Wednesday, April 27, 2016

দুই বছরেও গ্রেপ্তার হয়নি ১২ আসামি

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ ২৭ এপ্রিল। রোমহর্ষক সেই ঘটনায় অভিযুক্ত ৩৫ আসামির মধ্যে ১২ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এঁদের মধ্যে আটজনই র‍্যাবের সাবেক সদস্য। এ ঘটনায় দুই মামলায় কারাগারে আটক ২৩ আসামির উপস্থিতিতে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং সাক্ষীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, আসামিদের লোকজনের প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকির মধ্যে আছেন তাঁরা। ২০১৪ সালের এই দিন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা ফেরার পথে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধু সিরাজুল ইসলাম, নজরুলের সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম ও স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীরও অপহৃত হন। এ ঘটনা দেখে ফেলায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর চালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় ছয়জনের লাশ। পরদিন সিরাজুলের লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ফতুল্লা মডেল থানায় নূর হোসেনসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল আরেকটি মামলা করেন। দুটি মামলায় ১১ মাস তদন্ত শেষে তদন্তকারী সংস্থা নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। খুনের পরপর পলাতক নূর হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সাংসদ শামীম ওসমানের টেলিফোনে কথোপকথনের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে র‌্যাব-১১ তৎকালীন ব্যাটালিয়ন কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম এম রানাকে নিজ নিজ বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনার ১৭ মাস পর প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘দুটি মামলায় ১২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে। মামলার কার্যক্রম যে গতিতে চলছে, আশা করছি চলতি বছরের মধ্যে একটি ভালো ফলাফল দেওয়া যাবে।’ দুটি মামলারই অগ্রগতি হলেও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের আতঙ্ক কাটেনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিহত নজরুল ইসলামের মিজমিজির বুকস গার্ডেনে গেলে তাঁর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘সাক্ষীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ভাই, দেবর, ননদের ছেলেসহ যারা এ মামলার সাক্ষী, তাদের নামেও নূর হোসেনের আত্মীয়রা সাতটি মামলা দিয়েছে।’ নিহত তাজুলের বাবা আবুল খায়ের বলেন, ‘নূর হোসেনের আত্মীয়রা আমার, ছেলে রাজু ও ভাই আবু তাহেরের নামে তিনটি মামলা দিয়েছে। সন্তান হারালাম আমরা, অথচ তারাই আবার আমাদের নামে মিথ্যে মামলা দায়ের করেছে। তাদের খুঁটির জোর কোথায়?’ এসব পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদউদ্দিন বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-স্বজন এবং মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সজাগ রয়েছে। তবে তারা কোনো হুমকির বিষয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

No comments:

Post a Comment