![]() |
| সিপিএম নেতা রবীন দেব |
ভারতের
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়ের অন্যতম
বড় অস্ত্র ছিল সিঙ্গুর। কৃষিজমি অধিগ্রহণ-বিতর্ক নিয়ে দেশজুড়ে পরিচিত হয়ে
ওঠা একদা অখ্যাত সেই জনপদকে বামফ্রন্টের পরাজয়ের প্রতীক মনে করা হয়। সেই
সিঙ্গুরে এবার বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী সিপিএম নেতা রবীন দেব। তিনি
প্রথম আলোকে বলেছেন, পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে। ভোটের হাওয়া পরিবর্তনের
দিকে। তিনি বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। কেননা, সিঙ্গুরের মানুষ আজ
বুঝতে পারছে, তারা আর্থিকভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই মানুষ আজ আক্ষেপ
করছে।’ সিঙ্গুর নিয়ে তীব্র আন্দোলনের সময় মমতা জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষকদের
প্রতিশ্রুতি দেন, তৃণমূল ক্ষমতায় গেলে ওই জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু গত পাঁচ বছরে কৃষক জমি ফেরত পাননি। সম্প্রতি মমতা ঘোষণা দেন, এই
জমি ফেরত দেওয়া হবে। তবে তাতে পাঁচ বছরও লাগতে পারে, লাগতে পারে ৫০ বছরও।
মমতার ওই কথা ক্ষোভের সঞ্চার করেছে এলাকায়। আর বিরোধী দল এবার সেটিকেই
অস্ত্র করে মাঠে নেমে পড়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে মমতার বিপুল জয়ের পর
একটা সময় ছিল যখন বামফ্রন্টের নেতারাও সিঙ্গুরে পা দিতে কুণ্ঠাবোধ করতেন।
এখন আর সে অবস্থা নেই। এমনকি রবীন দেব সিঙ্গুরে এবার নির্বাচনের প্রচারের
জন্য প্রথম পা দিয়েছিলেন টাটার সেই ন্যানো গাড়িতে চড়েই। প্রথম আলোকে
রবীন দেব বলেন, ‘মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’ গত নির্বাচনে সিঙ্গুরে
তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্র ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮৬৯ ভোট।
বামফ্রন্টের প্রার্থী অসিত দাস পেয়েছিলেন তাঁর অর্ধেকের কিছু বেশি—মাত্র ৬৬
হাজার। সেই রবীন্দ্র ভট্টাচার্য এবারও তৃণমূলের প্রার্থী। তিনি প্রথম
আলোকে বলেন, এবারও তিনি বিপুল ভোটে জিতবেন। আনন্দবাজার পত্রিকার পক্ষ
থেকে নিয়েলসনের করা এক জরিপে দেখা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ৪৫ শতাংশ ভোট পেতে
পারে। আর নতুন গঠন করা বাম-কংগ্রেস জোট পেতে পারে ৪৪ শতাংশ ভোট। ৫ শতাংশ
ভোট পেতে পারে বিজেপি।

No comments:
Post a Comment