Tuesday, April 12, 2016

আয়কর বিবরণী প্রকাশের পরও চাপে ক্যামেরন

ক্যামেরন
পারিবারিক আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে প্রশ্নের মুখে ব্যক্তিগত আয়করের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করলেও স্বস্তি ফেরেনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের। ২০১০ সালে বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া তিন লাখ পাউন্ড এবং ২০১১ সালে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া দুই লাখ পাউন্ড উপহারের বিশুদ্ধতা প্রমাণে ক্যামেরনের প্রতি চাপ অব্যাহত রয়েছে। দাবি উঠেছে, ক্যামেরন সরকারের সব মন্ত্রীর আয়কর বিবরণী প্রকাশের।  যুক্তরাজ্যের প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্যামেরন গত শনিবার ব্যক্তিগত আয়কর বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করেন। এরপর চ্যান্সেলর (অর্থমন্ত্রী) জর্জ অসবর্নের আয়করের হিসাব প্রকাশের দাবি জোরালো হতে থাকে। পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে শিগগিরই অসবর্ন তাঁর আয়করের হিসাব প্রকাশ করবেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে। পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া কর ফাঁকির চিত্র যুক্তরাজ্যে যে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা দেশটির রাজনীতিবিদদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দল লেবার পার্টিসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে রাজনীতিবিদদের আয়কর বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে। এমন দাবিকে জোরালো করতে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিয়ন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গত রোববার নিজের আয়কর বিবরণী প্রকাশ করেন। তাঁকে অনুসরণ করে স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা কেজিয়া ডাগডেইল এবং স্কটিশ কনজারভেটিভ পার্টির নেতা রুথ ডেভিডসনও একই দিন ব্যক্তিগত আয়কর বিবরণী প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট সাড়া মেলেনি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের পক্ষ থেকে। আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা নানা সমালোচনার মধ্যে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন পার্লামেন্টে এমপিদের মুখোমুখি হন। কর ফাঁকির বিষয়ে চলতি বছরের মধ্যেই নতুন আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্যামেরন বলেন, কর ফাঁকি কিংবা কর এড়িয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করার বিষয়টিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে নতুন আইনে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকির ব্যবস্থা করে দেবে, তারা অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। আগামী মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠেয় অর্থ পাচারবিষয়ক (মানি লন্ডারিং) সম্মেলনে কর ফাঁকির বিষয়ে নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ক্যামেরন আবারও দাবি করেন, তিনি কিংবা তাঁর বাবা আর্থিক বিষয়ে কোনো নিয়ম ভঙ্গ করেননি। তাঁর সরকার কর ফাঁকি রোধে সবচেয়ে বেশি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি ক্যামেরনের। তবে নিয়মের চেয়ে নৈতিকতার প্রশ্নে অনড় সমালোচকেরা। কেননা ক্যামেরনের বাবা ইয়ান ক্যামেরনের প্রতিষ্ঠিত অফশোর ট্রাস্ট ব্লেয়ারমোর হোল্ডিংস প্রায় ৩০ বছর যাবৎ ব্যবসা করলেও কখনো যুক্তরাজ্যে কর পরিশোধ করেনি। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলছেন, ক্যামেরন ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তাঁর অফশোর ট্রাস্টের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন ভালো কথা। কিন্তু কর রেয়াত অঞ্চলে (ট্যাক্স হ্যাভেন) তিনি কী উদ্দেশ্যে অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, সে প্রশ্নের জবাব তাঁকে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ক্যামেরন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন, এমপি ছিলেন। অফশোর ট্রাস্টে বিনিয়োগের বিষয়টি তিনি কেন প্রকাশ করেননি? তা ছাড়া গত শুক্রবার অফশোর ট্রাস্টে বিনিয়োগের বিষয়টি স্বীকার করার আগে প্রধানমন্ত্রী কী কারণে বিষয়টি গোপন করে বারবার বিবৃতি দিয়েছিলেন—সে প্রশ্নও তোলেন করবিন। এসব বিষয়ে পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ড কমিশনারের কাছে প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য তাঁর। লেবার দলীয় শ্যাডো চ্যান্সেলর জন ম্যাকডোনেল বলেন, পানামা পেপারসে যেসব কোম্পানির নাম উঠে এসেছে, তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক কোম্পানির অবস্থান ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ভার্জিন আইল্যান্ডে। বিষয়টিকে তিনি জাতীয় লজ্জার বলে মন্তব্য করেন। অফশোর ট্রাস্টের মালিকদের পরিচয় প্রকাশের বিষয়টি যাতে বাধ্যতামূলক করা না হয়, সে জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে ক্যামেরন দূতিয়ালি (লবিং) করেছিলেন বলেও সমালোচনা করেন ম্যাকেডোনেল। এদিকে আজ যুক্তরাজ্যের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ এইচএমআরসির নির্বাহী প্রধান অ্যাডওয়ার্ড ট্রুপকে নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। অ্যাডওয়ার্ড ট্রুস সরকারি কাজে যুক্ত হওয়ার আগে সায়মন অ্যান্ড সায়মন নামে একটি আইনি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানটি ক্যামেরনের বাবা ইয়ান ক্যামেরনের অফশোর ট্রাস্ট ব্লেয়ারমোর হোল্ডিংসের হয়ে কাজ করত। ফাঁস হওয়া দলিলে সায়মন অ্যান্ড সায়মনের নাম বহুবার উল্লেখ রয়েছে বলে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ১৯৯৯ সালে সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক নিবন্ধে অ্যাডওয়ার্ড ট্রুস কর ফাঁকির বিষয়টিকে সমর্থন করে লিখেছিলেন, কর হচ্ছে ‘আইনসিদ্ধ চাঁদাবাজি’। ক্যামেরন গত শনিবার পানামা পেপারস ফাঁসে উঠে আসা কর ফাঁকি তদন্তে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দিয়ে একটি তদন্ত দল ঘোষণা করেছেন। ওই তদন্ত দলে অ্যাডওয়ার্ড ট্রুসও রয়েছেন।

No comments:

Post a Comment