এ
বোধ হয় একমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষেই সম্ভব। পুরো ক্রিকেট-বিশ্ব যেখানে
আচ্ছন্ন হয়ে আছে ক্যালিপসো আর কার্লোস ব্রাফেটের ৪ ছক্কায়, সেখানে
ক্যারিবীয় ক্রিকেটে চলছে চাপান-উতোর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ও
বোর্ড-খেলোয়াড় দ্বন্দ্ব ঘোচাতে পারেনি। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জেরবার
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট। ফাইনালে জয়ের পরই ‘চ্যাম্পিয়ন’ নাচে মেতে ওঠে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। কিন্তু একটু দম নিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের
সমালোচনা শুরু করেন স্যামি, ‘অনেক ইস্যু নিয়েই আমরা এই যাত্রা শুরু করেছি।
মানুষ তো ভাবতেই শুরু করে দিল, আমরা এই টুর্নামেন্ট খেলব কি না। আমাদের
বোর্ডই অসম্মান দেখিয়েছে, এসবই আমাদের একটা দল হয়ে খেলতে সহযোগিতা করেছে।’
স্যামির এমন কথাবার্তায় সেদিন চমকে উঠেছিল ক্রিকেট-বিশ্ব। তারপরই ওয়েস্ট
ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড স্যামির পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে। স্যামির এমন
বক্তব্যকে ‘অপ্রাসঙ্গিক, অপমানজনক ও দুঃখজনক’ বলেছে বোর্ড। পরশু ওয়েস্ট
ইন্ডিজ বোর্ডের সহসভাপতি ইমানুয়েল নান্থান এক রেডিও সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ
প্রকাশ করেন, ‘এত চমৎকার একটি সাফল্যকে এসব আজেবাজে মন্তব্য দিয়ে কলুষিত
করা, ক্যারিবীয় অঞ্চলের মানুষকে অপমান করা খুবই দুঃখজনক। যেকোনো উপায়ে
বোর্ডকে অকার্যকর প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে।’ বোর্ড-খেলোয়াড় দ্বন্দ্বের
শুরু বিশ্বকাপকে ঘিরে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আইসিসি থেকে প্রাপ্য
ম্যাচ ফির পরিমাণ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ায় দুই পক্ষ। খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির
পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ায় বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল দল আসবে কি না সেই
প্রশ্নও উঠে যায়। কিন্তু নান্থানের কথায় খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধা উল্টো
বাড়িয়েছে বোর্ড, ‘খেলোয়াড়েরা বিশ্বকাপের ফি নিয়ে অভিযোগ করেছে, তাদের ২০
হাজার ডলার কম দেওয়া হবে। কিন্তু তারা এটা বলল না, স্থানীয় প্রতিযোগিতার
জন্য তাঁদের বেতন ৭৫ থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার বাড়ানো হয়েছে। বিশ্বকাপ তো
দুই-চার বছরে একটা হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রতিযোগিতা তো প্রতিবছর হচ্ছে। তারা
২০ হাজার ডলার কমের কথা বলল, দেড় থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার বাড়তি পাওয়ার
কথা বলে না।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বোর্ডের ওপর ক্ষোভ থাকলেও দলের
ম্যানেজার রল লুইসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন স্যামিরা। একমাত্র লুইসের
চেষ্টাতেই নাকি জার্সি পরে মাঠে নামতে পেরেছেন তাঁরা! কিন্তু নান্থান সেই
দাবিও উড়িয়ে দিয়েছেন, ‘জার্সি তৈরিই ছিল, কিন্তু কারা খেলবে এ নিয়ে শেষ
পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থাকায় জার্সিতে নম্বর বসানো যায়নি। একবার খেলোয়াড়দের
ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর কলকাতা থেকে জার্সি নিতে বলা হয়েছে।’ বোর্ডের
অভিযোগের তির স্যামিদের দিকে যাবে এটি জানাই ছিল। কারণ, বোর্ডের বিরুদ্ধে
স্যামির সঙ্গী প্রতিদিন বাড়ছে। প্রথমে ডোয়াইন ব্রাভো স্যামির সুরে সুর
মিলিয়েছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড হচ্ছে সবচেয়ে অপেশাদার বোর্ড।
পরশু তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ক্রিস গেইলও। নিজের ইনস্টাগ্রামে জানালেন,
‘দুবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির প্রতি আমার
পূর্ণ সমর্থন আছে। বোর্ড সম্পর্কে তার বক্তব্য আমি শতভাগ সমর্থন করি। কারণ,
সেটি সঠিক। ভাগ্য ভালো, প্রাইজমানিটা পাচ্ছি। কারণ, বোর্ড আমাদের যে ম্যাচ
ফি দিচ্ছে তা হাস্যকর। আমি আমার ম্যাচ ফি দান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছি।’ এমন দ্বন্দ্ব থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছেন প্রধান
নির্বাচক ক্লাইভ লয়েড। দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে
বলেছেন, ‘বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট
সবারই উচিত নিজেদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি করা।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment