Wednesday, April 27, 2016

মূসক আইন সংশোধন চায় এফবিসিসিআই

নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইনের বিরোধিতা করে সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। এফবিসিসিআই বলছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনের যথাযথ সংশোধন করা জাতীয় স্বার্থে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় অহেতুক জটিলতা ও অচল অবস্থার উদ্ভব হতে পারে। আগামী অর্থবছরের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) এফবিসিসিআইয়ের চূড়ান্ত বাজেট প্রস্তাবে সংশোধনের এ দাবি জানানো হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এনবিআর ও এফবিসিসিআই যৌথ পরামর্শক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এদিকে মূসক আইনের সংশোধন চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠিও দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। ২৪ এপ্রিল এ চিঠি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে মূসক আইনের বিষয়ে সংশোধন চেয়ে চিঠি দিয়েছে এফবিসিসিআই। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূসক আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ আইন বাস্তবায়ন হলে সব পর্যায়ে ১৫ শতাংশ হারে মূসক দিতে হবে। এফবিসিসিআই চায়, প্যাকেজ মূসক ব্যবস্থা বহাল রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের জন্য রেয়াতী হারে মূসক আরোপ। সংগঠনের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই, অনলাইনে মূসক পরিশোধের বিষয়টি তৃণমূল পর্যায়ে এখনই কার্যকর না হোক। কারণ, তাদের এখনো সেই প্রস্তুতি নেই, প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।’ মাতলুব আহমাদ আরও বলেন, মূসক আইন নিয়ে এনবিআর ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ কমিটির কিছু সুপারিশ পড়ে আছে। সেই সুপারিশগুলো কার্যকর করেই মূসক আইন বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। আরও বাজেট প্রস্তাব: টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায় পর্যায়ে বিদ্যমান প্যাকেজ মূসক ব্যবস্থা ২০২১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে এফবিসিসিআই। এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাব হলো ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪ হাজার টাকার পরিবর্তে ১৮ হাজার টাকা; অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১৪ হাজার টাকা; জেলা শহরের পৌর এলাকায় ৭ হাজার ২০০ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা এবং দেশের অন্য এলাকায় ৩ হাজার ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন খাতওয়ারি সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে মূসক আরোপের বিদ্যমান হারও বহাল রাখার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাবে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা এখন আড়াই লাখ টাকা আছে। এ ছাড়া সারা দেশে সব করদাতার জন্য ন্যূনতম করের পরিমাণ ৩ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকা ভেদে ন্যূনতম করের পরিমাণ ৩-৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ফ্ল্যাট, প্লট, বাণিজ্যিক ভবন ও বিপণিবিতান কেনায় ৫-১০ বছরের জন্য বিনা প্রশ্নে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। বিদ্যমান ১৯বিবিবিবিবি ধারায় ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) রেখে তা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment