Wednesday, April 27, 2016

কেন্দুয়ায় নির্বাচনী বিরোধে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের। নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় গত সোমবার রাতে জয়ী ও পরাজিত দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সারা দেশে নির্বাচনী সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অর্ধশত লোকের প্রাণহানি ঘটল। এ ছাড়া চার জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত হয়েছেন প্রায় ৮০ জন। গত সোমবার রাতে ও গতকাল মঙ্গলবার এসব সংঘর্ষের সময় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ঢাকার বাইরে প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: নেত্রকোনা: কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের পুবাইলচন্দলাড়া গ্রামে নিহত স্কুলছাত্রের নাম ইকবাল খান (১৫)। পুবাইলচন্দলাড়া গ্রামের সন্তোষ খানের ছেলে ইকবাল উপজেলার বিদ্যাবল্লভ রওশন ইয়াজদানী একাডেমির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ইকবালের ফুফাতো ভাই সামছুদ্দু খান প্রথম আলোকে বলেন, গড়াডোবা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে বিজয়ী রুকুন মিয়ার পক্ষে কাজ করেন হাসিমউদ্দিন মোড়ল। পরাজিত প্রার্থী সজীদ খাঁর পক্ষে ছিলেন ইকবালের বাবা সন্তোষ খান। এ নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিরোধ ছিল। সোমবার গরুতে খেতের ধান খাওয়া নিয়ে সন্তোষ ও হাসিমউদ্দিনের পরিবারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। রাতে হাসিমউদ্দিন বিজয়ী রুকুন মিয়ার লোকজন নিয়ে সন্তোষের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বল্লমের আঘাতে ইকবাল গুরুতর আহত হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে নয়টার দিকে সে মারা যায়। এ ছাড়া হামলায় তার চাচা এবাদত খান (৫০) ও চাচাতো ভাই দুলাল আহত হন। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিরঞ্জন দেব বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রাম্য বিরোধসহ দুই সদস্য প্রার্থীর নির্বাচনী বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও: পীরগঞ্জ উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি মনোনীত ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকেরা গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন ও তাঁর সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালান। এতে কমপক্ষে ৩৮ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা পরাজিত চেয়ারম্যানের বাড়িতে ঢুকে ঘরের আসবাব ভাঙচুর করেছেন। পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের পাড়াবাজিতপুর গ্রামে ইউপি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত সদস্য মো. নবী মিয়া ও তাঁর সমর্থকেরা ১০টি সংখ্যালঘু বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাব ও দুটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছেন গত সোমবার বিকেলে। নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, হামলার খবর পাওয়ার পরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার গ্রাম পুলিশের সদস্যরা পাহারা দিচ্ছেন। এদিকে উপজেলার জারুইতলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে বিজয়ী দিন ইসলাম ও পরাজিত প্রার্থী মো. আলীর সমর্থকদের মধ্যে সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। শেরপুর: ঝিনাইগাতী উপজেলায় সদর ইউনিয়ন ও নলকুড়া ইউনিয়নে সোমবার রাতে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর নৌকা প্রতীক পুড়িয়ে ও ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

No comments:

Post a Comment