যুক্তরাষ্ট্রে
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন লড়াইয়ে রিপাবলিকান দলে নাটকীয়তা সৃষ্টি
হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাইমারি নির্বাচনে অনেকখানি এগিয়ে আছেন ডোনাল্ড
ট্রাম্প। সামনের প্রাইমারি বা ককাস নির্বাচনে তার অগ্রযাত্রার লাগাম টেনে
ধরতে এবার জোটবদ্ধ হয়েছেন তারই প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর টেড ক্রুজ ও জন
কাসিচ। তারা দু’জনে মিলে ডোনাল্ড বিরোধী অবস্থান চূড়ান্ত করছেন। এরই মধ্যে
দু’জনে কৌশল নির্ধারণ করেছেন। তার অধীনে অরিগন ও নিউ মেক্সিকোর প্রাইমারি
নির্বাচনে নিজের প্রচারণা চালাবেন না টেড ক্রুজ। এর মধ্য দিয়ে তিনি জন
কাসিচের বিজয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে জন কাসিচ একই কাজ করবেন
ইন্ডিয়ানা রাজ্যে, যাতে সেখানে বিজয়ী হয়ে আসতে পারেন টেড ক্রুজ। তবে
প্রতিদ্বন্দ্বী এ দু’প্রার্থীকে একেবারে বেপরোয়া বলে উল্লেখ করেছেন ডোনাল্ড
ট্রাম্প। তিনি তাদেরকে ‘ম্যাথমেটিক্যালি ডেড’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। দলীয়
মনোনয়ন পেতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রয়োজন কমপক্ষে ১২৩৭টি ডেলিগেট। এখন
পর্যন্ত তিনি পেয়েছেন মোট ৮৪৫টি ডেলিগেট। টেড ক্রুজ পেয়েছেন ৫৫৯টি ও জন
কাসিচ পেয়েছেন ১৪৮টি ডেলিগেট। এমন প্রেক্ষাপটে আগামীকাল হতে যাচ্ছে ৫টি
রাজ্যে নির্বাচন। এগুলো হলো কানেকটিকাট, দেলাওয়ার, মেরিল্যান্ড,
পেনসিলভ্যানিয়া, ও রোড আইল্যান্ড। এর মধ্যে দেলাওয়ার, মেরিল্যান্ড ও
পেনসিলভ্যানিয়াতে রিপাবলিকানদের যে প্রার্থী বিজয়ী হবেন তিনি ওই রাজ্যগুলোর
সব সব ডেলিগেট পাবেন। দেলাওয়ারে রয়েছে এ দলের মোট ১৬টি ডেলিগেট।
মেরিল্যান্ডে রয়েছে ৩৮টি। পেনসিলভ্যানিয়ায় রয়েছে ৭১টি ডেলিগেট। এ ছাড়া
কানেকটিকাটে রয়েছে ২৮টি ডেলিগেট, ও রোড আইল্যান্ডে রয়েছে ১৯টি ডেলিগেট। এ
দুটি রাজ্যের ডেলিগেট ভাগ হবে প্রাপ্ত ভোটের ওপর নির্ভর করে। এখন এ
রাজ্যগুলো ও পরবর্তীতে অন্য রাজ্যে জয় পেতে প্রতিজন প্রার্থীই মরিয়া। তার
মাঝে কৌশল অবলম্বন করেছেন টেড ক্রুজ ও জন কাসিচ। যদি তারা ডোনাল্ড
ট্রাম্পের প্রয়োজনীয় সংখ্যক অর্থাৎ ১২৩৭টি ডেলিগেট অর্জন ঠেকিয়ে দিতে পারেন
তাহলে দলীয় প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে জুলাইতে অনুষ্ঠেয় দলীয়
কনভেনশনে। তাতে দলীয় নেতাকর্মীদের বোঝাপড়ার মাধ্যমে রিপাবলিকান প্রার্থী
হিসেবে উঠে আসতে পারেন তিন জনের যে কেউ। এখন তাই ট্রাম্প ঠেকাও কৌশলে
রয়েছেন টেড ক্রুজ ও জন কাসিচ। টেড ক্রুজের নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ক
ম্যানেজার জেফ রোই বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যদি নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে বাছাই করা হয় তাহলে তা হবে রিপাবলিকান দলের জন্য এক বিপর্যয়।
ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন বা বার্নি স্যান্ডার্সের কাছে বড় ধরনের
পরাজয়ই তিনি স্বীকার করবেন শুধু তা-ই নয়, একই সঙ্গে তাকে মনোনয়ন দিলে দল এক
প্রজন্ম পশ্চাতে চলে যাবে। জন কাসিচের কৌশল নির্ধারণকারী জন ওয়েভার টিম
কাসিচ ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য হলো ক্লিভল্যান্ডে
উন্মুক্ত কনভেনশন। সেখানে দলকে একীভূত করতে পারেন এমন একজন প্রার্থীকে
বাছাই করা হবে, যিনি নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী
হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। উল্লেখ্য, টেড ক্রুজ ও জন কাসিচের মধ্যে এমন
বোঝাপড়া চালানোর জন্য রিপাবলিকান অনেক কৌশলী কয়েক সপ্তাহ ধরে আহ্বান জানিয়ে
আসছেন। এখন দেরিতে হলেও তারা সেই কথায় কান দিয়েছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা
বলছেন, ট্রাম্পকে আটকানোর জন্য তা অনেক দেরি হয়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তো
দলীয় প্রক্রিয়ায় যে মনোনয়ন দেয়া হয় তা ত্রুটিপূর্ণ বলে বার বার বলে আসছেন।
গত সপ্তাহে তিনি রিপাবলিকান দলের নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।
সেখানে তিনি তার ভাবমূর্তি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, টেড
ক্রুজ ও জন কাসিচ যে ইন্ডিয়ানা, অরিগন ও নিউ মেক্সিকো নিয়ে তাদের বোঝাপড়া
সম্পন্ন করেছেন সেখানে প্রাইমারি নির্বাচন যথাক্রমে ৩রা মে, ১৭ই মে ও ৭ই
জুন। কিন্তু তার আগেই আগামীকাল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৫টি রাজ্যে নির্বাচন
হচ্ছে। এ এলাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ জনপ্রিয়। ফলে টেড ক্রুজ ও জন কাসিচের
কৌশলে ধরা পড়ার আগেই মনোনয়নের অনেক কাছে চলে যেতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওদিকে রোববার কানেকটিকাটে নিউ হ্যাভেনে প্রায় ১৪ হাজার সমর্থকের উদ্দেশে
ভাষণ দিয়েছেন ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স। সেখানে তিনি
ফ্রন্টরানার হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে সমালোচনার তীর ছোড়েন। বলেন, হিলারি
ক্লিনটন ওয়াল স্টিটের ওপর রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বক্তব্য দিয়ে অর্থ উপার্জন
করেছেন। উল্লেখ্য, ডেমোক্রেট শিবির থেকে অনেকটা এগিয়ে আছেন হিলারি ক্লিনটন।
তিনি এখন আশা করছেন আগামীকালের ৫টি রাজ্যের ভোটের মাধ্যমে তিনি বার্নি
স্যান্ডার্সের নির্বাচনী প্রচারণায় ভাটা ধরিয়ে দিতে পারবেন। রিপাবলিকানদের
সঙ্গে একই সঙ্গে আগামীকাল ডেমোক্রেটদেরও ভোট হচ্ছে ৫টি রাজ্যে। রাজ্যগুলোও
একই। এর মধ্যে কানেকটিকাটে রয়েছে তাদের ৭০টি ডেলিগেট, দেলাওয়ারে ৩১টি,
মেরিল্যান্ডে ১১৮টি, পেনসিলভ্যানিয়াতে ২১০টি ও রোড আইল্যান্ডে ৩৩টি
ডেলিগেট। এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রাইমারি ও ককাস নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন
পেয়েছেন ১৯৪৮টি ডেলিগেট। বার্নি স্যান্ডার্স পেয়েছেন ১২৪০টি ডেলিগেট।
ডেমোক্রেট দল থেকে মনোনয়ন পেতে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৩৮৩টি ডেলিগেট
পেতে হবে। সেক্ষেত্রে হিলারি ক্লিনটনের প্রয়োজন আর ৪৩৫টি ডেলিগেট। আগামীকাল
যে ৫টি রাজ্যে নির্বাচন সেখানে রয়েছে ৪৬২টি ডেলিগেট। এর মধ্যে তিনি মনোনয়ন
লড়াইয়ে অনেক বেশি ডেলিগেট অর্জন করবেন বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এ ছাড়া ৭ই
জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচন রয়েছে। সেখানে ডেমোক্রেট দলের রয়েছে ৫৪৬টি
ডেলিগেট। ফলে হিলারি ক্লিনটন দলীয় মনোনয়ন লাভের লড়াইয়ে বার্নি
স্যান্ডার্সকে পরাজিত করতে পারবেন বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment