![]() |
| ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার এই রেলগেটটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রেন আসা–যাওয়ার সময় দোকানিরা চিৎকার করে সতর্ক করেন পথচারীদের |
কুড়িল
বিশ্বরোড রেলগেট। ট্রেন আসছে। হঠাৎ কেউ একজন চিৎকার করলেন, ‘ট্রেন
আইতেছে, ট্রেন আইতেছে...আপনারা সইরা আসেন।’ কিছু লোক তা শুনে রেললাইন থেকে
নিরাপদ দূরত্বে চলে এলেন। ট্রেন চলে গেল। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব
পাশে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় রেলগেটে ট্রেন আসা-যাওয়া সময়ের সতর্কবার্তাটা
এমনই। বিষয়টি নিয়ে রেলগেট পুলিশ বক্সের কয়েকজন পুলিশ সার্জেন্ট ও স্থানীয়
লোকজন জানান, রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের জন্য আপাতত বন্ধ আছে। শুধু
পথচারীরা চলাচল করেন। দিন-রাতে যাতবার ট্রেন যাওয়া-আসা করে, ততবারই এখানকার
দোকানিরা সাধারণ পথচারীদের সতর্ক করে দেন। তা সত্ত্বেও প্রায়ই ছোট-বড়
দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এখানে কোনো
গেটম্যান, লেভেল ক্রসিং, সংকেতবাতি ও ঘণ্টা—কিছুই নেই। ফলে ট্রেন কখন আসছে ও
যাচ্ছে, তা বোঝা মুশকিল। চায়ের দোকানি বাবুল হোসেন বলেন, ‘এ বছর এখানে
ট্রেনে কাটা পড়ে তিন-চারজন মারা গেছেন। লোকে মোবাইল কানে ধরে কথা বলতে
বলতে চলার সময় ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খায়।’ সরেজমিনে দেখ যায়, বিশ্বরোড
রেলগেটের কিছু দূরে শেওড়া রেলগেটে একটি সংকেতবাতি আছে। যেটা দেখে
বিশ্বরোড রেলগেটের লোকজন ট্রেনের অবস্থান সম্পর্কে জানেন। রেলগেটের দুই
পাশে আছে দুটি পাকা ঘর, বাইরের দেয়ালে লেখা—ই/এ-২৩। এর একটি পরিত্যক্ত,
সেখানে কিছু উদ্বাস্তুর বসবাস। অন্যটির অবস্থা ভালো হলেও দায়িত্বরত কাউকে
পাওয়া যায়নি। বিশ্বরোড পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত ঢাকা মহানগর পুলিশ ট্রাফিক
উত্তর বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সার্জেন্ট প্রথম আলোকে বলেন,
‘প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এখানে রেললাইন পারাপার কঠোরভাবে বন্ধ করতে
হবে। প্রয়োজনে আন্ডারপাস কিংবা ওভারপাস করে দিতে হবে। তা ছাড়া রেললাইনের
ওপর দিয়ে সাধারণের চলাচল থামবে না।’ জানা গেছে, কুড়িল বিশ্বরোড উড়ালসড়ক
চালুর পর থেকে রেলগেটটি এমন অরক্ষিত অবস্থায় আছে। আগে এই জায়গা দিয়ে
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সঙ্গে কুড়িল প্রগতি সরণির সংযোগ ছিল। তা এখন
বন্ধ। মহাসড়ক ও রেলগেটের মধ্যে লোহার বেড়া দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করা
হয়েছে। তারপরও যাতায়াতের সুবিধার্থে শিক্ষার্থী, কর্মজীবীসহ সব ধরনের লোকই
রেললাইনের ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে
চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের সংকেত ও
টেলিযোগাযোগ বিভাগের এক প্রকৌশলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঠিক বলতে পারছি
না, গেটটা আছে কি নেই। আমি খোঁজ নেব। গেট না থাকলে রেললাইন পারাপারের
সম্পূর্ণ ঝুঁকি চলাচলকারীর। ওখানে ট্রেনের অবস্থান জানার সংকেতবাতি ও
ঘণ্টার পদ্ধতি থাকলে তা কার্যকর করা হবে।’

No comments:
Post a Comment