![]() |
| এমন বাহারি শটে সাজানো ছিল মরিসের ইনিংসটা |
শেষ
বলে জিততে হলে দরকার ৪ রান। ডোয়াইন ব্রাভোর ব্লকহোলে ফেলা বলটাকে লং অনে
মারলেন ক্রিস মরিস। দৌড়ও দিলেন, কিন্তু ততক্ষণে ভাগ্য লেখা হয়ে গেছে দিল্লি
ডেয়ারডেভিলসের। এই ম্যাচে আর জেতা হচ্ছে না। ওই বলে ২ রান নিতে পেরেছেন
মরিস। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে শেষ পর্যন্ত গুজরাট লায়নসের কাছে ১ রানে হেরে
গেল দিল্লি। এত দূর টেনে এনেও শেষটা রাঙাতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই মাঠ
ছাড়তে হলো মরিসকে। আক্ষেপটা তাঁরই, কারণ ৩২ বলে ৮২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস
খেলে দলকে যে এত দূর তিনিই টেনে এনেছিলেন। আগে ব্যাট করে ব্রেন্ডন
ম্যাককালামের ৩৬ বলে ৬০ রান আর ডোয়াইন স্মিথের ৩০ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে ভর
করে ১৭৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল গুজরাট। কিন্তু তাড়া করতে নেমে ১৬ রানেই ৩
উইকেট চলে গিয়েছিল দিল্লির। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারেও এল মাত্র ২২ রান। এই
ম্যাচ যে দিল্লি জিতছে না, সেটি প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল যখন ১২ ওভার
শেষেও স্কোর ৭২/৪। প্রায় অসম্ভব এই সমীকরণকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিচ্ছিলেন
মরিস! যখন ব্যাট করছিলেন, মনে হচ্ছিল যেন চার-ছক্কার চেয়ে সহজ কাজ পৃথিবীতে
আর কিছু নেই। ১৭ বলেই পেয়ে গেলেন ফিফটি, যা এবারের আইপিএলে দ্রুততম।
ক্রিজের সঙ্গী স্বদেশি জেপি ডুমিনিও বেশ ভালো খেলছিলেন। এই সময়ে ম্যাচটাই
হেলে পড়েছিল দিল্লির দিকে। কিন্তু শেষ কিছু ওভারে পেন্ডুলামের মতো দুলতে
থাকা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত আর পারলেন না মরিস। হলে হয়তো তাঁকে আরও একবার ‘চাক
মরিস’ উপাধি দেওয়া যেত। গত ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে
এমনই হার ‘নিশ্চিত’ হয়ে যাওয়া ম্যাচে ৩৮ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলে জিতিয়ে
দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ওই ম্যাচের পরই তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘চাক
মরিস’। হলিউড সিনেমায় অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ার জন্য বিখ্যাত চরিত্র চাক
নরিসের সঙ্গে নামে আর কাজের ধরনে মিল থাকায় এমন নামকরণ। সেবার পেরেছিলেন,
কিন্তু এবার আর পারলেন না মরিস। আরও একবার এত কাছেও এসেও ক্রিকেট মাঠের
‘চাক নরিস’ হওয়া হলো না তাঁর।

No comments:
Post a Comment