দেশি
ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত। সেই
সঙ্গে নতুন নতুন ধারণা, পরিকল্পনা, উদ্যোগসহ সবকিছুর জন্যই দেশের বাজার
খোলা। গতকাল মঙ্গলবার হংকংয়ের রিটজ কার্লটনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত চতুর্থ
বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দি সিটি ব্যাংক ও
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের অর্থায়নে এবং ডিএফডিএল, লংকাবাংলা,
পিডব্লিউসি ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের সহায়তায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা
হয়। অর্থমন্ত্রী সম্মেলনে ‘পরিপ্রেক্ষিত: বাংলাদেশের জন্য রূপকল্প’ শীর্ষক
মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, কার্যকর সামষ্টিক অর্থনীতির
নীতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করেছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৭
শতাংশের লক্ষ্যমাত্রাও এ বছরের শেষ নাগাদ অর্জিত হবে। ১৯৭৫ সালে যে
বাংলাদেশ দরিদ্র ছিল, আজ তা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে বিশ্ব অর্থনীতি যখন নিম্নগামী, তখনো
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঊর্ধ্বগতির ধারা বজায় ছিল। ২০৪১ সালের মধ্যে
বাংলাদেশকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি আমরা। হয়তো
এটা উচ্চাশা, কিন্তু নতুন পরিবেশ ও প্রযুক্তি এ লক্ষ্য অর্জনে সম্ভব হবে
বলে আমাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।’ এ এম এ মুহিত বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের
বাৎসরিক খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ১ কোটি ১১ লাখ টন। আর এখন কৃষিজমি কমে যাওয়া
সত্ত্বেও বাৎসরিক উৎপাদন ৩ কোটি ৮২ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এটা সম্ভব হয়
প্রযুক্তি আর গবেষণার আশীর্বাদে। দেশের শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও
জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি অল্প দিনের মধ্যেই কেটে যাবে বলে উল্লেখ করে
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন,
শিল্পাঞ্চলগুলোয় একধরনের বলয় সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে সরকার। এর আওতায় এসব
এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।
এক অথবা দুই বছরের মধ্যেই এই নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ এবং এখানে শক্তির সঞ্চয়
জরুরি। এখানে কার্বন-ডাই অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ বছরে মাত্র দশমিক ৪
মেট্রিক টন, যেখানে উন্নত দেশে এ গ্যাসের নিঃসরণ ২০ মেট্রিক টন পর্যন্ত হয়ে
থাকে। এ সত্ত্বেও বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তির
ব্যবহার উৎসাহিত করা হচ্ছে। দেশের ৪০ লাখ পরিবারে এখন সৌরশক্তিতে আলো
জ্বলে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক বলেন,
একটা সময় বাংলাদেশ মানেই দুর্যোগের দেশ বলে মনে করা হতো। কিন্তু এখন
পরিস্থিতি বদলেছে। ধারাবাহিকভাবে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপর ধরে রেখে
এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েই এ
পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। দি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা সোহেল আর কে হুসেইন বলেন, বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়টি নানা
আর্থিক সংস্থার রেটিংয়েও প্রতিফলিত হয়েছে। ফিচ, মুডি’স ও অন্যান্য
প্রতিষ্ঠানের মতে, ২০১৭ সাল নাগাদ দেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ৯
শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হবে। তবে বাংলাদেশ সরকার মনে করে, এ প্রবৃদ্ধি ৭
শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। দেশের জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শ্রমশিল্প, কৃষি ও
অন্যান্য সেক্টর বিনিয়োগবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল
পর্যন্ত দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে দেশের বাণিজ্যিক
ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান
অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল, বিল্ডের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, ডিসিসিআইয়ের
সভাপতি হোসেন খালেদ, রহিমআফরোজ গ্রুপের পরিচালক মুদাসসির মঈন,
পিডব্লিউসির বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশিদ, স্ট্যান্ডার্ড
চার্টার্ড ব্যাংকের করপোরেট ব্যাংকিং শাখার প্রধান নেসার এজাজ বিজয়,
বিইপিজেডের নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান,
সিঙ্গার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান গেভিন ওয়াকার ও আইএফসির কান্ট্রি হেড
ওয়েন্ডি জো ওয়ার্নার এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment