Thursday, April 7, 2016

বিসিবি সভাপতির কাছে এক পক্ষ

জাতীয় দল ৮ গোল খেয়েছে জর্ডানের কাছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৮ ম্যাচে রেকর্ড ৩২ গোল হজমের লজ্জা ছুঁয়ে গেছে ফুটবলকে। কিন্তু ফুটবলের পতন ঠেকানোর কার্যকর এবং দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। সবাই ব্যস্ত ফেডারেশনের নির্বাচন নিয়ে। কদিন আগেই স্থানীয় একটি হোটেলে ‘ফুটবল বাঁচাও’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলন করেছিল কাজী সালাহউদ্দিন বিরোধী পক্ষ। সেদিন শেখ জামাল ধানমন্ডির সভাপতি মনজুর কাদেরকে বাফুফের সভাপতি পদে নির্বাচন করার অনুরোধ করেছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু। তবে মনজুর কাদের ওই পদে নির্বাচন করবেন কি না, নিশ্চিত নয়। সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনের জন্য তাই বিকল্প সভাপতি প্রার্থীর খোঁজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে কাল এই পক্ষের কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসানের (পাপন) কাছে। কিন্তু নাজমুল হাসান কেন? এই প্রশ্নে জাকারিয়া পিন্টু বলছেন, ‘পাপন সাহেব হকির সমস্যা সমাধান করেছেন। ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হিসেবে আমরা তাঁর কাছে গিয়েছি।’ তা নাজমুল হাসানকে কী বলেছেন এই পক্ষের কর্মকর্তারা? ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে। পাপন সাহেবকে আমরা অনুরোধ করেছি, তিনি যেন প্রধানমন্ত্রীকে বলেন সালাহউদ্দিন আট বছরে ফুটবলের এক বিন্দু উন্নতি করতে পারেননি। ফুটবল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফেডারেশনে দেদার দুর্নীতি চলছে। এবার বদল দরকার। নতুন কাউকে চাই। শুধু সালাহউদ্দিন নয়, পুরো কমিটিরই বদল চাই’—বলেছেন জাকারিয়া পিন্টু। আসলে নাজমুল হাসানকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় দেখতে চাইছে এই পক্ষ। তাঁর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা, যাতে প্রধানমন্ত্রী ফুটবলে পরিবর্তনের দাবির ব্যাপারে নজর দেন। কারণ, সালাউদ্দিনবিরোধী পক্ষের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ফুটবলের বর্তমান ধস আর কেউ ঠেকাতে পারবেন না। নাজমুল হাসান তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবিটা পৌঁছে দেবেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফুটবল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। সেই খেলাটা পিছিয়ে যাক, এটা কেউ চাইবেন না। ওনারা কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেননি। ওনারা ফুটবলের ভালো চান, ফুটবল বাঁচাতে চান।’ নাজমুল হাসান যোগ করেন, ‘ওনাদের বলেছি, আপনাদের ঘাবড়ানোর কিছু নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলা ভালোবাসেন। ওনার বাবা ফুটবল খেলতেন, দাদাও বড় খেলোয়াড় ছিলেন। কাজেই উনি ফুটবল ধ্বংস হতে দেবেন না, এটা আমার দৃঢ়বিশ্বাস।’ ৩০ এপ্রিল ফেডারেশনের নির্বাচন সামনে রেখেই এই তোড়জোড়। কাজী সালাউিদ্দন তৃতীয়বারের মতো সভাপতি প্রার্থী হবেন। প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়লেও পরেরবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বৈতরণি পেরিয়েছেন। তবে এবার সালাউদ্দিনকে খালি মাঠ ছাড়তে নারাজ তাঁর বিরোধী পক্ষ। সেই পক্ষে যোগ হয়েছেন মনজুর কাদের। তাঁর সঙ্গী মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। জাকারিয়া পিন্টু তো আগেই ছিলেন। একগুচ্ছ সাবেক ফুটবলার ও সংগঠক আছেন এই দিকে। সাবেক ফুটবলার ও কোচ গোলাম সারোয়ার টিপু, নওশেরুজ্জামান, শামসুল আলম মঞ্জু, আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু, শেখ মোহাম্মদ আসলাম, আবদুল গাফফার, খন্দকার ওয়াসিম, শফিকুল ইসলাম মানিক, কায়সার হামিদ, সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালি সাব্বিরসহ আরও অনেকেই কাল গুলশানে নাজমুল হাসানের বাসায় গিয়েছিলেন।

No comments:

Post a Comment