ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভামদা গ্রামে টাঙ্গন নদে দুটি খননযন্ত্র
দিয়ে একটি মৎস্য অভয়াশ্রমের ভেতর থেকে এক মাস ধরে বালু তুলছেন স্থানীয় এক
ইটভাটা মালিক। এতে নদটির পাড় তো ধসে গেছেই, গাঞ্জনদহ নামে ওই অভয়াশ্রমও
ভেঙে গেছে। এক মাস ধরে এই বালু উত্তোলনের কাজ চললেও কেউ এর প্রতিবাদ করেনি
এবং যথারীতি প্রশাসনও বিষয়টি উপেক্ষার দৃষ্টিতে দেখে আসছে। প্রথম আলোয়
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, মো. আবু জাহিদ নামে
ওই ইটভাটা মালিক মৎস্য অভয়াশ্রমের ভেতরে দুটি খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তুলে
নদের পূর্ব পাশে তাঁর আমবাগানের জমি ভরাট করছেন। এতে নদের ওই কিনারার প্রায়
২৫ ফুট গর্ত হয়ে অভয়াশ্রমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ এখন মাছের ডিম ছাড়ার
সময়। অভয়াশ্রমের ক্ষতির জন্য স্বাভাবিকভাবেই মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে নদের ও অভয়াশ্রমের ক্ষতির
সাহস তিনি পেলেন কীভাবে? উত্তর হলো নদী প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পানি উন্নয়ন
বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। খননযন্ত্র বসিয়ে
নদ থেকে বালু তোলা বেআইনি। অথচ এভাবে একজন কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে
নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য নদ থেকে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন। কিন্তু কেউ
তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। স্থানীয় লোকজনও অনেকটা নির্বিকার।
টাঙ্গন নদ গাঞ্জনদহ ব্যবস্থাপনা কমিটির (এফএমসি) সাধারণ সম্পাদক নগেন
চন্দ্র রায় অবশ্য বলেছেন, তিনি এফএমসির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে নদ থেকে বালু
তোলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। আমরা মনে করি স্থানীয় প্রশাসনকেও এ
ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। নারায়ণগঞ্জ–সোনারগাঁ এলাকায় নদী ও চরের ক্ষতি
করে বালু তোলা নিয়ে অনেক বিবাদ ও সংবাদ হয়েছে। তারপরও সারা দেশে যার যেমন
ইচ্ছা তেমন করে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করা হয়ে আসছে। কোনো কিছুতেই কি
আমাদের প্রশাসন ও সরকারের রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের হুঁশ ফিরবে না?
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment