Wednesday, April 6, 2016

বাঁশখালীর ঘটনায় দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জেরে গুলিতে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা তিনটি মামলায় পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামিসহ মূল আসামিকে দুই দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গত সোমবার বিকেলে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকা নিয়ে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা কার গুলিতে মারা গেছেন, এটাও বলতে পারছে না পুলিশ। চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বাঁশখালীতে আজ বুধবার হরতাল ডেকেছে ছাত্র ঐক্য ফোরাম। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে এ হরতালের ডাক দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, হরতালে বাঁশখালীতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে। রাস্তায় কোনো পিকেটার দেখা যায়নি। বাঁশখালী উপজেলা গেটের সামনের মুদি দোকানদার মৃদুল ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল করছে। আজকের হরতালের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, খুনিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। হরতালেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানায় অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে বাঁশখালীর গণ্ডামারায় পশ্চিম বড়ঘোনায় দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল স্থানীয় লোকজনের একটি পক্ষ। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে পরিবেশ বিপর্যয় হবে ও বসতভিটা হারানোর শঙ্কা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা বসতভিটা রক্ষায় সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। আবার বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের ভাগ নিয়েও গ্রামবাসীর মধ্যে দুটি পক্ষ তৈরি হয়। সোমবার বিকেলে পাল্টাপাল্টি এক সমাবেশ ডাকা নিয়ে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত হন। বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নে সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এতে তিন হাজারের বেশি লোককে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় অনেকের অভিযোগ, ওই চারজন নিহত হয়েছেন পুলিশের গুলিতে। পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চারজনের শরীরে ছররা গুলির ক্ষত রয়েছে—সুরতহাল প্রতিবেদনে এটা উল্লেখ রয়েছে। এগুলো এলজি বা দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির ক্ষত। পুলিশ এলজি ব্যবহার করে না।

No comments:

Post a Comment