Monday, April 18, 2016

বাবুবাজারে দুর্ভোগ নিত্যদিন ইচ্ছাকৃত যানজট

পুরান ঢাকার বাবুবাজারের মিটফোর্ড হাসপাতালের
সামনে যানজট নিত্যদিনের। ছবিটি গতকাল সকালের
নয়াবাজার ছাড়িয়ে বাবুবাজার দ্বিতীয় সেতুর নিচের রাস্তায় ঢোকা যাচ্ছে না। রিকশা আর অটোরিকশার চেয়ে কাভার্ড ভ্যান বেশি। জট কিছুটা খুলতেই চলতে শুরু করল যানবাহন। অতি ধীরগতি। একটু গিয়ে আবার থেমে গেল। এভাবে সেখানেই কেটে গেল আধা ঘণ্টা। এই যানজট গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকের। বাবুবাজার থেকে একদিকে ইসলামপুর, অন্যদিকে মিটফোর্ড রোড—দুই দিকই যানবাহনে ঠাসা। বরাবর গেলে চালের আড়ত পেরিয়ে বুড়িগঙ্গার ধার। সে পথেও চলা দায়। এলাকার দোকানিরা বলেন, তিন দিনের ছুটির পর গতকাল রোববার ছিল কর্মদিবসের শুরু। কিন্তু এ জন্য যে এই যানজট তা নয়। এটা ইচ্ছাকৃত এবং নিত্যদিনের। নিয়ম অনুযায়ী দিনের বেলায় তো বটেই, রাত নয়টার আগে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ ভারী যানবাহন ঢাকা শহরে চলাচল করতে পারে না। কিন্তু গতকালও বাবুবাজার ও আশপাশের ব্যস্ত এলাকায় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান অবাধে চলতে দেখা যায়। এলাকাবাসীর মতে, এখানে যানজটের প্রধান কারণ হচ্ছে দিনের বেলায় ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের যাতায়াত। চালের আড়তের রাস্তার শুরুতে পুরো স্থবির হয়ে আছে যানবাহন। এগিয়ে গিয়ে দেখা গেল, একটি ট্রাক থেকে চালের বস্তা নামানো হচ্ছে। সময় যাচ্ছে, পেছনে রিকশার সারি লম্বা হচ্ছে। যতক্ষণ না বস্তা নামানোর কাজ শেষ হলো, যানবাহন আটকাই রইল। বিষয়টি দেখবেন, এমন কাউকে দেখা গেল না। খানিক পরে মিটফোর্ডের মুখেও আটকা পড়ল এক কাভার্ড ভ্যান। ভেতরে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ মিটফোর্ডে ওষুধের দোকানগুলোর সামনে, ইমামগঞ্জের মুখেও কাভার্ড ভ্যানের সারি। এগুলোর জন্য অন্য যানবাহনও আটকা পড়ে আছে। বাবুবাজার মোড়ে ছোট্ট হালকা খাবারের দোকান। সেখানে এক ক্রেতা রশিদুল হাই বিরক্তি প্রকাশ করছিলেন, দিনের বেলায় ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ে। অপর এক ক্রেতা, একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী নূর হোসেন বললেন, ব্যাংকের কাজে পাটুয়াটুলী যাওয়ার জন্য রিকশায় উঠেছিলেন, কিন্তু কিছুটা গিয়ে আর এগোনো সম্ভব হয়নি। অগত্যা রিকশা ছেড়ে দিয়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছেন। তিনি বললেন, সন্ধ্যায় ছুটির পর এসব রাস্তায় হেঁটে চলাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। রীতিমতো সামনের পথচারীকে ঠেলে ঠেলে চলতে হয়। দিনের পর দিন এ অবস্থা চলছে। সেতুর পশ্চিম দিকে মিটফোর্ডে ঢোকার রাস্তার ডানপাশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনাসহ অন্যান্য যানবাহন। ফলে রাস্তায় সহজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যানজট বাড়ছে। ইসলামপুর যাওয়ার প্রবেশপথেই তাজ মেডিসিন মার্কেট। বিপরীত দিকে খান মেডিসিন মার্কেট। দুটোরই সামনে এলোমেলোভাবে রাখা রিকশা-ভ্যান। রাস্তার ধারে দোকান সাজিয়ে বসেছে হকারও। সব মিলিয়ে যানজট বাধছে প্রতিদিনই। জানতে চাইলে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের একজন সদস্য বললেন, হকার উচ্ছেদের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান যেগুলো চলে, সেগুলো ভারী নয়। চালের আড়তের সামনে ট্রাকটির বিষয় উল্লেখ করলে বলেন, ওই সময়ে তিনি অন্য এলাকায় ছিলেন।

No comments:

Post a Comment