Wednesday, April 6, 2016

নয় মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ২ হাজার ৪৯৫ কোটি ৫১ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে। দেশি মুদ্রায় যা ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪০ কোটি টাকার সমান। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ (ইপিবি) গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৪৪৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি হয়েছে প্রকৃত রপ্তানি আয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ২৮৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছিল। ওই মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এদিকে গত মার্চ মাসে ২৮৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের মার্চের ২৫৯ কোটি ডলারের চেয়ে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। তার মানে মাসওয়ারি রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হিসাবে মার্চে পৌনে ৪ শতাংশ কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে অর্জিত ২ হাজার ৪৯৫ ডলারের পণ্য রপ্তানি আয়ের মধ্যে শুধু তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ। খাতটির রপ্তানি আয় ২ হাজার ৪৪ কোটি ডলার। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের ১ হাজার ৮৬২ কোটি ডলারের চেয়ে ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে পোশাক খাতের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯৯৬ কোটি ডলার। পোশাক খাতের ২ হাজার ৪৪ কোটি ডলারের রপ্তানি আয়ের মধ্যে ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ১ হাজার ৭৬ কোটি ডলার। আর নিট পোশাকের অবদান ৯৬৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। ওভেন পোশাকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৬৪ এবং নিটে ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০২১ সালে পোশাক রপ্তানি হবে ৫ হাজার কোটি ডলার। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে প্রতিবছর গড়ে ১১-১২ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি থাকতে হবে। তাই বর্তমানে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছেম সেটি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি।’ বিজিএমইএর সহসভাপতি আরও বলেন, নতুন গ্যাস-সংযোগ না পাওয়ায় অনেক কারখানা উৎপাদন শুরু করতে পারছে না। গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি ও সংযোগ স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেও পাচ্ছে না অনেকে। তিনি বলেন, প্রায় ২০০ কারখানা গ্যাসের জন্য বসে আছে। কারখানাগুলো চালু হলে ১২০ কোটি ডলার পোশাক রপ্তানি বেশি হতো। এদিকে, পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প, বিশেষায়িত বস্ত্র, প্রকৌশল পণ্য ও আসবাব রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি আছে। তবে পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, কৃষিজাত ও প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ইপিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ৮৫ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের ৮২ কোটি ডলারের চেয়ে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছর ১২১ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা আছে। গত অর্থবছর আয় হয়েছিল ১১৩ কোটি ডলার। পাট ও পাটজাত পণ্যে রপ্তানি করে চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ৬৪ কোটি ডলার আয় হয়েছে। গত অর্থবছর একই সময়ে হয়েছিল ৬৫ কোটি। তার মানে এবার রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৭২ শতাংশ। এ ছাড়া হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫৫ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক, ৬ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি আয় ৪২ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের নয় মাসে হিমায়িত মাছ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে চিংড়ি রপ্তানির আয় ৩৫ কোটি ডলার। এ ছাড়া প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। বাইসাইকেল থেকে এসেছে ৭ কোটি ২৬ লাখ ডলার। আর আসবাব রপ্তানি করে আনা গেছে ৩ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছর ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইপিবি। লক্ষ্যমাত্রাটি অর্জন করতে হলে চলতি এপ্রিল এবং আগামী মে ও জুন মাসে ৮৫৪ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি আয় করতে হবে। গত অর্থবছর দেশের পণ্য রপ্তানি আয় ছিল ৩ হাজার ১২০ কোটি ডলার।

No comments:

Post a Comment