে।’ এদিকে বিবিসি জানায়, মিয়ানমারের নতুন সরকার গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী ধরনের’ ক্ষমতার পদ সৃষ্টির জন্য একটি বিলের খসড়া তৈরি করেছে। ‘রাষ্ট্রের উপদেষ্টা’ নামে নতুন একটি পদ প্রতিষ্ঠা করে তাতে সু চিকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে তিনি সরকারের সব রকমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কার্যত তাঁর পদটি প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য হবে।

No comments:

Post a Comment