Thursday, April 28, 2016

লক্ষ্যের খুব কাছে হিলারি ও ট্রাম্প

হিলারি ও ট্রাম্প
আগাম জনমত জরিপে যেমনটা বলা হয়েছিল, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটন তা সত্য প্রমাণ করে বড় ধরনের জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। ট্রাম্প পাঁচটি রাজ্যেই জয় পেয়েছেন, হিলারি জিতেছেন চারটিতে। হিলারির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স শুধু রোড আইল্যান্ডে সম্মানজনক ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিজয়ীর তালিকায় নিজের নামটি যোগ করতে পেরেছেন। যে বিপুল ব্যবধানে ট্রাম্প পাঁচ রাজ্যেই জয়ী হয়েছেন, তা আগের সব হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছে। এর মধ্যে রোড আইল্যান্ডে তিনি পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ ভোট। আর সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ম্যারিল্যান্ডে। অবশিষ্ট যে তিন রাজ্য পেনসিলভানিয়া, ডেলাওয়্যার ও কানেটিকাট—এগুলোতে তাঁর প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ যথাক্রমে ৫৭, ৬১ ও ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে, হিলারি ক্লিনটনের প্রাপ্ত ভোট ডেলাওয়্যার ও ম্যারিল্যান্ডে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। পেনসিলভানিয়া ও কানেটিকাটে তিনি ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ৫৬ ও ৫১ শতাংশ করে। রোড আইল্যান্ডে ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বার্নি স্যান্ডার্স শুধু হিলারির জয়রথে বাগড়া দিতে পেরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যগুলোর জনসংখ্যাগত চরিত্রের কারণে ট্রাম্প ও হিলারির পক্ষে এমন বিজয় অর্জন সম্ভবপর হয়েছে। মূলত, নগর ও শিল্পপ্রধান এই রাজ্যগুলোতে শ্বেতকায় রিপাবলিকান ভোটাররা তুলনামূলকভাবে কম রক্ষণশীল হলেও তাঁদের অব্যাহত অর্থনৈতিক সংকটের জন্য তাঁরা একদিকে যেমন ওবামা প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ, তেমনি ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান রাজনীতিকদের ওপরও। ‘বহিরাগত’ ট্রাম্প তাঁর এস্টাবলিশমেন্ট-বিরোধী বক্তব্যের কারণে এঁদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পেরেছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী টেড ক্রুজ অতি রক্ষণশীল হওয়ায় এখানে কোনো সমর্থন-ভিত গড়ে তুলতে পারেননি। তৃতীয় প্রার্থী গভর্নর জন কেইসিক মধ্যপন্থী হওয়া সত্ত্বেও রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। বেশিসংখ্যক ডেলিগেট সংগ্রহ বাছাইপর্বের এই নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পেতে হলে চাই সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৩৭ জন ডেলিগেটের সমর্থন। অধিকাংশ রাজনৈতিক ভাষ্যকারই একমত—এক সপ্তাহ আগে নিউইয়র্কে এবং মঙ্গলবার এই পাঁচ রাজ্যে চমৎকার ফল লাভের সুবাদে ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত নিজের জন্য সে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পেরেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী ইন্ডিয়ানা ও ক্যালিফোর্নিয়ায়, যেখানে ট্রাম্প জনমত গণনায় এগিয়ে, প্রাইমারি ভোটযুদ্ধে জিততে পারলে তিনি নির্ধারিত ডেলিগেটের সংখ্যা সুনিশ্চিতভাবেই পেরিয়ে যাবেন। নিউ জার্সি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতেও ট্রাম্প জরিপে এগিয়ে। আরও সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। প্রাইমারি ভোটে বিজয়ের সুবাদে তিনি ইতিমধ্যে স্যান্ডার্সের চেয়ে তিন শর বেশি ডেলিগেটে এগিয়ে আছেন। এর বাইরে হিলারির রয়েছে আরও ৫১৯ জন ‘সুপার ডেলিগেট’। এসব দলীয় কর্মকর্তা ও নির্বাচিত প্রতিনিধির মাত্র ৪২ জন স্যান্ডার্সের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ২ হাজার ৩৮৩ জন ডেলিগেটের যে সমর্থন প্রয়োজন, এই দুই ধরনের ডেলিগেটের সংখ্যা যোগ করলে গাণিতিক হিসাবমতে স্যান্ডার্সের পক্ষে তা অর্জন অসম্ভব। এই সত্যটি স্যান্ডার্স নিজেও বুঝতে পারছেন। গত মঙ্গলবারের নির্বাচনী ফলাফলের পর এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির নির্বাচনী এজেন্ডা কী হবে—আমেরিকার জনগণ সে ব্যাপারে নিজেদের মতামত দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে। তাঁর এ কথা থেকে স্পষ্ট, আগামী জুলাই মাসে দলের কনভেনশনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার কোনো আশা যে নেই, সেটা তিনি মেনেই নিয়েছেন। কিন্তু কনভেনশনে দলের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে যদি তিনি কোনো ভূমিকা রাখতে চান, তাহলে যত বেশিসংখ্যক ডেলিগেট নিয়ে তিনি কনভেনশনে যাবেন, ভূমিকা রাখা তাঁর জন্য তত সহজ হবে। মঙ্গলবারের এই নির্বাচনের পর এখন কার্যত পরিষ্কার—আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে হিলারি ও ট্রাম্প-ই তাঁদের দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সর্বশেষ ডেলিগেট গণনা
রিপাবলিকান প্রার্থী: ডোনাল্ড ট্রাম্প (৯৪৯), টেড ক্রুজ (৫৪৪) ও জন কেইসিক (১৫৩)।
ডেমোক্রেটিক প্রার্থী (সুপার ডেলিগেটসহ) : হিলারি ক্লিনটন (২১৫৯), বার্নি স্যান্ডার্স (১৩৭০)

No comments:

Post a Comment