ইন্টারনেট
ব্যবহারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পুরোপুরি তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে
দেশের মুঠোফোন অপারেটররা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে
প্রাক্-বাজেট আলোচনায় গতকাল মঙ্গলবার এ দাবি জানায় অপারেটরদের সংগঠন
অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। সভায়
অ্যামটবের মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির বলেন, সব পর্যায়ের ইন্টারনেট
ব্যবহারের ওপর মূসক প্রত্যাহার করা হোক। ইন্টারনেট ও মডেম ব্যবহারের ওপর
মূসক উঠিয়ে নিলে সাধারণ মানুষের কাছে তা সহজলভ্য হবে। এতে অপারেটরদের আয়
বাড়বে, তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ঘটবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে ইন্টারনেট ও মডেম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে মূসক, ৩ শতাংশ
সম্পূরক শুল্ক ও ১ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়। নতুন সিমকার্ড বিক্রির ওপর কর
সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার আহ্বান জানায় অ্যামটব। বর্তমানে প্রতিটি নতুন সিম বা
রিম বিক্রির ওপর ৩৬ দশমিক ৬৫ টাকা মূসক ও ৬৩ দশমিক ৩৫ টাকা সম্পূরক শুল্ক
দিতে হয়। সভায় মুঠোফোন অপারেটরদের কর হার কমিয়ে অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানায় অ্যামটব। পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত অপারেটরের
ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেওয়া হলে প্রযোজ্য করের ওপর ১০ শতাংশ
হারে কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এমনটি করা হলে নতুন অপারেটররা
পুঁজিবাজারে আসতে উৎসাহিত হবে। টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি
আমদানিতে শূন্য থেকে ৫ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়
অ্যামটব। বর্তমানে মুঠোফোন অপারেটররা এ-সংক্রান্ত উপকরণ বা যন্ত্রপাতির
আমদানিতে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিয়ে থাকে। এ ছাড়া স্ক্র্যাচ
কার্ডের শুল্ক কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। অপারেটরদের উদ্দেশ্যে এনবিআর
চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের কাছে যেসব বকেয়া আছে, সেসব
আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিশোধ করার ব্যবস্থা খুঁজে বের করতে হবে।’ পিআরআইয়ের
বাজেট প্রস্তাব: কম দামের সিগারেট ও বিড়ির ওপর বেশি হারে কর আরোপ করার
প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট
(পিআরআই)। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, ২০১১ থেকে ২০১৬ অর্থবছর সময়ে সিগারেট ও
বিড়ির ওপর কর হার বাড়ানো হলেও কর হারের পার্থক্যের কারণে এসব পণ্যের বিক্রি
বেড়েছে গড়ে ১৯ শতাংশ। পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন,
উচ্চ ও নিম্নমানের সিগারেটের মধ্যে কর হারের বেশি পার্থক্য থাকায় ভোক্তারা
কম দামের সিগারেটের দিকে ঝুঁকছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দিতে মূসক
আইন কার্যকর করার সঙ্গে সঙ্গে সম্পূরক শুল্ক তুলে দেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে
করে পিআরআই। এ ছাড়া সংস্থাটি পণ্য আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক পর্যায়ক্রমে
আগামী তিন বছরে তুলে দেওয়া এবং উৎসে করের পরিধি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment