Thursday, April 28, 2016

নিরাপত্তার ঘাটতি হলে বিনিয়োগ আসবে না

এফআইসিসিআইয়ের মধ্যাহ্ন ভোজসভায় (বাঁ থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয়) ইউরোপীয়
ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু ও সংগঠনটির সভাপতি রূপালী চৌধুরী
বেছে বেছে বিদেশি ও বিশিষ্ট নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তার ঘাটতি হলে বিদেশি উদ্যোক্তারা এ দেশে বিনিয়োগ করতে আসবেন কেন। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল বুধবার আয়োজিত ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) মাসিক মধ্যাহ্ন ভোজসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফআইসিসিআইয়ের সভাপতি রূপালী চৌধুরী। কূটনীতিক ও দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে পিয়েরে মায়াদু বলেন, সুশাসন ও জবাবদিহি না থাকলে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা কঠিন। তাঁরা এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ইউরোপের বাণিজ্য পরিস্থিতি তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, ২০১৫ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে আর আমদানি করেছে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার (জিএসপি) আওতায় শুল্কমুক্তভাবে পণ্য রপ্তানি করতে পারছে। তবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলে এ সুবিধা আর পাবে না। তখন ‘জিএসপি প্লাস’ সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে নতুন করে আবেদন করতে হবে। তবে বাংলাদেশের পক্ষে এ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি একরকম নিশ্চিত। রপ্তানি এলাকা ও পণ্যে বৈচিত্র্য আনার তাগিদ দিয়ে মায়াদু বলেন, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে। আবার পোশাকের ৬১ শতাংশ রপ্তানি হয় ইউরোপে। তিনি বলেন, এ দেশের রপ্তানি খাত শুধু পোশাকনির্ভর হওয়া উচিত নয়। ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী মে মাসে বাংলাদেশ-ইইউ ব্যবসা পরিবেশ সংলাপ হবে বলে জানিয়ে মায়াদু বলেন, ওই সংলাপে বাংলাদেশের সুশাসন, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে।

No comments:

Post a Comment