Tuesday, April 19, 2016

ক্রিকেট কীভাবে ভুলবে আজকের দিনটিকে!

৩৭৫ রানের ইনিংসটি খেলার পথে ব্রায়ান লারা
১৮ এপ্রিল—ক্যালেন্ডারের সাধারণ একটা তারিখ। কিন্তু এই তারিখের কাছে ক্রিকেটের ঋণ যে অনেক। ক্রিকেট মাঠে এই তারিখে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা তারিখটিকে আলাদা একটা স্থানই দিচ্ছে ক্রিকেট ইতিহাসে। ক্রিকেট ইতিহাসের মনোযোগী পাঠকদের কাছে ১৮ এপ্রিল, বিশেষ রঙে দাগ কেটে রাখা একটা দিন...
ব্রায়ান লারার ৩৭৫
ব্রায়ান লারা টেস্ট ক্রিকেটে ৩৭৫ রানের ব্যক্তিগত ইনিংসটি খেলেছিলেন ১৮ এপ্রিল। ১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যান্টিগা টেস্টে গ্যারি সোবার্সের ৩৬৫ রানের ইনিংসটিকে পেরিয়ে যাওয়ার এই দিনটি যেকোনো বিচারেই অবিস্মরণীয়। লারার ৩৭৫ রানের সেই ইনিংসটি এরপর দীর্ঘদিনই টিকে ছিল টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড হিসেবে। অ্যান্টিগাতে সেদিন বয়ে গিয়েছিল আনন্দের বন্যা। ক্রিস লুইসের বলে স্কয়ার লেগে ঠেলে সোবার্সের রেকর্ডটি ভেঙে
ম্যালকম মার্শালের জন্মদিন আজ
ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই লারাকে অভিনন্দন জানাতে মাঠেই ছুটে গিয়েছিল দর্শক। সোবার্স নিজেও সেদিন মাঠে উপস্থিত থেকে লারাকে অভিনন্দিত করেছিলেন তাঁর অনন্য কীর্তিতে। ৩৭৫ রানের এই ইনিংসের ছয় সপ্তাহ পরেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন লারা। টেস্টের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড ম্যাথু হেইডেন ভেঙে দেওয়ার ছয় মাসের মাথায় লারা আবার খেলেছিলেন ৪০০ রানের ইনিংস।
ম্যালকম মার্শালের জন্মদিন
ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বর্ণযুগ তো তৈরিই হয়েছিল ম্যালকম মার্শালদের মতো ক্রিকেটারদের কল্যাণে। ফাস্ট বোলারের শরীর বলতে যা বোঝায়, মার্শাল ঠিক তেমনটি ছিলেন না। ছোটখাটো গড়নের হলেও তাঁর বলের গতি ছিল ভয়ংকর। বিশেষ করে তাঁর দুই দিকে সুইং করানোর ক্ষমতা আর সাপের ছোবলের মতো বাউন্সার তাঁকে পরিণত করেছিল দারুণ এক ফাস্ট বোলারে। যেকোনো মরা উইকেটে, যেখানে ফাস্ট বোলাররা গতির ঝড় তুলতে হিমশিম খেতেন, সেখানেও মার্শাল তুলতে পারতেন গতির ঝড়, কখনো মায়াবী কাটার। ১৯৯৯ সালে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এই মার্শাল যখন পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, তখন তাঁর বয়স মাত্র ৪১! ৮১ ম্যাচে ৩৭৬ টেস্ট উইকেট নেওয়া মার্শাল ইতিহাসের সেরা ফাস্ট বোলারদের একজন হিসেবে মনে রাখবে।
মিয়াঁদাদের সেই ছক্কা
চেতন শর্মাকে ছক্কা মারার আগ মুহূর্তে জাভেদ মিয়াঁদাদ
১৯৮৬ সালে শারজা কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানকে এক অবিস্মরণীয় জয় উপহার দিয়েছিলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ। ম্যাচের শেষ বলে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল ৪ রান। বোলিংয়ে ছিলেন চেতন শর্মা। চেতনের সেই বলটিকে সীমানার বাইরে সরাসরি আছড়ে ফেলে মিয়াঁদাদ হয়ে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় বীর। কেবল শেষ বলে সেই ছক্কাই নয়, পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান সেদিন ১১৪ বলে ১১৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাবর্তন
বর্ণবৈষম্যের কারণে ২১ বছর নির্বাসনে কাটিয়ে ১৯৯২ সালের ১৮ এপ্রিল টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। বার্বাডোজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই টেস্ট ম্যাচটি ছিল প্রোটিয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে অশ্বেতাঙ্গ কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার পুনঃপ্রত্যাবর্তনটা অবশ্য হয়েছিল এর কিছুদিন
আইপিএলের শুরু
ক্রিকেটের নতুন এক দিগন্তের সূচনাটাও হয়েছিল এই দিনে। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বার্বাডোজে
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাবর্তন টেস্ট
কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচের মধ্য দিয়ে এদিনই মাঠে গড়িয়েছিল আইপিএলের প্রথম আসর। বেঙ্গালুরুতে সেদিন কলকাতার হয়ে ঝড় তুলেছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ৭৩ বলে ১৫৮ রানের ঝড় তুলে।
ভারতের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা হলেও এই আইপিএল অন্য রকম আলোড়ন তুলেই আবির্ভূত হয়েছিল ক্রিকেট দুনিয়ায়। এর আগে ২০০৮ সালেই ভারতের একটি শিল্পগোষ্ঠী ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল) নামের একটি প্রতিযোগিতা শুরু করে ঝড় তুলেছিল। টাকার হাতছানি দিয়ে তাঁরা টেনে নিয়েছিল বেশ কয়েকটি টেস্ট খেলুড়ে দেশেরই নামীদামি তারকাদের। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে থেকে আয়োজিত আইসিএলের দাপট অবশ্য বেশি দিন থাকেনি। বিসিসিআইয়ের সে সময়কার বড় কর্তা লোলিত মোদী পরে আইপিএল নামের সোনার ডিম পাড়া এই হাঁসটি নিয়ে আসেন।
ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ‘তাণ্ডব’ দিয়েই
২০০৮ সালে শুরু হয়েছিল আইপিএল
আগেই—১৯৯১ সালের নভেম্বরে তিন ওয়ানডের সিরিজ খেলতে ক্লাইভ রাইসের নেতৃত্বে ভারত সফর করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা দল। সে সফরের পর ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো সুযোগ পায় বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলারও।

No comments:

Post a Comment