Thursday, March 10, 2016

তুলা আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে

বাংলাদেশ–ইন্ডিয়া কটন ফেস্ট ২০১৬ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে
বক্তব্য দেন বিটিএমএর সভাপতি তপন চৌধুরী -প্রথম আলো
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তুলা উৎপাদিত হয় ভারতে। অন্যদিকে বাংলাদেশ তুলা আমদানিতে বিশ্বে শীর্ষে। ছয় বছর আগে বাংলাদেশের চাহিদার ২২ শতাংশ তুলা ভারত থেকে এলেও গত বছর সেটি ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গেল বছর আমদানি করা ৬১ লাখ বেলের মধ্যে ভারতের ছিল ২৯ লাখ বেল তুলা।
তুলায় ভারতের ওপর এই নির্ভরশীলতাকে দুভাবেই দেখছেন বস্ত্রকল মালিক ও তুলা ব্যবসায়ীরা। ইতিবাচক হচ্ছে, ভারত থেকে দ্রুততম সময়ে তুলা পাওয়া যায়। দামে সস্তা। মানও মোটামুটি সন্তোষজনক। নেতিবাচক কারণ, কোনো কারণে ভারত হঠাৎ করে তুলা রপ্তানি নিষিদ্ধ করলে নতুন দেশ খুঁজতে সময় লাগবে। আর সেই সময়টি যদি দীর্ঘ হয়, তবে পোশাক রপ্তানিকারকেরা বিপদে পড়বেন।
প্রথমবারের মতো ঢাকায় এক দিনের বাংলাদেশ-ভারত কটন ফেস্ট হচ্ছে। আগামী শনিবার সকালে র্যাডিসন ব্লু গার্ডেন হোটেলে ফেস্টের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল বুধবার আয়োজনটির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে তুলার আমদানি ও নিরাপত্তা বিষয়ে কথা বলেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ ও বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) নেতারা।
তুলার বিষয়ে ভারতের ওপর বাংলাদেশ অতি নির্ভরশীলতা ঠিক হচ্ছে কি না জানতে চাইলে বিটিএমএর সভাপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী বলেন, কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভর করা অবশ্যই ভালো জিনিস না। কারণ, কোনো কারণে সমস্যা হলে নতুন দেশ খোঁজা সময়ের ব্যাপার। ততক্ষণ কিন্তু ক্রেতা অপেক্ষা করবে না। তবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার বড় কারণ, কম দাম ও দ্রুত পাওয়া যায়।
তপন চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের এমন কেউ নেই যে তুলা কিনে ধরা খাননি। তবে আমার প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসেই কম-বেশি তুলা আমদানি করে। এতে করে খুব বেশি লাভ কিংবা লোকসানের আশঙ্কা কম থাকে।’
বিসিএর সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আইউব মনে করিয়ে দেন, ২০১০ সালে ভারত হঠাৎ করেই তুলা রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। তখন প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ৬০ সেন্ট থেকে বেড়ে ২ ডলার ৬০ সেন্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, বিশ্বে তুলার উৎপাদক, ভোক্তা ও ব্যবসা করে এমন দেশগুলোর সরকারের ‘ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি’ নামে একটি সংগঠন আছে। তারা তুলার ভবিষ্যৎ চাহিদা, জোগান ও দাম নিয়ে গবেষণা করে আগাম তথ্য-উপাত্ত দেয়। বাংলাদেশ এই কমিটির সদস্য হলে তুলা বিষয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কমবে। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কমিটির সদস্য ছিল বলেও জানান তিনি।
বিসিএর সাধারণ সম্পাদক মেহেদী আলী বলেন, ‘আমরা পাঁচ বছর ধরে কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছি। সম্প্রতি শুনেছি, সরকার সদস্য হওয়ার জন্য অর্থ ছাড় করেছে।’
এদিকে বিসিএর সভাপতি বাদশা মিয়া বলেন, ‘আগামী মাসে আমরা আফ্রিকা যাচ্ছি। সেখানকার তুলার মান ভালো। প্রতিযোগিতামূলক দাম ও সময়ের বিষয়টি অনুকূলে থাকলে আফ্রিকা থেকে তুলা আসবে।’
এদিকে কটন ফেস্টের আয়োজনের উদ্দেশ্য হিসেবে তপন চৌধুরী বলেন, ভারত থেকে তুলা আমদানিতে প্রায়ই বিভিন্ন সমস্যা হয়। যেমন মাঝেমধ্যে পূর্বঘোষণা ছাড়াই তুলা রপ্তানি বন্ধ, অনেক ক্ষেত্রে ঘোষিত মূল্যে তুলা না দেওয়া ইত্যাদি। এসব সমস্যা এড়াতেই মূলত আয়োজনটি করা হচ্ছে।
বিসিএ, বিটিএমএ ও ইন্ডিয়ান কটন অ্যাসোসিয়েশন কটন ফেস্টের আয়োজক। এটির পোশাকি নাম কটন ফেস্ট বা তুলা উৎসব হলেও এটি মূলত সম্মেলন। এতে নয়টি অধিবেশনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এতে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) ও দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সহযোগিতায় আছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএর সহসভাপতি ফজলুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমুখ।

No comments:

Post a Comment