Thursday, April 7, 2016

এবার ইনফান্তিনোর নাম!

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি নাড়িয়ে দিয়েছে সারা বিশ্বকে। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ফুটবলার, অভিনেতা—কত রকম রাঘববোয়ালের নাম যে বেরিয়ে আসছে ফাঁস হয়ে যাওয়া নথিপত্র থেকে। তাঁদের মধ্যে হঠাৎ করেই শোনা যাচ্ছে ফিফার নতুন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নামটাও! দুর্নীতির অভিযোগ আছে—উয়েফার এমন একটি চুক্তিতে ইনফান্তিনোর সই পাওয়া গেছে। যদিও ইনফান্তিনো স্পষ্টভাবেই কোনো ধরনের অনৈতিক চুক্তিতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। আবার এসব অভিযোগের আদৌ কোনো ভিত্তি আছে কি না, তা নিয়েও চলছে বিতর্ক। তবে এরই মধ্যে কাল সুইজারল্যান্ডের পুলিশ তল্লাশি করেছে উয়েফার সদর দপ্তরে। তদন্তের স্বার্থে চুক্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে গেছে তারা। গত সোমবার মোসাক ফনসেকা নামে পানামার একটি আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ফাঁস হওয়া ১ কোটি ১০ লাখের বেশি নথি গোটা বিশ্বকেই কাঁপিয়ে দিয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাসহ ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়। ফিফা প্রেসিডেন্টের নামটা অবশ্য অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। যে চুক্তিপত্রে ইনফান্তিনোর সই নিয়ে এত আলোচনা, সেটি ২০০৬-০৭ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের টেলিভিশন প্রচারস্বত্ব নিয়ে। ওই সময় উয়েফার মহাসচিব ছিলেন ইনফান্তিনো। ওই মৌসুমে ইকুয়েডরে টুর্নামেন্টটির টেলিভিশন প্রচারস্বত্ব পায় ক্রস ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যেটির মালিক হুগো জিনকিস ও মারিয়ানো জিনকিস নামের দুই ব্যবসায়ী। ক্রস ট্রেডিং প্রচারস্বত্ব পায় ১৪ লাখ ডলারে, যেটি তারা পরে টেলিঅ্যামাজোনাস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয় ৪৪ লাখ ডলারে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ফিফার যে কয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে নামে, তাঁদের সঙ্গে হুগো ও মেরিনাও জিনকিসের নামও উঠে আসে। উয়েফার সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠান ক্রস ট্রেডিংয়ের ওই সময়ের চুক্তিটি নিয়েও তাই সন্দেহ দানা বাঁধে। এখন পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, ওই চুক্তিতে সই করেছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। স্বভাবতই সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন তুলেছে, যে প্রচারস্বত্ব পরে ক্রস ট্রেডিং এত বেশি দামে বিক্রি করতে পেরেছে, সেটি কেন অনেক কম মূল্যে উয়েফা ক্রস ট্রেডিংকে দিয়েছিল! এ খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরই এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফিফার নতুন সভাপতি ইনফান্তিনো। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আমি আগেই বলেছি, আমি নিজে কখনো ক্রস ট্রেডিংয়ের সঙ্গে সরাসরি কোনো চুক্তি করিনি। এসব ব্যাপার দেখাশোনা করে উয়েফার বিপণন বিভাগ।’ এই চুক্তির ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি হয়নি বলেই দাবি ইনফান্তিনোর, ‘যেসব খবর এসেছে, সেখানে আমার বা উয়েফার পক্ষ থেকে কোনো দুর্নীতি হয়েছে বলে কোনো প্রমাণ নেই।’ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এর সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে বলে মনে করেন ইনফান্তিনো। এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে উয়েফাও। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, উন্মুক্ত টেন্ডার-প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমেই সর্বোচ্চ নিলাম ডাকে টিভি স্বত্ব বিক্রি করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে পুরো ব্যাপারটার ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে উয়েফা।

No comments:

Post a Comment