Saturday, March 12, 2016

প্রেমিকের সঙ্গে শিশু চুরির ভয়ঙ্কর প্ল্যান

নিঃসন্তান ধনী ব্যক্তিরা দাবিহীন শিশুর জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে। প্রেমিকের বোঝানো এমন কথায় পতিতাবৃত্তি ছেড়ে শিশুচুরির পেশায় আসে নাসিমা। প্ল্যান অনুসারে প্রেমিককে স্বামী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো তারা। সুযোগের সন্ধানে থাকতো কিভাবে শিশু বাচ্চাদের তুলে নেয়া যায়। একবার নাটোর এলাকায় শিশুচুরি করতে গিয়ে গণধোলাইর শিকারও হয়েছিলেন নাসিমা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তারাব এলাকা থেকে ৫ মাসের শিশু রাইশাকে চুরি করে নাসিমা ও তার প্রেমিক সুমন। রূপগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটক হওয়া শিশুচুরির হোতা নাসিমা আক্তার পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব কথা স্বীকার করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গিয়াসউদ্দিন জানান, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে নাসিমা বেগম রাজশাহী রেললাইন এলাকায় থেকে পতিতাবৃত্তি করতো। এ সময় তার সঙ্গে সখ্য হয় সুমনের। সুমন নাসিমার নিয়মিত খদ্দের হয়ে যায়। এক সময় নাসিমার সঙ্গে শিশুচুরির প্ল্যান করে। এরপর তারা নাটোর এলাকায় চলে আসে। সেখানে এক ভাড়া বাড়িতে মাত্র ৭ দিন থেকেই ১০ মাসের এক শিশুকে চুরির চেষ্টা করে নাসিমা। এ সময় ধরা পড়ে গণধোলাইর শিকার হয় নাসিমা। পরে সুমন সবাইকে বোঝাতে সক্ষম হয় তার স্ত্রী সন্তান মারা যাওয়ায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। এভাবে সে যাত্রায় প্রাণে বাঁচে তারা। এরপর ৩ মাস আগে থেকে উপজেলার তারাব এলাকার বাচ্চু মেম্বারের বাড়িতে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করে তারা। গত মঙ্গলবার প্রথমে সুমন সটকে পড়ে। এরপর নাসিমা পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া রাসেল মিয়া ও রিনা আক্তারের ৫ মাস বয়সের শিশু রাইশাকে চুরি করে নেত্রকোনায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর ক্রেতা খুঁজতে সুমন চলে যায় রাজশাহী। এদিকে নেত্রকোনায় যাবার পর থেকেই শিশুটির অনবরত কান্নায় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা দুর্গাপুর থানায় খবর দেয়। গত বুধবার রাতে দুর্গাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান স্থানীয় পাইকপাড়া গ্রাম থেকে নাসিমা ও তার পিতামাতাকে আটক করে শিশু রাইশাকে উদ্ধার করেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাসিমা চুরির কথা স্বীকার করলে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়। এদিকে ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা রয়েছে নাসিমার সহযোগী সুমন। সুমনের সঠিক কোনো ঠিকানাও নাসিমার জানা নেই বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে। শিশু রাইশার পিতা রাসেল মিয়ার দায়ের করা অপহরণ মামলায় নাসিমাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিউদ্দিনের কাছে নাসিমা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত তা রেকর্ড করে নাসিমাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

No comments:

Post a Comment