Sunday, April 17, 2016

মেলার নামে অবৈধ র‍্যাফল ড্র

রিকশা, ইজিবাইক ও অটোরিকশা নিয়ে মাইকিং করে র‍্যাফল ড্রয়ের
টিকিট বিক্রি করা হয়। টিকিট বিক্রির জন্য প্রস্তুত রিকশা।
গতকাল লাকসাম স্টেডিয়াম এলাকা থেকে তোলা ছবি
কুমিল্লার লাকসামে শিল্প ও বাণিজ্য মেলার নামে চলছে টিকিট বিক্রির ব্যবসা। প্রতিদিন অন্তত ২০ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়েই র্যা ফল ড্রয়ের নামে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ ফরচুন ট্রেড ফেয়ার অর্গানাইজেশন নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। মেলায় জুতা, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিকের সামগ্রীসহ প্রায় ৮০টি স্টল রয়েছে। মেলার উদ্বোধনী দিন থেকে র্যা ফল ড্র শুরু হয়। এতে প্রতিটি টিকিটের দাম ২০ টাকা রাখা হয়। প্রতিদিন সকাল নয়টায় লাকসাম স্টেডিয়াম থেকে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা কুমিল্লার লাকসাম, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, সদর দক্ষিণ ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টিকিট বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। প্রতিটি অটোরিকশায় থাকা ব্যক্তির কাছে এক হাজার টিকিট দেওয়া হয়। এতে টিকিটের একটি অংশ ফেলার জন্য চালের ছোট আকৃতির ড্রামও রাখা হয়। প্রতিদিন ২০ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মাইক বাজিয়ে ওই টিকিট বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন রাত ১০টা ১ মিনিটে র্যা ফল ড্র হয়। ওই ড্র সরাসরি স্থানীয় কেব্ল অপারেটরের মাধ্যমে টেলিভিশনে দেখানো হয়। এতে ৭১টি পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতিদিনের টিকিটের জন্য আলাদা মনোগ্রাম-সংবলিত টিকিট ছাপা হয়। গতকাল শনিবারের টিকিটের মনোগ্রাম ছিল পানির ফিল্টার। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ওই মেলা চলবে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় লাকসাম স্টেডিয়ামে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, মাইক, ড্রাম ও টিকিট নিয়ে একে একে বেরিয়ে যাচ্ছে ইজিবাইক ও অটোরিকশা। এর মধ্যে ৭৬ নম্বর ড্রাম নিয়ে বের হচ্ছেন আবদুল্লাহ আল নোমান ও শফিকুল ইসলাম। তাঁরা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রতিদিন মাইক বাজিয়ে টিকিট বিক্রি করি। র্যা ফল ড্র শুরু হওয়ার আগে চলে আসি।’ গত ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের রাতে প্রথম পুরস্কার দেওয়া হয় প্রাইভেট কার। ১৫ এপ্রিলের প্রথম পুরস্কার ছিল চার ভরি স্বর্ণ। এ ছাড়া অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে ছিল দুই ভরি স্বর্ণ, এক ভরি স্বর্ণ, ৩০টি স্বর্ণের চেইন ও ৩৮টি কানের দুল। গতকাল শনিবার পুরস্কার ছিল ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল, ১৫০ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল ও ৮০ সিসি দুরন্ত মোটরসাইকেলসহ ৭১টি পুরস্কার। লাকসাম বাইপাস এলাকার অন্তত পাঁচজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিল্প ও বাণিজ্য মেলার নামে জুয়া হচ্ছে। র্যা ফল ড্র নাম দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন মাইকের তীব্র শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। টিকিট বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা তুললেও মাত্র পাঁচ থেকে আট লাখ টাকার পুরস্কার দেওয়া হয়। শিল্প ও বাণিজ্য মেলার ড্র পরিচালনাকারী ও মেলার অন্যতম সমন্বয়ক মো. কাজী সাব্বির বলেন, ‘প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করেই র্যা ফল ড্র হচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়ে ওই র্যা ফল ড্র পরিচালিত হচ্ছে।’ তবে এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, ‘মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। র্যা ফল ড্রয়ের জন্য কোনো ধরনের টিকিট বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শর্ত ভঙ্গ করে মেলা করলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।’

No comments:

Post a Comment